সিরিয়ার বিদ্রোহীদের সামরিক সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে রাসায়ানিক অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ তুলে দেশটির বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে সিরিয়ায় বিরোধীদের ওপর থেকে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। এদিকে, জাতিসংঘ জানিয়েছে, সিরিয়ায় চলমান সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৯৩ হাজারে পৌঁছেছে এবং শিশুদেরকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহীদের সামরিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী রাসায়ানিক অস্ত্র ব্যবহারে ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে এমন অভিযোগ তোলার পরপরই হোয়াইট হাউস এই সিদ্ধান্ত জানালো। উপজাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস বৃহস্পতিবার বলেছেন, প্রেসিডেন্ট বিরোধীদের আরো বেশি সহায়তা দেয়ার একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যার মধ্যে সামরিক সহায়তাও রয়েছেন। তবে ওবামা প্রশাসন ‘পরবর্তী পদক্ষেপের’ নেয়ার কথা বললেও এ সর্ম্পকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। এর আগে বুধবার যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ায় বিরোধীদের ওপর থেকে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। দেশটির ‘মুক্ত এলাকায়’ অবস্থানরত বেসামরিক লোকদের মাঝে জরুরি সাহায্য সরবরাহের লক্ষ্যে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর ফলে সিরিয়ায় বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে সফটওয়্যার, কারিগরি, নির্মাণ সামগ্রী ও বিদ্যুত্ উত্পাদন সরঞ্জামের পাশাপাশি কৃষিজাত পণ্য ও খাদ্য প্রস্তুতকারী সরঞ্জাম সরবরাহ করা যাবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সরবরাহকারীরা সিরিয়ার বিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে পৃথকভাবে রপ্তানির ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করতে পারবে। এর আগে কোম্পানিগুলো সিরিয়ার বিরোধীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে খাবার ও ওষুধ সরবরাহ করতে পারলেও অন্য পণ্যসামগ্রী সরবরাহের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ছিল। সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের তৃতীয় বছরে চলমান সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা ৯৩ হাজারে পৌঁছেছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে জাতিসংঘ মানবাধিকার কার্যালয়। এর আগে মে মাসের মাঝামাঝিতে প্রকাশিত জাতিসংঘ পরিসংখ্যানে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৮০ হাজার উল্লেখ করা হয়েছিল। এছাড়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে নিহত হাজার হাজার শিশুও নিহত হয়েছে বলে জাতিসংঘ জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সিরিয়ায় শিশুরা নিহত হওয়াসহ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। সরকারি বাহিনী ও বিদ্রোহী যোদ্ধা উভয় পক্ষই শিশুদেরকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে।