সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক হালচাল

কুড়িগ্রাম জেলার চারটি আসন। সংসদ নির্বাচন এ বছরের শেষে বা নতুন বছরের প্রথমে। কিন্তু এখন থেকেই শুরু হয়েছে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের প্রচার-প্রচারণা। ব্যানার-ফেস্টুন-বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে জেলা। বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনটি লিখেছেন, ইত্তেফাকের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি ফজলে ইলাহী স্বপন, ভুরুঙ্গামারী সংবাদদাতা আনোয়ারুল হক, উলিপুর সংবাদদাতা জাহাঙ্গীর আলম সরদার ও রাজিবপুর সংবাদদাতা রুহুল আজম। কুড়িগ্রাম-১ আসন জাতীয় সংসদ-২৫ নাগেশ্বরী ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নিয়ে কুড়িগ্রাম-১ আসন। জাতীয় পার্টি (মহাজোট) সমর্থিত প্রার্থী একেএম মোস্তাফিজুর রহমান ২ লাখ ৯ হাজার ৮’শ ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বচিত হন। মোস্তাফিজুর ক্লিন ইমেজ এমপি হিসাবে পরিচিত। তবে দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম অত্যন্ত দুর্বল। আনেক নেতা-কর্মী দলটি ত্যাগ করে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন। গত নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ছিলেন সাইফুর রহমান রানা। এখনে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে সংঘবদ্ধ। তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বর্তমানে না থাকলেও তা আবার ফুঁসে উঠতে পারে। জোটের জামায়াত জেলা আমির আজিজুর রহমান স্বপনও মনোনয়ন চেতে পারেন। আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, শিল্পপতি গেলাম মোস্তফা, মজিবর রহমান বীরবল, অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক প্রধানী, আসলাম হেসেন সওদাগর। কুড়িগ্রাম-২ আসন জাতীয় সংসদ-২৬ কুড়িগ্রাম সদর, ফুলবাড়ী ও রাজারহাট নিয়ে কুড়িগ্রাম-২ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ নির্বাচিত হন। উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মো. জাফর আলী জয়ী হন। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) আমসাআ আমিন ও সাধারণ সম্পাদক মো. জাফর আলীর মধ্যে দীর্ঘদিনের অন্তর্দ্বন্দ্ব চলে আসলেও তা প্রশমিত হয়েছে। জেলা কমিটিতে অধিপত্য স্থানীয় এমপি মো. জাফর আলীর। তৃনমূল পর্যায়ে দলীয় কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির। এবারো মনোনয়ন প্রত্যাশী বর্তমান এমপি জাফর আলী। অন্য দলের হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকায় তার অবস্থান অনেকটাই সুদৃঢ়। এখানে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থা দুর্বল। দলটি দুটি গ্রুপে বিভক্ত। বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, আবু বকর সিদ্দিক ও লুত্ফর রহমান। তবে দলের একটি অংশ কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক রুহুল কবির রিজভীকে এ আসনে প্রার্থী হিসাবে চাচ্ছেন। কুড়িগ্রামে জাতীয় পার্টির কার্যক্রম নিস্ক্রিয়। চার বছর ধরে জেলা জাতীয় পার্টি চলছে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে। এ দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক ও জেলা সমন্বয়কারী তাজুল ইসলাম চৌধুরী। এছাড়া মনোনয়ন চাইতে পারেন সাবেক বিমান কর্মকর্তা ও সাবেক জেলা আহবায়ক মেজর (অবঃ) আব্দুস সালাম। কুড়িগ্রাম-৩ আসন জাতীয় সংসদ-২৭ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। অনেকে দলীয় রাজনীতির বাইরেও নিজের অবস্থান তুলে ধরতে অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে। বিগত সংসদ নির্বাচনে এ আসনটি থেকে মহাজোট প্রার্থী সাবেক মন্ত্রী একেএম মাঈদুল ইসলাম ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫২৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। দলীয় কোন্দল না থাকায় জেলা বিএনপি’র সভাপতি তাসভীর-উল ইসলাম এখানে একক প্রার্থী। কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা আব্দুল খালেকও এ আসনে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, ফুলু সরকার, সাবেক এমপি আমজাদ হোসেন তালুুকদার, অধ্যক্ষ নাসিমা বানু, মতি শিউলি রায়, গোলাম হোসেন মন্টু, আবু সাঈদ সরকার। জাতীয় পার্টির সাবেক এমপি মাও. মতিউর রহমানকে দলীয় কর্মকাণ্ডে দেখা যায় না। কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক আবু তাহের খায়রুল হক এটি, চলচ্চিত্র পরিচালক বাদল খন্দকার ও জাপা কেন্দ্রিয় নেতা আনিছুর রহমান রতন মনোনয়ন প্রত্যাশী । তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন একেএম মাঈদুল ইসলাম সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়া প্রাইম গ্রুপের কর্ণধার ডা. আক্কাছ আলী সরকারকে যে কোন দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচনের তিনি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারেন বলে কেউ কেউ মনে করেন। পোর্ষ্টার ও বিল বোর্ড লাগিয়ে নজর কেড়েছেন, সাজাদুর রহমান তালুকদার সাজু ও ব্যারিষ্টার মমিনুল ইসলাম। জোট না হলে এ আসনে জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ, ও বিএনপি’র প্রার্থীদের মধ্যেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। কুড়িগ্রাম-৪ আসন জাতীয় সংসদ-২৮ রাজীবপুর, রৌমারী ও চিলমারী নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৪ আসন। বিগত নির্বাচনগুলোতে এই আসনটি জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিল। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জাকির হোসেন নির্বাচিত হয়। এ আসনের ৩ উপজেলায় আওয়ামী লীগের শক্তিশালী কমিটি রয়েছে। এ আসনে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, মুজিবুর রহমান বঙ্গবাসী, মশিউর রহমান রতন। বিএনপি থেকে অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, আজিজুর রহমান, আব্দুল বারী মনোনয়ন প্রত্যাশী। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, গোলাম হাবীব দুলাল ও অধ্যাপক নুরুল আলম মুকুল। এ আসন পুর্ণবিন্যাসের বিবেচনা করছে নির্বচন কমিশন। এতে কুড়িগ্রাম জেলার মূল ভূখন্ড থেকে ব্রহ্মপুত্র নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন রাজীবপুর, রৌমারী ও চিলমারী মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। রাজীবপুর আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম বলেন- আসন পুণর্বিন্যাস হলে রৌমারী, রাজীবপুরবাসী উপকৃত হবে। চিলমারীর জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম হাবীব দুলাল বলেন- এ আসন পূনর্বিন্যাস হলে জনগণ অধিকার বঞ্চিত হবে।