যুক্তরাষ্ট্রে কুকুরের জন্য টেলিভিশন

মানুষের প্রিয় পোষ্য হল কুকুর। পশ্চিমে তাদের জন্য বিশেষ খাবার, খেলনা, আসবাবপত্র, লোম ছাঁটার সেলুন, গয়নাগাটি, ডাক্তার, থেরাপিস্ট সবই আছে। তাহলে টেলিভিশনই বা থাকবে না কেন? মানুষেরা সোফায় বসে বিয়ার হাতে টেলিভিশন দেখতে দেখতে অলস, মেদবহুল ও কায়িক পরিশ্রমে বিমুখ হয়ে পড়ছে। সেটা কি এবার কুকুরদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে? কুকুররা কি তাদের সবচেয়ে প্রিয় ‘হাঁটতে যাওয়া’ও ছেড়ে দেবে? এমনটি হয়ত না ঘটলেও ‘‘ডগ টিভি” নামে একটি চ্যানেল খোলা হয়েছে খোদ মার্কিন মুলুকে। -খবর ডয়চে ভেলের। কুকুর যে খুবই প্রভুভক্ত গৃহপালিত পশু তা আমাদের সকলেরই জানা। মালিক-মালকিন যখন কাজে বা বাজারে যান তখন ঘন্টার পর ঘন্টা একা বাড়িতে বা ফ্লাটে আবদ্ধ থাকতে হয় কুকুরকে। একাকিত্ব ও বোরডম দূর করার জন্য মানুষ দ্বারস্থ হয় ম্যাজিক বক্স টেলিভিশনের ওপর। তাহলে কুকুর কেন নয়। আর এই চিন্তা থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে রন লেভি নামে এক ব্যক্তি চালু করেছেন চব্বিশ ঘণ্টার ডগ চ্যানেল। সপ্তাহে সাতদিনই চলবে চ্যানেলটি। বহু ফ্ল্যাটে ক্যামেরা বসিয়ে একা থাকা কুকুরদের ভাব-সাব পর্যবেক্ষণ করেছেন গবেষকরা। দেখা গেছে, টেলিভিশন চালু থাকলে কুকুররা ভালো বোধ করে, বিশেষ করে প্রোগ্রামে যা দেখানো হচ্ছে, তা যদি তাদের মনের মতো হয়। সব কুকুরের মানসিক পরিস্থিতি কিংবা প্রয়োজন তো এক হয় না, তাই নানা ধরনের প্রোগ্রাম ডেভেলপ করা হয়েছে বললেন লেভি। ‘‘স্টিমিউলেশন” বা ‘উত্তেজনা’ নামে যে প্রোগ্রামটি করা হয় যেসব কুকুররা নড়তে-চড়তে চায় না, তাদের চাঙ্গা করার জন্য। প্রোগ্রামটিতে ছটফটে সব ছবি দেখিয়ে অলস কুকুরদের সচল করা হয়। হয়তো কোনো গোল্ডেন রিট্রিভার জাতীয় কুকুর বাগানে একটি লাল বলের পিছনে ধাওয়া করছে, তার মালকিন প্রশংসা করে বলছেন, ‘‘গুড ডগ!” পরে দেখা যাচ্ছে, এক অ্যালসেশিয়ান কুকুর সুইমিং পুলে একটি রাবারের খেলনার পিছনে সাঁতার কাটছে; অথবা একটি ছোট কুকুর জলের উপর সার্ফিং করছে।