ডায়ানার স্বপ্ন ভেঙে দেন হাসনাতের মা
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৩, ২০:২৭
পাকিস্তানের হার্ট সার্জন ডাঃ হাসনাত খানকে বিয়ে করে পেশোয়ারেই গৃহবধূ হিসেবে পাকাপাকি থাকতে চেয়েছিলেন ডিভোর্সি ব্রিটিশ রাজবধূ প্রিন্সেস ডায়ানা। শুধু তাই নয়, সকল ঝুট-ঝামেলা দূরে ঠেলে হাসনাতের ঔরসে একটি কন্যা সন্তানের জননী হয়ে বাকি জীবনটা শান্তিতে কাটাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বিধিবাম, হাসনাতের মা নাহিদা খানের সঙ্গে দেখা করে নিজের মনোবাসনার কথা জানাতেই পত্রপাঠ ডায়ানাকে বিদায় করেছিলেন হার্ট সার্জনের মা। নাহিদার প্রত্যাখ্যান ও রুষ্ট ব্যবহার ডায়ানাকে যে প্রচণ্ড আহত করেছিল, সে কথা ডায়ানা জানিয়েছিলেন ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রী ও নিজের দীর্ঘদিনের বান্ধবী জেমাইমাকে। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘ডেইলি মিরর’ ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’-কে উদ্ধৃত করে ব্রিটেনের প্রয়াত রাজবধূর এমন ইচ্ছার কথা জানিয়েছে। ম্যাগাজিনটির সেপ্টেম্বর সংখ্যায় জেমাইমার এক বিস্ফোরক সাক্ষাত্কারে ‘প্রিয় বান্ধবী’ ডায়ানা সম্পর্কে এমন অজানা কাহিনী প্রকাশিত হবে।
যুবরাজ চার্লসের স্ত্রী হিসেবে ডায়ানা যতটা না পরিচিত ছিলেন, তারচে’ অনেক বেশি খ্যাতি কুড়িয়েছিলেন একাধিক বিতর্কিত প্রেমের জন্য। ১৯৯৫ সাল থেকে টানা দু’বছর পাকিস্তানি হার্ট সার্জনের সঙ্গে গভীর প্রেমে ডুবেছিলেন ডায়ানা। পেশোয়ারের বনেদী খান পরিবারের সন্তান হাসনাতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উষ্ণতার জোয়ারে ভেসে গিয়েছিলেন তিনি। হাসনাতকে ঘিরে কী স্বপ্ন দেখেছিলেন ডায়ানা? ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ ম্যাগাজিনের কন্ট্রিবিউটর সারা এলিসনকে একান্ত বিস্ফোরক সাক্ষাত্কারে জেমাইমা বলেছেন,‘হাসনাতকে বিয়ে করে পাকিস্তানে পাকাপাকিভাবে চলে যেতে চেয়েছিলেন ডায়ানা। কন্যা সন্তানের মা হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু হাসনাতের মা নাদিরা খান ডায়ানার সব ইচ্ছে ভেস্তে দিয়েছিলেন।’ ডায়ানার বড় ছেলে যুবরাজ উইলিয়ামের সদ্যোজাত সন্তাানকে নিয়ে একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করতে চলেছে ম্যাগাজিনটি।
‘দ্য গ্র্যান্ডমাদার প্রিন্স জর্জ নেভার নিউ’ শীর্ষক সাক্ষাত্কারে জেমাইমা রীতিমতো বোমা ফাটিয়েছেন। তার কথায়, লাহোরে এসে প্রেমিক হাসনাতের মা নাহিদা খানের সঙ্গে গোপনে দেখা করেছিলেন ডায়ানা। হাসনাতের মায়ের মন জয় করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু বিতর্কিত ব্রিটিশ রাজকূলবধূর স্বপ্ন ও ইচ্ছাকে অঙ্কুরেই ছেঁটে ফেলে দিয়েছিলেন হাসনাত-জননী নাহিদা খান। ছেলের বউ হিসেবে কিছুতেই ‘ব্যাভিচারী ও চরিত্রহীন’ এক মহিলাকে মেনে নিতে চাননি পশতু খানদানের অভিভাবিকা। প্রথম আলাপেই মুখের উপর শুধুমাত্র ‘না’ বলা নয়, নিজস্ব ভঙ্গিমায় এড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি। হতাশ ডায়ানা লাহোরের হোটেলে ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’ ম্যাগাজিনে সেদিনের ভেঙে পড়া ডায়ানার প্রতিটি মুহূর্তের বর্ণনা থাকছে। অবশ্য সেই ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই হাসনাতকে ছেড়ে ডোডি আল ফায়েদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন ডায়ানা। সেই প্রেম তুঙ্গে থাকা অবস্থায় দু’জনের মৃত্যু ঘটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায়। এই আগস্টেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করতে হয়েছিল জনগণের হূদয়ের রাণী ডায়ানাকে। কিন্তু জনপ্রিয়তা এখনো গগনচুম্বি। তাঁর সম্পর্কিত কোন খবর ছাপা হলে বিশেষ করে ব্রিটেনে পত্রিকার কাটতি দ্বিগুণ হয়ে যায়।
ইমরান খানের প্রাক্তন স্ত্রীর কথার যে যথেষ্ট গুরুত্ব ও তাত্পর্য় রয়েছে, তা মেনে নিয়েছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের ঘনিষ্ঠ সাংবাদিকরাও। কারণ ব্রিটিশ ধনকুবেরের মেয়ে জেমাইমা শুধুমাত্র দীর্ঘদিনের বান্ধবী ছিলেন না, অন্যতম কাছের মানুষও ছিলেন। এই জেমাইমার ডাকেই ইমরানের মায়ের নামে ক্যান্সার হাসপাতালের তহবিল সংগ্রহ করতে লাহোরেও এসেছিলেন স্বয়ং ডায়ানা। কিন্তু ব্রিটিশ রাজবধূর সেই পাকিস্তান সফরের পেছনে যে এক বড় অকথিত চাঞ্চল্যকর তথ্য লুকিয়ে আছে, তা এতদিনে বলেছেন জেমাইমা। ডেইলি মিরর-এর খবর প্রকাশিত হতেই লন্ডনজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছে। ইমরান খানের বিবাহ বিচ্ছিন্না স্ত্রী মুখ টিপে হেসে বলেছেন,‘পুরো ম্যাগাজিন পড়লে ডায়ানাকে নতুনভাবে মূল্যায়ন করবে সবাই।’
সময় দ্রুত দৌড়ায়। দেখতে দেখতে ডায়ানার মৃত্যুর পর ১৬টি বছর কেটে গেছে। এর মাঝে পৃথিবীতে ঘটে গেছে সাড়াজাগানো নানান ঘটনা। জন্ম নিয়েছে ইউরো, ধসিয়ে দেয়া হয়েছে টুইন টাওয়ার্স; স্বাক্ষরিত হয়েছে গুড ফ্রাইডে চুক্তি; চড়াই-উত্রাই পার করছে বিশ্ব অর্থনীতি। বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছে আরব বসন্ত। তারপরও পত্রিকার পাতায় শিরোনাম হচ্ছেন ডায়ানা। ডায়ানা সম্পর্কিত যে কোনো অজানা তথ্য প্রচার করা হয় ফলাও করে। তবে সাধারণত তাঁর মৃত্যু রহস্যের কিনারা করতেই মিডিয়া তত্পরতা দেখায়। সে জায়গায় ‘ডেইলি মিরর’ ডায়ানা ও হাসনাতের রোমান্স সম্পর্কিত নতুন খবর ছেপে রীতিমতো হুলস্থূল বাঁধিয়ে দিয়েছে।
ব্রিটেনের সাবেক রাজকীয় প্রতিনিধি নিকোলাস ওয়েনের মতে, মিডিয়ার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। ২০০৭ সালে প্রকাশিত ‘পিপলস প্রিন্সেস’ বইয়ে তিনি লিখেছেন, সংবাদপত্রের মালিক কিংবা সম্পাদক হিসেবে আপনি যদি কাটতি নিয়ে সমস্যায় পড়েন, তাহলে নির্দ্বিধায় প্রথম পাতায় ডায়ানার একটি বড় ছবি ছেপে দিতে পারেন। দেখবেন, আপনার উত্পাদিত পণ্য শেষ হয়ে যাচ্ছে হুড়মুড় করে। সৌজন্য কপি দেয়ার সুযোগই পাবেন না।