বেদেনিদের এখন বড়ই দুর্দিন

কুলাউড়া পৌরসভার প্রধান ফটকের দুইপাশ জুড়ে লাইন ধরে বেদেনি কবিরাজদের বসে থাকার দৃশ্য প্রতিদিনের। সকাল-সন্ধ্যা পর্যন্ত ওরা তাকিয়ে থাকে পথচারীদের দিকে, মাঝে মাঝে সুর করে জানান দেয়, দাঁতের পোকা ঝাড়ি, সিংগা লাগাই, বিষ বেদনা কমাই, বাচ্চাদের রোগ-বালাই দূর করি ইত্যাদি। সব পথচারীকে ওরা ডাকে না, কাকে ডাকলে ওদের ব্যবসা হবে তা চেহারা দেখলেই বুঝতে পারে। বেদে সম্প্রদায়ের ৪ বেদেনি কবিরাজ সরলা, রূপালি, দিপালী ও তারাবানুর সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। ওরা জানায়, কবিরাজি তাদের বুনিয়াদি ব্যবসা। এর সঙ্গে শুধু বেদে মহিলারাই জড়িত। জানাল তাদের রোগীদের মধ্যে গ্রামের নিম্নআয়ের বয়স্ক সাধারণ মানুষের সংখ্যাই বেশি। গ্রামের অনেক বয়স্ক রোগী আছেন যারা প্রতিমাসে একবার সিংগা লাগায়, শিশুদের দাঁতের ব্যথা হলে পোকা বের করার জন্য তাদের কাছে নিয়ে আসে। উপরি সারানোর জন্য তাবিজ-কবচ নেন। পুরুষ বেদে এবং মহিলা বেদেদের কাজের ভিন্নতা রয়েছে। পুরুষরা পুকুরে বা জলাশয়ে হারিয়ে যাওয়া স্বর্ণালঙ্কার খুঁজে বের করা, সাপ ধরা, সাপের খেলা দেখান ও সাপের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাবিজ-কবচ বিক্রি করে। শীতের সময় পুরুষ মহিলা সকলেই গ্রামে গ্রামে ফেরি করে। সরলা জানায়, ওদের কোন স্থায়ী বাসস্থান নেই। একজন দলপতির অধীনে কয়েকটি পরিবার একত্রে বসবাস করে। সব বিয়ে-শাদি তাঁবুতেই হয়ে থাকে। ওদের ছেলেমেয়েরা কোন বিদ্যালয়ে যায় না। পুথিগত বিদ্যা নয়, পেশাগত বিদ্যাই ওদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মহিলা কবিরাজরা জানায়, ওদের ব্যবসা ভাল চলছে না। ঘনঘন হরতাল আর ঝড়বৃষ্টির কারণে গ্রামের লোকজন শহরে আসেন না।