খুলনায় অরক্ষিত দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি

দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে থাকা খুলনার দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরিটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেয়া হলেও নানা জটিলতার কারণে তা হচ্ছে না। বন্ধের পর একটা পর্যায়ে ফ্যাক্টরির দেখভালের দায়িত্ব দেয়া হয় খুলনা জেলা প্রশাসনকে। কিন্তু তারাও এখন অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে। গত দুই বছর ধরে এ ফ্যাক্টরির দায়িত্বে নিয়োজিত নিরাপত্তা প্রহরীরা বেতনভাতা না পেয়ে অধিকাংশই চাকরি থেকে চলে যাওয়ায় অরক্ষিত হয়ে পড়েছে ফ্যাক্টরিটি। এ পরিস্থিতিতে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়ে শিল্প সচিবকে চিঠি দিয়েছেন জেলা প্রশাসক। ১৯৫৬ সালে প্রতিষ্ঠিত খুলনা দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরিটি চারদলীয় জোট সরকার আমলে বন্ধ হয়ে যায়। এর কয়েক বছর পর সরকার ভাইয়া গ্রুপ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ফ্যাক্টরিটি লিজ দেয়। এভাবে দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি চলতে থাকে। হঠাত্ করে ইজারা নেয়া প্রতিষ্ঠান ভাইয়া গ্রুপ সরকার বা শ্রমিকদের সাথে কোন ধরনের আলোচনা না করে ২০১০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি কারখানার উত্পাদন বন্ধ করে দেয়। এর কয়েক মাস পর একই বছর ১৮ আগস্ট দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়ে সকল শ্রমিক-কর্মচারীকে চাকরি থেকে বিদায় করে দেয়। এরপর থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা মিলটি বিসিআইসির নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চালু ও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধের জন্য আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও মালিকপক্ষ ফ্যাক্টরি চালু ও শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধে কোন উদ্যোগ নেয়নি। ২০১১ সালে খুলনার খালিশপুরে অনুষ্ঠিত এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন। একই বছর ২৩ মার্চ শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে খুলনা জেলা প্রশাসন ফ্যাক্টরির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বুঝে নেয়। এ ঘটনার পর সরকারি উদ্যোগ ব্যাহত করতে মাঠে নামে ইজারা গ্রহীতা প্রতিষ্ঠান ভাইয়া গ্রুপ। তাদের না জানিয়ে সরকার ফ্যাক্টরিটি নিজ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এমন অভিযোগ তুলে ওই বছর মার্চ মাসে হাইকোর্টে রিট করে গ্রুপটি। কিন্তু আদালত রিট খারিজ করে দেয়। রায়ের পর সরকারিভাবে ফ্যাক্টরিটি পুনরায় চালুর বিষয় নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে বহু চিঠি চালাচালি হলেও কার্যত কোন ফল হয়নি। অপরদিকে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দাদা ম্যাচ কারখানার ৪২ জন নিরপত্তা প্রহরীর দুই বছরের বেতনভাতা বাবদ প্রায় ১২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। পাওনা না পেয়ে ৫/৬ জন ছাড়া বাকি নিরাপত্তাকর্মী চাকরি থেকে চলে গেছেন। এ অবস্থায় প্রায় ১৮ একর জমির ওপর অবস্থিত মিলটির কোটি কোটি টাকার সম্পদ অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। কিছুদিন আগে খুলনা জেলা প্রশাসক শিল্প সচিবকে দেয়া এক চিঠিতে বর্তমান পরিস্থিতির কথা জানিয়ে ফ্যাক্টরির দেখভালের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মো. দিলখোশ মিয়া বলেন, জেলা প্রশাসন ফ্যাক্টরির দায়িত্ব নেয়ার পর আশা করেছিলাম যে, সরকার এটি চালু করবে। কিন্তু প্রশাসন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনেক চিঠি লেখালেখিও করেছে। আমরা প্রশাসনের ওপর বার বার চাপ সৃষ্টি করলেও তারা কিছু করতে পারছেন না। দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি পুনরায় চালু হোক এটাই আমাদের একমাত্র দাবি।