ঈদের আগে খুলনায়
বেড়েছে চোরাচালান
প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০১৩, ২১:৪৬
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্যরা ঈদকে সামনে রেখে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা ভারত থেকে অবৈধ পথে নিয়ে আসছে শাড়ি, টু-পিস, থ্রি-পিস, শার্ট, প্যান্টের পিস, থান কাপড়, সেন্ট, জিরা, গুঁড়া দুধ, মসলা, চকোলেট, বিস্কুট ও ওষুধসহ নানা সামগ্রী। মাঝে-মধ্যে দুই একটা চালান র্যাব, পুলিশ ও কোস্টগার্ড সদস্যদের হাতে ধরা পড়লেও অধিকাংশ চালানই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ছে।
নিরাপদ রুট হিসেবে চোরাচালানিরা বেছে নিয়েছে সড়ক, নৌ ও রেলপথকে। খুলনার বড়বাজার, রেল স্টেশন, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল, গল্লামারী মোড়, জিরো পয়েন্ট, দৌলতপুর ও ডুমুরিয়া উপজেলার কয়েকটি পয়েন্টে এসব পণ্য খালাস হচ্ছে। আর নিরাপদ স্থান হিসেবে নগরীর বড়বাজারের গোডাউনগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছে চোরাই পণ্যসামগ্রীর মজুদ। অভিযোগ রয়েছে পুলিশ বাহিনীর কতিপয় সদস্যের সহযোগিতায় চোরাকারবারিরা তাদের এ অবৈধ ব্যবসা দেদারছে চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি বড়বাজারের শ্রীকৃষ্ণ ভাণ্ডারের মালিক গৌর কণ্ডু ও জনৈক সুজনের অবৈধ পথে আমদানিকৃত বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা উদ্ধার করা হয়েছে। এভাবে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার জিরাসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বড়বাজারে ঢুকছে।
সূত্র জানায়, ঈদকে সামনে রেখে পবিত্র রমজান মাসের অনেক আগে থেকেই চোরাকারবারিরা ভারত থেকে অবৈধ পথে শাড়ি, থ্রি-পিসসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী আনা শুরু করেছে। যশোরের বেনাপোল ও সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এবং সুন্দরবনের ভিতর দিয়ে নদীপথে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় বিভিন্ন ডিজাইনের দামি শাড়ি, টু-পিস, থ্রি-পিস, টি-শার্ট, জিন্স প্যান্ট, প্যান্ট পিস, গেঞ্জি, বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রী এবং জিরা, মসলা, চকোলেট, বিস্কুট, গুঁড়া দুধ ও ওষুধসহ নানা পণ্যসামগ্রীর মজুদ গড়ে তোলা হয়েছে। সুযোগ বুঝে এসব পণ্যসামগ্রী রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করা হচ্ছে।
গত ২০ জুলাই বিজিবি সদস্যরা সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত এলাকার দুটি স্থানে অভিযান চালিয়ে লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ভারতীয় ইমিটেশনের গহনা ও বিপুল পরিমাণ পটকাবাজি উদ্ধার করে। এছাড়া সম্প্রতি কোস্টগার্ড সদস্যরা রূপসা সেতুর টোলপ্লাজা এলাকা থেকে ট্রাকভর্তি কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, প্যান্ট ও শার্ট পিস ইত্যাদি উদ্ধার করে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চোরাকারবারিদের কারণে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দেশীয় বস্ত্রসামগ্রী বাজার হারাচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় দেশীয় শাড়ি-কাপড় ও জামা-প্যান্ট বিক্রির পরিবর্তে চোরাইপথে আসা ভারতীয় শাড়ি-কাপড় ও থ্রি-পিসসহ পণ্যসামগ্রী বিক্রি করছে। এতে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে দেশীয় পণ্যের বাজার হারাচ্ছে শিল্প মালিকরা।