সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক

চাই কোটা সংস্কার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলছি, আপনি এদেশের প্রধানমন্ত্রী আপনি সকল মানুষের প্রধানমন্ত্রী আপনি দেশের সকল ধর্ম, বর্ণ, জাতির মধ্য থেকে বৈষম্য দূর করতে পারেন। প্রয়োজনে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানি ভাতা বৃদ্ধিসহ অন্য সুবিধা প্রদান করে সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, নারী কোটা ও জেলা কোটা কমিয়ে শিক্ষার বৈষম্য দূর করে শিক্ষিত জাতিকে এক সারিতে দাঁড় করাতে পারেন। শিক্ষার এই বৈষম্যের কারণে যেন শিক্ষিত জাতির মধ্যে কোন রকম দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি না হয় সেই রকম পদক্ষেপ আপনার কাছ থেকে আমরা সর্বাত্মক প্রত্যাশা করি। মো. মোস্তফা কামাল বি.বি.এ (অনার্স), তৃতীয় বর্ষ, হিসাববিজ্ঞান বিভাগ, চাঁদপুর সরকারি কলেজ, চাঁদপুর কোটা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা জরুরি বেশ কয়েকদিন আগে রাজধানীর শাহবাগে বিসিএস পরীক্ষায় কোটা ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে বড়সড় একটা আন্দোলন হয়ে গেল। এটাকে শুধু একটা আন্দোলন হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বহু বছরের সঞ্চিত যন্ত্রণার বহিঃপ্রকাশ এই আন্দোলন। যাদের দ্বারা এই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে তাদের সন্তানেরা চাকরির ক্ষেত্রে একটা বাড়তি অগ্রাধিকার পাক এটা আমিও মানি। তবে তারও একটা সীমা থাকা দরকার। সেটা বড়জোড় ৫-১০% হতে পারে, এটা গ্রহণযোগ্য। কিন্তু ৩০% পুরোপুরিই অগ্রহণযোগ্য। আর এতে যে দেশের সাধারণ পরিবারগুলোর লাখো লাখো মেধাবী মুখ সরকারি চাকরি হতে বঞ্চিত হচ্ছে সেটাও কষ্ট। তাই কোটা ব্যবস্থা বহাল রেখে এই ব্যবস্থার ভেতর কিছু পরিবর্তন আনতে হবে। প্রথমত, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য সবধরনের সরকারি চাকরিতে কোটার পরিমাণ নামিয়ে ১০% এ আনতে হবে। দ্বিতীয়ত, এই কোটা ব্যবস্থার মাধ্যমে সত্যিসত্যিই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও আদিবাসী সম্প্রদায় চাকরি পাচ্ছে কিনা সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ আমাদের দেশে এই কোটা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে রমরমা বাণিজ্য চালায় বিভিন্ন সিন্ডিকেট। তাই উপরোক্ত দুটি বিষয়ে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেয়া হলে আশা করা যায়, এই কোটা পদ্ধতি নিয়ে আর কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হবে না। সৌরভ দাস বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছুক, সিলেট সরকারি চাকরিতে কোটা বিতর্ক আর নয় খেটে খাওয়া দিন মজুরও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন আবার কলেজের প্রফেসরও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। এই বলে খেটে খাওয়া দিন মজুর মুক্তিযোদ্ধাকে কলেজের প্রফেসর করে দিলে কি দেশ চলবে। তবে তাদেরকে অবশ্যই প্রকৃত সম্মান ও পাওনা দিতে হবে। তাদের ছেলে-মেয়েদের প্রয়োজনে বংশপরম্পরায় এমন এক সম্মানী দিতে হবে যাতে করে কোটা ব্যবস্থার সুযোগ নিতে গিয়ে আরেকটি সমস্যার সৃষ্টি না হয়। যেভাবে প্রকৃত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হচ্ছে, তেমনিভাবে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদেরও সম্মান রাখতে হবে। কোটা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো যেন কোন ধরনের সুযোগ না নিতে পারে এবং নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধের ব্যবস্থা করে প্রকৃত মেধাবীদেরকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। মোহাম্মদ এহিয়া মিরপুর ল কলেজ, মিরপুর, ঢাকা সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে যোগ্যতাই হোক প্রধান স্বাধীনতার ৪২ বছর পর কোটা থাকা মানে জাতির সাথে ছেলে খেলা এবং বেঈমানী ছাড়া আর কিছুই নয়। কোটা ব্যবস্থা বলতে সাধারণত একশ্রেণির অনগ্রসর লোকদের অগ্রসরের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কোটা পদ্ধতির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায় যাদের জন্য কোটা দরকার তারা না পেয়ে পাচ্ছে অন্যরা, এ কোটা পদ্ধতি তাদের জন্য দরকার যারা চলতে ফিরতে পারে না। যাদের বলা হয় প্রতিবন্ধী। কিন্তু এ সকল মেধাবী মেধার সঠিক মূল্যায়ন পাচ্ছে না, আর এ কোটার মাধ্যমে যারা সরকারের বিভিন্ন মহলে নিয়োগ পাচ্ছে তাদের দ্বারা অন্যায় ছাড়া ন্যায় কোন কিছু পাওয়া যাবে না। তাই সর্বোচ্চ চাকরি ক্ষেত্রে অন্তত কোটা প্রত্যাহার করে যোগ্য ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেয়া উচিত। মেধাকে টাকার পিছু না ছুটে তাই আমি দাবি করি অবিলম্বে বিসিএসসহ সকল চাকরি ক্ষেত্রে কোটা প্রত্যাহার করে যোগ্য ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া হউক এবং সময়ের সাথে সাথে নাগরিক সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা দেয়া হউক। অমিতাভ কুমার ডি,এইচ,এম,এস, ৪র্থ বর্ষ ফেডারেল হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, ঢাকা ১২১৫