রাজশাহীতে আইন করে গুম বন্ধের দাবি
প্রকাশ : ১৫ জুন ২০১৩, ২১:৩৯
গুম মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি মানবতাবিরোধী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ বলে স্বীকৃত। শান্তি-শৃঙ্খলা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার নামে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে দেশে গুমের ঘটনা ঘটছে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এটা কোনোভাবেই চলতে পারে না। অবিলম্বে আইন করে গুম বন্ধ এবং জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।
গতকাল বুধবার ভিকটিম পরিবার নেটওয়ার্ক এন্ড বাংলাদেশ এ্যালাইন্স এগেইনস্ট টর্চার-এর উদ্যোগে রাজশাহীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের হলরুমে আয়োজিত ‘গুম হতে সকল ব্যক্তির মৌলিক মানবাধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট আব্দুল হাদির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠক সঞ্চালনা করেন আয়োজক সংগঠনের নির্বাহী সদস্য সরদার এম আনিছুর রহমান। বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট হারুন অর রশীদ, ইবি’র সাবেক ভিসি প্রফেসর রফিকুল ইসলাম, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর আজহার আলী, রাজশাহী বার সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কাসেম, প্রফেসর আব্দুর রহমান সিদ্দিকী, অধ্যাপক খালেদ উজ্জামান, সিপিবি নেতা আবুল কালাম আজাদ, ব্লাস্ট রাজশাহীর কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, ছাত্রমৈত্রী রাবি শাখার সভাপতি সুমন অগাস্টিন সরেন, ছাত্রফ্রন্টের রাবি শাখার আহবায়ক সোহরাব হোসেন ও তানিয়া মাহমুদা তিন্নি। বৈঠকে বলা হয়, ১৯৭১-এ মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক গুমের ঘটনা ঘটেছে যা যুদ্ধপরবর্তীকালেও অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিককালে গুমের ঘটনা আবারও ঘটতে শুরু করেছে, যাকে দ্রুত প্রতিহত করতে না পারলে এটি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আরেকটি ট্রেন্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সালের মে মাস পর্যন্ত ৮৭ ব্যক্তি বিভিন্নভাবে গুম হয়েছেন। সর্বশেষ রাজশাহীর ছাত্রশিবির নেতা আনোয়ারুল ইসলাম মাসুমকে র্যাব সদস্যরা গুম করেছে বলে দাবি করে আসছেন তার পরিবারের সদস্যরা। গত ৫ এপ্রিল রাত আনুমানিক পৌনে ৪টায় র্যাব-৫ সদস্যরা মাসুমকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোন হদিস নেই।