দিবস

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দিবস

আজ ১৮ আগস্ট বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ৫৩তম প্রতিষ্ঠা দিবস। কৃষি কৃষ্টির মূল। মানব জীবনের অস্তিত্বকে অর্থবহ করতে কৃষি আজ অবধি আমাদের প্রধান অবলম্বন। বাংলাদেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা কৃষিকেন্দ্রিক। কৃষিকে বাদ দিয়ে আমাদের জাতীয় উন্নয়ন সম্ভবপর নয়। বাংলাদেশের কৃষি সংস্কৃতিতে আধুনিকতার ছোঁয়া দিয়ে একটি শক্তিশালী আর্থ-সামজিক অবকাঠামো উপহার দেয়ার লক্ষ্যে ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট যাত্রা শুরু করেছিল দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কৃষি শিক্ষার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ববৃহত্ বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। অনেক চড়াই-উতরাই আর বাধা পেরিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি আজ স্ব-মহিমায় সমুজ্জ্বোল এবং জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানের সেশনজটবিহীন আধুনিকমানের শিক্ষা পদ্ধতি, উচ্চতর ও লাগসই কৃষি প্রযুক্তি-গবেষণা মিলে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি এখন পরিণত হয়েছে ‘দি সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ এ। ময়মনসিংহ শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার দক্ষিণে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পশ্চিম প্রান্তে ১২৩০ একর এলাকা নিয়ে গড়ে উঠেছে নয়নাভিরাম চিরসবুজে ঘেরা এ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের আওতায় ৪৩টি বিভাগের তত্ত্বাবধানে শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্বারক ভাস্কর্য দৃষ্টিনন্দন ‘বিজয়’৭১’, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক ‘মরণ সাগর’, ভাষা শহীদদরে স্মরণে নির্মিত সুউচ্চ ‘শহীদ মিনার’ এবং ‘বঙ্গবন্ধু স্মৃতিচত্বর’ যেখানে এসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কৃষিবিদদের প্রথম শ্রেণীর পদমর্যাদা করার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছিলেন। জার্মপ্লাজম সেন্টার তথা জীবন্ত ফল জাদুঘর, দেশের একমাত্র কৃষি জাদুঘর, ফিশ মিউজিয়াম এন্ড বায়োডাইভার্সিটি সেন্টার তথা মত্স্য জাদুঘর, বোটানিক্যাল গার্ডেন, প্লান্ট ডিজিজ ক্লিনিক, বৃহদাকার এক গম্বুজ বিশিষ্ট আকষর্ণীয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, ভেটেরিনারি ক্লিনিকসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছে নতুন মাত্রা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধেও রয়েছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। সে সময় এ বিশ্ববিদ্যালয় হারিয়েছিল তার ১৮ বীর সন্তানকে। এখানে নেই সেশনজটের দুর্বিষহ যন্ত্রণা, আছে পড়ালেখা করার উপযুক্ত ও মনোরম এক পরিবেশ, রয়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মাঝে চমত্কার আন্তরিকতাপূর্ণ সম্পর্ক। দেশের বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা সর্বাগ্রে। আপামর কৃষক ও দেশবাসী অধীর আগ্রহে তাকিয়ে থাকে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা অগণিত কৃষিবিদদের কর্মদর্শনের উপর। দেশ-বিদেশের নামকরা বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা গ্রাজুয়েটরা অত্যন্ত সুনামের সহিত কাজ করে যাচ্ছে। কৃষিবিদদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশের কৃষিখাতের উন্নতি আজ দৃশ্যমান। আর কৃষিবিদদের কল্যাণেই বাংলাদেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংস্পূর্ণতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে। খাদ্য নিরাপত্তা নামে যে ইস্যুটি বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারাবিশ্বে শোনা যাচ্ছে সেক্ষেত্রে এ বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রণী ভূমিকা পালনে সদা তত্পর রয়েছে। দেশে ইতোমধ্যে আরো বেশ কয়েকটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠলেও, এটিই বাংলাদেশে উচ্চতর কৃষিশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে আজ অবধি প্রধান ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। কৃষি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির ধারার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আগামী দিনগুলোতে জাতির মাথা আরও সমুন্নত করবে সকলের এটাই প্রত্যাশা। শুভ হোক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম প্রতিষ্ঠা দিবস এবং তার আগামী দিনের পথচলা। লেখক :সাংবাদিক