ক্রিকেট দুর্নীতি প্রসঙ্গে

বাংলাদেশ ক্রিকেটকে তোলপাড় করিয়া দেওয়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দ্বিতীয় আসরে ক্রিকেটে ম্যাচ গড়াপেটা করিবার দুর্নীতির ঘটনাটির তদন্ত শেষে বিসিবিকে প্রতিবেদন জমা দিয়াছে আইসিসি। সংবাদ সম্মেলনে ঐ দুর্নীতির ঘটনায় নয়জন জড়িত রহিয়াছে বলিয়া জানানো হইয়াছে। ইহাদের মধ্যে ক্রিকেটার মোহাম্মদ আশরাফুল তাহার অপরাধ ইতোপূর্বে স্বীকার করিয়াছেন। বাকি আটজনের নাম অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় নাই। বিসিবি জানাইয়াছে বাকি কাজ করিবে একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিকে চেয়ারম্যান করিয়া গঠিত একটি বিশেষ ট্রাইব্যুনাল। জড়িত থাকিবার অভিযোগ প্রমাণিত হইলে একজন ক্রিকেটারের পাঁচ বছর হইতে সর্বোচ্চ আজীবন নিষিদ্ধ থাকিবার শাস্তি হইতে পারে। উল্লেখ্য যে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হওয়া বিপিএলের দ্বিতীয় আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের দুইটি ম্যাচ নিয়া সন্দেহ তৈরি হয়। সেই সন্দেহের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে আইসিসির দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট (আকসু)। তদন্তের এক পর্যায়ে আশরাফুলসহ কয়েকজন ক্রিকেটার এবং গ্ল্যাডিয়েটর্সের মালিকদের নাম উঠিয়া আসে। আকসুর তদন্ত শুরু হইবার কয়েকদিন পূর্বেই দিল্লি পুলিশ আইপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে তিনজন ক্রিকেটারকে গ্রেফতার করে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করিতে বাধ্য হন বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে ঘিরিয়া জুয়ার আসর জমজমাট হইয়া উঠিয়াছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটনির্ভর প্রিমিয়ার লিগ নামক টুর্নামেন্টে ইহার প্রবণতা বহুলভাবে বাড়িয়াছে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের আদলে শুরু হওয়া এইসব লিগে ক্রিকেটের আদলই পরিবর্তিত হইয়া গিয়াছে। ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়িয়াছে, নির্মমভাবে দৈর্ঘ্য কমিয়াছে, রঙ আর গ্ল্যামারের সমাবেশ ঘটিয়াছে, ক্রিকেটারদের উপার্জন বাড়িয়াছে, কিন্তু সবচাইতে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছে ক্রিকেট। সেই ক্রিকেট, যাহার একটা গাম্ভীর্য ছিল এতদিন, একটা বনেদী-ভদ্রস্থ চেহারা ছিল এতদিন। এইসকল প্রিমিয়ার লিগে বিশাল অর্থের লেনদেন হয় মানুষের ক্রিকেটপ্রেমকে পুঁজি করিয়াই। ফলে অনুমোদন প্রদানকারী আইসিসি, আয়োজক বিসিবি, প্রচারকারী টেলিভিশন চ্যানেল—সবাই মিলিয়া স্পন্সর-ব্র্যান্ড-বিজ্ঞাপনদাতার কাছে বিক্রি করিতেছে মানুষকেই। ট্রাইব্যুনালে যাহারা অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হইবেন তাহাদের যথাযথ শাস্তিপ্রদান করিতে হইবে। তাহা না হইলে এইরকম দুর্নীতি দূর হইবে না।