ভুঞাপুরে পরীক্ষার ফিস দিতে না পারায় ছাত্রীর আত্মহত্যা
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৩, ২১:৩৯
নাম আকলিমা খাতুন (১৩)। স্থানীয় এমপি ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি খন্দকার আসাদুজ্জামান ও তার সহধর্মিণীর নামে ভূঞাপুরে প্রতিষ্ঠা করেন কুলসুম জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ওই স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী আকলিমা। ৯ জুন থেকে শুরু হওয়া স্কুলের অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষায় তাকে সাময়িকভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয় কর্তৃপ্ক্ষ। দারিদ্র্যে কারণে যথারীতি স্কুলের ৮৫০ টাকা পরীক্ষার ফি ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য পাওনা পরীক্ষার দিন পরিশোধ না করতে পারায় অভিমান করে বৃহস্পতিবার রাতে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে। আকলিমা উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের বেলটিয়া পাড়া গ্রামের দিনমজুর নুরু শেখের কন্যা। ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবু ওবায়েদ জানান, উপজেলার রায়ের বাসালিয়ার স্থানীয় এমপির খন্দকার আসাদুজ্জামানের কুলসুম জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৭ম শ্রেণীতে পড়াশোনা করতো আকলিমা খাতুন। চলমান অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষার জন্য তার ফি ও বিদ্যালয়ের অন্যান্য পাওনা বাবদ ৮৫০ টাকা বকেয়া হয়। দরিদ্র পরিবারের সন্তান হওয়ায় টাকা পরিশোধ করতে না পারায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গত ৯ জুন থেকে শুরু হওয়া অর্ধ-বার্ষিকী পরীক্ষায় সাময়িকভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয় আকলিমাকে। যথারীতি বৃহস্পতিবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে গেলে শিক্ষকরা টাকার জন্য চাপ দেয় তাকে। শনিবার বিদ্যালয়ের সমস্ত পাওনা পরিশোধ করতে না পারলে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে না বলে শিক্ষকরা সাফ জানিয়ে দেন। এতে সে অপমানিত হয়ে বৃহস্পতিবার পরীক্ষা শেষ করে বাড়িতে গিয়ে তার বাবার কাছে স্কুলের পাওনা বাবদ ৮৫০ টাকা শনিবার দিতে হবে বলে জানায়। কিন্তু দিনমজুর নুরু শেখ শনিবার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। শিক্ষক ও পিতার ওপর অভিমান করে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ির পাশে একটি গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
কুলসুম জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, ‘পরীক্ষার ফির জন্য আমরা তাকে চাপ দেইনি। যারা স্কুল থেকে উপবৃত্তি পায় না তারা বিনা-পয়সায় স্কুলে পড়াশুনা করতে পারে।