রাজনীতি

রাজনীতিবিদদের জনগণের হূদয়ে প্রবেশ করতে হবে

চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ হেরে যাবার পর আওয়ামী লীগের ভোট দুর্গ নামে পরিচিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ পরাজিত হল। যে সমস্ত সিটি কর্পোরেশনে পূর্বে আওয়ামী লীগের মেয়র ছিলেন তারা তাদের নিজ নিজ এলাকায় ব্যাপক উন্নতি সাধন করেও তারা যে নির্বাচনে হেরে গেলেন তার প্রধান কারণ হল জাতীয় ইস্যুতে আওয়ামী লীগের কিছু বদনাম ও ব্যর্থতা রয়েছে। শেয়ার কেলেঙ্কারীর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সঠিক ব্যবস্থা নিতে পারেনি। আওয়ামী লীগ এ ব্যাপারে জনগণকে তাদের অবস্থান সুস্পষ্ট করে বুঝিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। এটার প্রতিকার ব্যবস্থা নেবার সময় এখনো আছে। হলমার্ক দুর্নীতির ব্যাপারে সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে পারেনি এবং জনগণকে এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট ও আস্থা অর্জনমূলক কোন বক্তব্য দিতে পারেনি। এটার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে। এ সমস্ত অভিযোগ আওয়ামী লীগ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খন্ডাতে না পারলেও এদেশের জনগণের বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার উপর আস্থা আছে এবং এই আস্থা আছে বলেই আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা বাংলাদেশের হূদয়ে এখনো আছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরো আন্তরিক হয়ে জনগণের হূদয়ে স্থায়ীভাবে স্থান করে নিতে হবে। হেফাজতের ঘটনাকে অনেক রূপ দিয়ে ইসলাম-বিরোধী কাজ বলে প্রচারণা করে আওয়ামী লীগকে ইসলাম বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কুত্সা রটনা হলো যে আওয়ামী লীগ ইসলাম-বিরোধী। এই কুত্সা সকলে বিশ্বাস না করলেও বেশ কিছু লোক বিশ্বাস করেছে। বিশেষ করে ৫ সিটি কর্পোরেশনের মহিলা ভোটারদের একটা বড় অংশ এই কুত্সা বিশ্বাস করেছে। শাহবাগের ঘটনায় কিছু সংখ্যক ব্লগারের ফেসবুকে ইসলাম ও রসুল (স.) সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যকেও আওয়ামী লীগের ইসলাম বিরোধিতা হিসাবে প্রচার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আওয়ামী লীগ হলো শতকরা একশ’ ভাগ ইসলামপ্রিয় দল। একথা আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা জনগণকে বুঝাতে পারছে না কেন? বিশেষ করে মা-বোনদের কেন বুঝাতে পারছে না যে প্রকৃত ইসলামপ্রীতি আওয়ামী লীগেই আছে। এটা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ব্যর্থতা। যে সমস্ত ব্লগার ইসলাম ও রসুল (স.)-এর বিরুদ্ধে ব্লগে লিখেছে তাদের শাস্তি দেবার উদ্দেশ্যে সরকার তাদের গ্রেফতার করেছে। আওয়ামী লীগ যেমন নিজ ধর্ম ইসলামের প্রতি খুবই অনুকূলে অপরদিকে এই বৃহত্ দলটি স্বাধীনতার চেতনায় ধর্ম নিরপেক্ষ নীতিতে বিশ্বাসী। অন্য ধর্মের জনগণের ধর্ম-কর্ম করার অবাধ সুযোগ এই দলটি দিতে খুবই আগ্রহী। যারা কুত্সা রটায় তাদের সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মা-বোনদের কানে পৌঁছে দিতে হবে যে আওয়ামী লীগই ইসলামকে ভালবাসে, ইসলামী কর্মকাণ্ড বেশি করে। নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত আওয়ামী লীগের লোকেরাই বেশি করে। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যে সমস্ত প্রপাগান্ডা আছে তা খন্ডন করে শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত উদ্যোগে জনতার কাছে বক্তব্য রাখা। বিশেষ করে মা-বোনদের কাছে এই বক্তব্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ দিয়ে মানুষ শুনতে চায়। যেহেতু শেখ হাসিনার উপর জনগণের আস্থা আছে। গাজীপুর নির্বাচন সম্পর্কে দু’এক কথা বলতে হয়। গাজীপুর নির্বাচনে এরশাদ তার দলকে আগেই বিএনপির সমর্থনে কাজ করতে নামিয়ে দিয়েছেন। অথচ প্রচারণা শেষ হবার কয়েক ঘন্টা আগে এরশাদ সংবাদ সম্মেলন করে খালি হাতে আওয়ামী লীগের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন। এটা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর কোন কাজে আসেনি। এরশাদের এই কাজটি একটি মোনাফেকী। শেখ হাসিনাকে মোনাফেকদের সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। মোনাফেকদের সম্পর্ক ত্যাগ করতে হবে। মহাজোটের অন্য শরীকদের ন্যায্য পাওনা, ন্যায্য দাবি পূরণ করে মহাজোটকে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী করতে হবে। এরশাদ যদি মহাজোট ছেড়ে যায়, তাকে চলে যেতে দেয়া উচিত। মহাজোট সরকারের উন্নয়ন মূলত কাজের দিকে জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। কৃষির উন্নতি, বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল। শিক্ষা উন্নতি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এসবের প্রতি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। বিশেষ করে বিদ্যুতের বিশাল উন্নতি হয়েছে। আওয়ামী লীগের যে সমস্ত দুর্নাম আছে তার প্রতিকারে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিতে হবে। জনগণের ইচ্ছা আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হবে। লেখক :সাবেক ব্যাংকার ও ছাত্রনেতা