১৯৭১ :গণহত্যা ও বদ্ধভূমি

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসর রাজাকাররা কুড়িগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি গণহত্যা চালায়। এদের নৃশংশতায় শহীদ হন নিরীহ নিরপরাধ অনেক মানুষ। উলিপুরের হাতিয়া গণহত্যা : কুড়িগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও নৃশংসতম গণহত্যার ঘটনা ঘটেছিলো ১৯৭১ নালের ১৩ নভেম্বর ৬৯৭ জন নারী-পুরুষ-শিশুকে পাখীর মত গুলি করে আবার কাউকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে। সেদিনের নির্মমতা থেকে বেঁচে যাওয়া বয়োজ্যেষ্ঠ এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা আজো সেই নির্মমতার কাহিনী স্মরণ করে আঁঁতকে ওঠেন। নাগেশ্বরী গণহত্যা: ৬ জুলাই ১৯৭১। এ দিন হানাদার বাহিনী রাজাকারদের সহায়তায় নেওয়াশীর জয়মঙ্গল, বামনডাঙ্গার আনছার হাট এবং ভিতরবন্ধ থেকে ৩৬ গ্রামবাসীকে ধরে নিয়ে আসে। পরে তাদের বর্তমান নাগেশ্বরী কেন্দ ীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন স্থানে নিয়ে এসে ব্রাশফায়ারে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বধ্যভূমি ও গণকবরটি ইটের দেয়াল দিয়ে সংরক্ষণ করা হয়েছে। নিলুরখামার গণহত্যা: জেলার দ্বিতীয় বৃহত্তর গণহত্যা এটি। তিনদিক থেকে ঘিরে পাখির মত গুলি করে ৭৯ জনকে হত্যা করে পাকহানাদাররা। বেশ কিছু মানুষকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারে তারা। হাসনাবাদ গণহত্যা: নিলুর খামার গণহত্যার দিনে হাসনাবাদ গ্রামে হানাদার বাহিনী ও স্থানীয় রাজাকাররা হামলা চালায়।