ইইউ’র সন্ত্রাসী তালিকায় হিজবুল্লাহর সামরিক শাখা

গত সোমবার ব্রাসেলসে বৈঠকে ইইউ হিজবুল্লাহর সামরিক শাখাকে জঙ্গি সংগঠনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে ইইউ’র সংক্রান্ত নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিল। মাসিক বৈঠকে ইইউ’র ২৮টি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এব্যাপারে একমত প্রকাশ করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরে হিযবুল্লাহকে সন্ত্রাসী সংগঠনের তালিকাভুক্ত করার জন্য ই ইউ’র ওপর কূটনীতিক চাপ দিয়ে আসছিল।—খবর ডন সংবাদপত্রের। বৈঠক শেষে ব্রিটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেন, এর মাধ্যমে প্রমাণ হলো সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ইউরোপের দেশগুলোর অবস্থান অভিন্ন। এতে প্রতীয়মান হলো কোন সংগঠনই ইউরোপের মাটিতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে পারবে না। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গুইডো ওয়েস্টারভেলেও ইউরোপের দেশগুলোর ঐক্যের ওপর জোরারোপ করেন। তিনি বলেন, আমরা ইউরোপে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে কোন প্রশ্রয় দেব না। কালো তালিকাভুক্ত করার পর হিজবুল্লাহর সম্পদ জব্দ করা হবে এবং এর সামরিক শাখার সদস্যদের ইউরোপে ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। নেদারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্স টিমারম্যানস বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারায় আমি আনন্দিত। কিন্তু হিজবুল্লার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন হবে কারণ কে সামরিক শাখার সাথে জড়িত আর কে জড়িত নয় তা আগে বের করতে হবে। কূটনীতিকরা বৈঠকে হিযবুল্লাহর সামরিক শাখার সদস্যদের এবং তাদের সম্পদ চিহ্নিত করার চেষ্টা করেন। হিজবুল্লাহ লেবাননের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয় ইরান। ২০১১ সাল থেকে লেবাননের সরকারে হিজবুল্লাহর আধিপত্য বিরাজ করছে। সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে তারা আসাদের পক্ষে সরাসরি কাজ করছে। হিজবুল্লাহপন্থি লেবাননের আইনপ্রণেতা ওয়ালিদ শুকারিয়া এ ব্যাপারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কারণেই ইইউ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।