সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক
প্রকাশ : ১৭ আগস্ট ২০১৩, ২১:১৭
এ জাতি মেধাহীন হতে চায় না
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মানেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন সাধন করে দেশ ও জাতিকে স্বনির্ভর করা। অথচ আমরা দেখতে পাচ্ছি পাবলিক সার্ভিস পরীক্ষায় কোটা পদ্ধতির নামে মেধাহীনদের দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হয়। এই বৈষম্যমূলক নীতি পরিহার করতে হবে। মেধার ভিত্তিতে সকল সরকারি চাকরিতে নিয়োগ এবং প্রতিবন্ধী ব্যতীত সকল কোটা পদ্ধতি বাতিল করতে হবে। আজ মেধাবীদের বাদ দিয়ে অযোগ্যদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে দেশকে মেধাহীন করার পাঁয়তারা চলছে। যে জীবন বিলিয়ে যুদ্ধ করতে পারে তার কি কোন চাওয়া-পাওয়া থাকতে পারে? মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বিলিয়ে বৈষম্য নিরসনের জন্য যুদ্ধ করেছিল, তারা কোটার জন্য যুদ্ধ করে নাই। এই কোটা আমাদের কি দিয়েছে, যেখানে বীরশ্রেষ্ঠদের পরিবারেরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে না, সেখানে কোটার কি প্রয়োজন? তাদের জন্য প্রয়োজনে বাজেট ঘোষণা করে অর্থ বরাদ্দ দিন। বর্তমান কোটা পদ্ধতিতে মেধার অবমূল্যায়নকে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে মেধাহীন করার ষড়যন্ত্রের ডিজিটাল রূপ বলে আমি মনে করি।
ফয়জুল্লাহ ওয়াসিফ তালুকদার
২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টার,
ব্যবসা প্রশাসন বিভাগ,
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
০০০০০
‘পিএসসি’ মেধাবীরা যেখানে বঞ্চিত!
কোটা পদ্ধতির কারণে মেধাবীরা বঞ্চিত হচ্ছে। যেখানে একজন সাধারণ মেধাধারী শিক্ষার্থী ৭৫ থেকে ৮০ পেয়েও পরীক্ষায় ঠিকতে পারে না, সেখানে ৫০ থেকে ৫৫ পেয়ে একজন কোটাধারী কেমন করে টিকতে পারে? কোটার মাধ্যমে দেশের মেধাশক্তিকে অবমূল্যায়ন করা হচ্ছে এবং দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায়। আশাকরি সরকার ও পিএসসি কর্তৃপক্ষ দেশের স্বার্থে অচিরেই এই কোটা পদ্ধতি বাতিল করবে। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তারা এদেশকে ভালবেসে, দেশকে রক্ষা করতে যুদ্ধ করেছিল। কিন্তু সরকার তাদের মর্যাদাকে হেয় করার জন্য এই কোটা পদ্ধতি চালু করেছে। ভাবতেই অবাক লাগে সরকারি চাকরিতে শতকরা ৫৬ ভাগ কোটা। এদেশে কি মেধাবীদের এতই অভাব যে সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের অবস্থান মাত্র ৪৪ ভাগ, সেটাও সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা সন্দেহের অবকাশ রাখে।
সারওয়ার হোসাইন
রাজনীতি অধ্যয়ন বিভাগ,
শাহজালাল বিজ্ঞান ও
প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট
০০০০০
কোটা অভিশাপ থেকে মুক্তি চাই
বিসিএসসহ সকল সরকারি চাকরিতে কোটা প্রয়োজন কিনা এটা নিয়ে আরো ভাবতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেখানে কোটা চায় না সেখানে কোটা পদ্ধতির আসলেই কি প্রয়োজন আছে? দেশে একটা সময় ছিল যখন পশ্চাত্পদ জনগোষ্ঠীর জন্য কোটা প্রয়োজন দেখা দিয়েছিল কিন্তু এখন আর সেই সময় নাই। এখন সবাই সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে যাতে করে কোটা পদ্ধতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মেধাবীরা। যদি একান্তই কোটার প্রয়োজন হয়ে থাকে তবে তার পরিমাণ হবে শতকরা দশ থেকে পনের ভাগ। তাও প্রতিবন্ধী ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য, নাতি-নাতনীদের জন্য কোটা পদ্ধতির কোন অবকাশ নেই। কোটা পদ্ধতির অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করার এখনই উপযুক্ত সময়।
তুহিন ব্যাপারী
বৃন্দাবন সরকারি কলেজ,
হবিগঞ্জ
০০০০০
কোটা পদ্ধতি বাতিল করতে হবে
বৈষম্য নিরসনের জন্য জাতি মুক্তিযুদ্ধসহ সকল আন্দোলন করেছিল কিন্তু কি সুফল জাতি ভোগ করছে। যে বৈষম্য থেকে জাতি মুক্তি চেয়েছিল সেই বৈষম্যই রয়ে গেল। সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে শিক্ষার্থীরা মাঠে নেমে পড়েছে। অন্দোলন চলবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত। বিসিএসসহ সকল সরকারি চাকরিতে আশাকরি সরকার ও পিএসসি কর্তৃপক্ষ দেশের স্বার্থে অচিরেই এই কোটা পদ্ধতি বাতিল করবে।
নায়েল ইসলাম
ব্যবসা প্রশাসন বিভাগ,
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি,
সিলেট