হারতালের কারণে সৈয়দপুরে আলুর দরপতন
আমিরুজ্জামান , সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৩, ২১:৩৫
নীলফামারী জেলার সৈয়দপুরে মজুদ আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক। হিমাগারের ভাড়া চড়া ও স্থান সংকুলান না হওয়ায় বেশি লাভের আশায় কৃষকরা বাড়িতেই আলু মজুদ করে। এতে প্রচণ্ড গরমে বাড়িতে সংরক্ষিত আলু পচনের পাশাপাশি শুকিয়ে যাওয়ায় ওজনেও অনেক ঘাটতি হচ্ছে। ফলে লোকসান হলেও বাধ্য হয়ে পানির দামে মজুদ করা আলু বিক্রি করছেন। জানা যায়, প্রতিবছর এখানকার কৃষকরা ধান, পাট, গম প্রভৃতি ফসল আবাদ করে বীজ, জ্বালানি, কীটনাশক ও বাড়তি মজুরি দিয়ে দামের কারণে লোকসানের বোঝা বাড়তে থাকে। তারা বিকল্প ফসল হিসাবে আলু, সরিষা, ভুট্টা ও শাক-সবজি আবাদে ঝুঁকে পড়ে। ফলে বিস্তীর্ণ জমিতে গ্রানুলা, কার্ডিনাল, রোজেটা, ইস্টিকসহ বিভিন্ন জাতের আলুর আবাদ করেন। হিমাগারগুলো আকস্মিকভাবে এবারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া বাড়ায় অনেক কৃষক বেশি লাভের আশায় বাড়িতে আলু মজুদ করেন। বর্তমান আলুর বাজার ও প্রচণ্ড গরমের কারণে মজুদ আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক। কৃষকদের ধারণা ছিল, লাভ না হলেও আলুতে লোকসান হবে না। অনেক কৃষক বাকিতেও আলু বিক্রি করছেন বলে জানা গেছে। তবে আলুর এই মূল্য পতনের জন্য দেশের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ও ঘন ঘন হরতালকে দায়ি করছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে চাহিদার তুলনায় আমদানী বেশি হওয়ায় দিন দিন আলুর দাম কমতে থাকে। এছাড়া বর্তমানে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পাশাপাশি ঘন ঘন হরতালের কারণে তারা আলু দেশের বিভিন্ন পাইকারি একদিকে যেমন সময়মতো পৌঁছাতে পারছেন না, অন্যদিকে হরতালের কারণে ব্যাংকিং লেনদেন বন্ধ থাকায় মহাজনরাও চাহিদামতো টাকা সরবরাহ করতে পারছে না।