সরকারি চাকরিতে
কোটা বিতর্ক
ন তু ন প্র জ ন্মে র ভা ব না
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৩, ২১:৪৯
সরকারি চাকরিতে
কোটা বিতর্ক আর নয়
মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য major কোটা দেয়া হয়েছে। আমি মনে করি, রাষ্ট্র যদি মুক্তিযোদ্ধাদের satisfy করতে চায় সেই ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটা specific huge amount দিয়ে সম্মান করা হোক। পত্র-পত্রিকা খুললেই দেখি যে, রাষ্ট্রের এই উন্নতি হয়েছে, সেই উন্নতি হয়েছে এবং উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কিন্তু আমার জানা নেই, পৃথিবীর কোন দেশ মেধাবীদের রেখে উন্নতি করতে পেরেছে কিনা? তাহলে আমাদের দেশ মেধাবীদের রেখে কীভাবে উন্নয়ন করবে, Digital যুগের সকল কিছুই মেধাবীদের আবিষ্কার। বর্তমানে বাংলাদেশের ইউনিয়ন পরিষদে Digital-এর ছোঁয়া লেগেছে। এটাও বাংলাদেশের একজন মেধাবীর ফসল। কোটা পদ্ধতি কমিয়ে মেধাবীদের সুযোগ করে দেয়া হোক। অযোগ্যদের আস্ফাালনে যে যোগ্যদের অসহায়ত্বের দিন কাটাতে হচ্ছে। সেদিকে রাষ্ট্রকে তীক্ষ্ন দৃষ্টি রাখতে হবে। শুধু ভাবাবেগ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না।
মো. জাহাঙ্গীর আলম
আইন অনুষদ
ফাইনাল ইয়ার, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ।
===
কোটার ফাঁদে মেধাবী শিক্ষার্থী
সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিবদমান কোটা ব্যবস্থার ভালো-মন্দ দু’দিকই রয়েছে। তবে কোটাগুলো যথাযথ মূল্যায়নের ভিত্তিতে পূরণ করা জটিল। কোটাগুলো মূল্যায়নের ভিত্তিতে পূরণ করা হয় না বলে বৈষম্যমূলক হয়ে দাঁড়ায়। গত ২৪ মে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ১ লাখ ৯৫ হাজার পরীক্ষার্থী এতে অংশ নেন। গত ১০ জুলাই এই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয় এবং মোট ১২ হাজার ৩৩ জন উত্তীর্ণ হন। এ উত্তীর্ণ চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে ৫৬ শতাংশ বিভিন্ন কোটা এবং ৪৪ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হয়। এসব কোটার মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তান কোটা ৩০ শতাংশ, জেলা কোটা ১০ শতাংশ, নারী কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি কোটা ৫ শতাংশ এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী। বাকি ৪৪ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীর। আবার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যান্য কোটার পাশাপাশি ৬০ শতাংশ নারী কোটা রয়েছে। মাধ্যমিক বিদ্যালয়েও রয়েছে একই ব্যবস্থা। এসব কোটা ব্যবস্থা থাকার কারণে কম মেধাবীরা চাকরি পাচ্ছেন। দেশ হয়ে পড়ছে মেধাবী-শূন্য। এটা সংবিধান ও মানবাধিকার পরিপন্থী। এমতাবস্থায় আশা থাকবে সরকারের প্রতি— সব ধরনের কোটা ব্যবস্থা বাতিল করে শুধু মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ দিয়ে দেশকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলবেন।
সুমন আহমেদ (বিবিএ)
ফজলুর রহমান হল
সিটি ইউনিভার্সিটি মাজার, ঢাকা।
===
কোটাকে না বলুন, আর মেধাকে হ্যাঁ বলুন
যারা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এই দেশকে পাকবাহিনীর হাত থেকে রক্ষা করেছে, আমি তাদেরকে অসম্মান করছি না বরং তারা এই দেশেরই সন্তান এবং গৌরব। এজন্য সরকারের উচিত তাদের পরিবারকে শুধু আর্থিক সহযোগিতা করা। তবে সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে নয়। তাদের সন্তানরা আমাদেরই ভাই-বোন এবং আত্মীয়-স্বজন। তাহলে আমরা আমরাই তো। তাদের আবার বাড়তি কোটার প্রয়োজন কি? আর তাদের নাতি-নাতনিদেরকে কোটাভুক্ত করা কোনভাবেই যুক্তিসঙ্গত কাজ বলে মেনে নেয়া যায় না। তা হলে আসুন আমরা কোটাকে না বলি, আর মেধাকে হ্যাঁ বলি। এবং মেধার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে অংশগ্রহণ করি।
শাহ্ মোহাম্মাদ ওয়ালীউল্লাহ্ মহব্বত
অনার্স ১ম বর্ষ, ইতিহাস বিভাগ,
ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
==
মেধাবীরাই এদেশ পরিচালনা করবে ভবিষ্যতে
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ। এদেশ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে খুব একটা সচল নয় অন্যান্য দেশ থেকে। বাংলাদেশ নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত। বেকার সমস্যা বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। প্রত্যেক তরুণের লক্ষ্য থাকে লেখাপড়া শেষ করে ভাল একটা চাকরি করবে। চাকরির বাজারে বর্তমানে বিসিএস একটি সম্মানজক প্রত্যাশাও বটে। চাকরি নামক সোনার হরিণ খুঁজতে অনেক তরুণ-তরুণীই জীবনের অনেক মূল্যবান সময় নষ্ট করেন লেখাপড়ার মাধ্যমে। কিন্তু সেখানে যদি মেধার মূল্যায়ন না হয় তবে সেটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়। বিসিএস পরীক্ষায় প্রিলিমিনারীতে কোটা নির্ধারিত এটা অযৌক্তিক। পক্ষান্তরে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাও তো আমাদের দেশের সন্তান। তাদের জন্য একটা নির্দিষ্ট কোটার মাত্রা রাখা উচিত। আমরা সমগ্র বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ঋণী। সুতরাং সবার কথা বিবেচনা করে একটা সমঝোতা থাকা আবশ্যক। আগামীদিনে মেধাবীরাই এদেশের হাল ধরবে কি? সুতরাং এর তাত্পর্য যেন সবাই বুঝতে সচেষ্ট হয়।
আকাশ আহমেদ (জারসা)
ওল্ড ফাস্ট ইয়ার-৩২১০
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া।