জীব-বৈচিত্র্য বিলুপ্তির পথে অরক্ষিত ইনানীর কাঠ সম্পদ

কক্সবাজারের দ্বিতীয় বৃহত্তম পর্যটন স্পট ইনানী প্রকল্পের আওতাধীন প্রস্তাবিত জাতীয় উদ্যানের কাঠ সম্পদ লুটপাট ও পাচারের মহোত্সব চলছে। পাশাপাশি পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি চলছে নির্বিচারে। এতে বনের সুন্দর, জীব-বৈচিত্র্য বিলুপ্তির পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পর্যটন শিল্পের চরম ক্ষতির আশংকা করছেন পরিবেশবাদী মহল। জানা গেছে, এ উপজেলার সোনারপাড়া থেকে সুদূর মনখালী পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত জুড়ে ইনানীকে এক্সক্লুসিভ ট্যুরিস্ট জোনের আওতায় এনে পর্যটন শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে সরকার ২০০৫ সালে একটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্প হাতে নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন ইনানী বনরেঞ্জের আওতায় প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বনভূমির উন্নয়ন ও জীব-বৈচিত্র্যের লালন-পালন, সংরক্ষণ, উন্নয়ন ত্বরান্বিত করে এ বনাঞ্চলকে অভয়ারণ্য হিসাবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। বেসরকারি সংস্থা আরণ্যক ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে ইনানী বনরেঞ্জ ও এনজিও শেডের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ইনানীতে জাতীয় উদ্যান গড়ে তোলার কাজ শুরু হয়। আরণ্যক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, ইনানীর বনাঞ্চলে নার্সারী শিল্পের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রজাতির নতুন বাগান সৃজন, বনাঞ্চলের গাছ-গাছালি ও জীব-বৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য বনবিভাগকে এককভাবে দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়। অথচ সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের বিরুদ্ধে প্রদত্ত অর্থের টাকা লুটপাটে ব্যস্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ইনানী বনরক্ষা সহায়ক কমিটির মনখালী ওয়ার্ডের সভাপতি নুরুল আবছার জানান, বনরক্ষা কমিটির সদস্যদের সাথে সংশ্লিষ্টদের কোন সমন্বয় না থাকার কারণে রক্ষিত বনাঞ্চলের কার্যক্রম দায়সারা ও বনাঞ্চলের মূল্যবান কাঠ সম্পদ নির্বিচারে পাচার হয়ে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক ইনানী বনরেঞ্জ কর্মকর্তা সুনীল কুমার দেব রায় প্রকল্পের তদারকিসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষা, কাঠ ও পাহাড় কেটে মাটি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করে প্রত্যক্ষ-প্ররোক্ষভাবে তাদেরকে পাচার কাজে সহায়তা করে যাচ্ছে। রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বনরেঞ্জের। ইনানী বনরেঞ্জ কর্মকর্তা সুনীল কুমার দেব রায় জানান, লোকবল সংকটের কারণে বিশাল বনসমৃদ্ধ এলাকার কাঠ সম্পদ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তথাপিও সংশ্লিষ্ট কাঠ চোর ও পাহাড় কর্তনকারীদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা করা হচ্ছে।