আঁধার ঘরে চাঁদের আলো
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৩, ২১:৪১
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ভূমিহীন পিতার সন্তান শারমিন আক্তারের ভবিষ্যত্ আর্থিক সংকটের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কুপিবাতির আলোয় লেখাপড়া চলেছে ফুলবাড়ির অদম্য মেধাবী ঋৃষিকেশের। লালপুরে অর্থাভাবে মেধাবী ছাত্র নঈমের ভাগ্য অনিশ্চিত। দিনমজুরি করে জিপিএ-৫ পেয়েছে রাজীবপুরের সুজন। এসব মেধাবী মুখের খবর তুলে ধরেছেন আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা।
মৌলভীবাজার
জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের হতদরিদ্র ভূমিহীন পিতার সন্তান শারমিন আক্তার। কমলগঞ্জের ভান্ডারীগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। বাবা আবদুল জলিল ভূমিহীন । পৈত্রিক ভিটাবাড়ি ছাড়া আর কোন জমি নেই। দরিদতা তাকে দমাতে পারেনি। কিন্তু বড় হওয়ার স্বপ্ন আর্থিক সংকটের কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কমলগঞ্জ কলেজ থেকে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করলেও টাকার অভাবে ভর্তি হতে পারবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যদি কোন সহূদয় ব্যক্তি তার উচ্চশিক্ষা গ্রহণে সহযোগিতা করেন তবে সে তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে।
ফুলবাড়ি (দিনাজপুর)
কেরোসিনের কুপিবাতির আলোয় লেখাপড়া করেছে ঋৃষিকেশ। অভাবের কারণে প্রাইভেট পড়তে পারেনি। শিক্ষকদের সহায়তায় নিজেই চেষ্টা করে পড়াশোনা চালিয়েছে। প্রাইভেট পড়িয়ে ফরম পূরণের টাকা যোগাড় করেছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ঋৃষিকেশ ফুলবাড়ির সুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মানবিক শাখায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। ঋৃষিকেশ জানায়, ভালো ফলাফল করেও এখন বিপদে পড়েছে এইচএসসিতে ভর্তি নিয়ে। ইচ্ছা থাকলেও অর্থের অভাবেই সে আর ভালো কোন কলেজে ভর্তি হতে পারছে না। সব মিলিয়ে হতাশায় দিন কাটছে তার ।
লালপুর (নাটোর)
পরের জমিতে কামলা খেটেও এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী ছাত্র নঈম প্রামাণিকের ভাগ্য অনিশ্চিত। দিনমজুর বাবার আয়ে তার লেখাপড়ার খরচ চালানো সম্ভব নয়। ফলে সে কলেজে ভর্তি হতে পারবে কিনা তা নিয়ে চিন্তিত পরিবারের লোকজন। নঈম প্রামাণিক জানায়, সে তার বাবার পাশাপাশি পরের জমিতে কাজ করে পড়ার খরচ যোগানো ছাড়াও সংসারে ব্যয় করতো। তার বাবার আয়ে সংসারই চলে না।
রাজীবপুর (কুড়িগ্রাম)
বাড়িতে একটি মাত্র দোচালা ঝুপরিঘর। সেখানেই কোনরকমে ঠেসেঠুসে রাতটা কাটাতে হয় বাড়ির অন্য সদস্যদের সাথে। তাই চাচার বাড়ির গোয়ালঘরে কুপির আলোয় এক বেলা খেয়ে আর এক বেলা না খেয়ে অভাবের সাথে যুদ্ধ করে লেখাপড়া করতে হয় সুজনকে। রাজীবপুর উপজেলার বালিয়ামারী নয়াপাড়া গ্রামের দিনমজুর মহর আলীর ছেলে সুজন মিয়া এবার স্থানীয় জাউনিয়ারচর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে।
সুজনের সাথে কথা বললে সে জানায়, ‘পড়াশোনার খরচ যোগাড় করতে ছুটির দিনে এবং মাঝে-মধ্যে স্কুলে যাওয়া বাদ দিয়ে দিনমজুরের কাজ করেছি। ভবিষ্যতে আমি একজন ডাক্তার হতে চাই। কিন্তু ব্যয়বহুল পড়াশোনার খরচ নিয়ে খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।’ ওই গ্রামের স্কুল শিক্ষক আ. মতিন বলেন, ছেলেটি ছোট থেকেই লেখাপড়ার প্রতি খুবই আগ্রহী। ওকে একটু সহযোগিতা করলে ভালো কিছু করতে পারবে।