নি র্বা চ ন
ইসির প্রস্তাবিত নির্বাচনী সংস্কার
প্রকাশ : ২১ আগস্ট ২০১৩, ২২:০০
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (আরপিও) সংশোধনের লক্ষ্যের আইন মন্ত্রণালয় প্রেরিত নির্বাচন কমিশনের প্রস্তাবাবলী, এমনকি কমিশনকে নিয়ে বর্তমানে সারাদেশে ব্যাপক আলাপ-আলোচনা চলছে। বিশেষত কমিশনের প্রস্তাবিত গুরুতর অসদাচারণের দায়ে প্রার্থিতা বাতিল সম্পর্কিত ৯০ই ধারা বাতিলের বিরুদ্ধে নানা মহল থেকে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। কিন্তু কমিশনের প্রস্তাবে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে, যাও আলোচনার দাবি রাখে। কারণ যথাযথ আইনি কাঠামো ছাড়া সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আশা করা যায় না। এছাড়া নির্বাচনী আইনের যথার্থতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কার্যকারিতার জন্যও অপরিহার্য।
প্রস্তাবিত খসড়ায় কমিশন আরপিও’র ৪১টি ধারায় ছোট-বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে। এর মধ্যে ছয়টি প্রস্তাব সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। মোটা দাগে প্রস্তাবগুলো হলো:
(১) ব্যালট পেপারে ‘মার্কিং’ করে ভোট দান: বিদ্যমান আইনে ব্যালট পেপারে সিল মেরে তা ব্যালট বাক্সে পুরতে হয়। প্রস্তাবিত আইনে সিল মারার পাশাপাশি ভোটারকে ব্যালট পেপারে মার্কিং করে তা ব্যালট বাক্সে ঢুকাতে হবে। কিন্তু কেন এ পরিবর্তন? অনেকের আশঙ্কা যে, নিরক্ষর ভোটারদের জন্য এ পরিবর্তন সমস্যার সৃষ্টি করবে। মানুষ সিল মেরে ভোট দিতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে, তাই এ পরিবর্তনের সুপারিশ পুনঃবিবেচনা করা আবশ্যক। এছাড়াও এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
(২) নির্বাচনে ব্যয়সীমা বৃদ্ধি: আরপিও’র প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নির্বাচনী ব্যয় বর্তমানের ১৫ লাখ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকাতে বৃদ্ধি করা হয়েছে। অবাস্তব বলে মনে হলেও, আমরা মনে করি যে, ব্যয়সীমা বরং কমানো উচিত। কারণ এটি একদিকে সাধারণ মানুষের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক, আরেক দিকে এর মাধ্যমে নির্বাচনে বিরাজমান টাকার খেলার অবসান হবে না। আমরা মনে করি যে, টাকার খেলাই আজ আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। তাই নির্বাচনে টাকার প্রভাব বন্ধ করার জন্য আজ জাতি হিসেবে আমাদেরকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। কমিশন অবশ্য নির্বাচনী ব্যয় মনিটরিং করার বিধান আইনে অন্তর্ভুক্ত করেছে। আশাকরি, কমিশন নিবিড়ভাবে মনিটরিংয়ের কাজটি করবে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের রিপোর্ট, ফরেনন্সিং একাউন্টিং পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে, গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে। আমাদের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কলুষমুক্ত ও কার্যকর করতে হলে আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকেও এ ব্যাপারে এগিয়ে আসতে হবে।
(৩) দণ্ডের বিধানে পরিবর্তন: আরপিওর প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নির্বাচনী বিধিবিধান ভঙ্গের জন্য শাস্তির পরিমাণ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কারাদণ্ডের পরিবর্তে অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে, যার ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযোগ নিস্পন্ন করা যাবে। কিন্তু নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার সীমিত (সর্বোচ্চ ২ বছরের কারাদণ্ড) এবং অতীতে দেখা গিয়েছে যে, তারা অপরাধীদেরকে সাধারণত সামান্য অর্থদণ্ড দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেন। তাই গুরুতর নির্বাচনী অপরাধের জন্য অভিযুক্তরা লঘুদণ্ড ভোগ করে পার পেয়ে যেতে পারেন, যা অপরাধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়া থেকে তাদেরকে বিরত রাখবে না। এছাড়াও বাংলাদেশের বর্তমান চরম দলীয়করণের সংস্কৃতিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিরপেক্ষভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা ও সুযোগ প্রায় অনুপস্থিত। ফলে অনেক ক্ষেত্রে অবিচার ও পক্ষপাতিত্ব হতে পারে।
(৪) স্বতন্ত্র প্রার্থী সম্পর্কে পরিবর্তন: বিদ্যমান আইনে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চাইলে তাকে এক-শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে। সাবেক এমপিদের ক্ষেত্রে অবশ্য এ বিধান প্রযোজ্য নয় এবং তারা এ তালিকা দাখিল না করেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন। তবে কমিশনের প্রস্তাব আইনে পরিণত হলে নিবন্ধিত দল তাদের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে ও প্রত্যাহার করতে পারবে। এছাড়াও দলের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেওয়া হলে দলের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে মনোনয়নপ্রাপ্ত ও দলের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে জমা দেওয়া প্রাথমিকভাবে মনোনয়ন দেওয়া অন্য সব প্রার্থীর প্রার্থিতা আপনা থেকেই বাতিল হয়ে যাবে। ফলে একবার দলের মনোনয়ন চাইলে সাবেক সংসদ সদস্যরাও আর স্বতন্ত্র সদস্য হিসেবে নির্বাচন করতে পারবেন না, যা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার- কারো কারো মতে মৌলিক (সংগঠন করার) অধিকার হরণের শামিল।
(৫) দলের বিদ্রোহী প্রার্থী সম্পর্কিত বিধানে পরিবর্তন: দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে কোনো ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থী বলা হয়। বিদ্যমান আইনেও বিদ্রোহী প্রার্থীর ওপর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, তবে বর্তমান কমিশনের প্রস্তাবিত আইনে এই নিয়ন্ত্রণ আরও পাকাপোক্ত করা হয়েছে। পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, কমিশন কর্তৃক প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নিবন্ধিত দলের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মনোনয়নপত্র জমা ও প্রত্যাহারের এখতিয়ার দলকে প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও দল কর্তৃক প্রাথমিকভাবে মনোনীত এবং দলের প্রত্যয়নপত্র নিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের কেউই বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পাবেন না, এমনকি সাবেক এমপিরাও না। কারণ দলের পক্ষ থেকে দলের মনোনীত চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম রিটার্নিং অফিসারের কাছে পাঠালে, দলের প্রাথমিকভাবে মনোনীত অন্য এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র আপনা থেকেই প্রত্যাহার হয়ে যাবে।
এ ধরনের বিধান দলীয় মনোনয়ন প্রদানের ক্ষেত্রে দলীয় প্রধানদের নিরঙ্কুশ ক্ষমতা প্রদান করবে এবং তারা যেকোনো বসন্তের কোকিলদেরকে মনোনয়ন প্রদান করতে পারবেন। কারণ গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশে দলের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের দ্বারা তৈরি প্রার্থীদের প্যানেল থেকে মনোনয়ন প্রদানের বাধ্যবাধকতা বর্তমান সংসদ অধ্যাদেশটি অনুমোদনের সময় পরিবর্তন করে সেই প্যানেল বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়ন প্রদানের বিধান করে। মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় এ ধরনের বাধ্যবাধকতা বিসর্জনের ফলে দলীয় প্রধানদের চরম স্বেচ্ছাচারী হবার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, যা সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে নিতান্ত আপনজন ছাড়া আর সবার মধ্যেই চরম নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করবে। এমন পরিস্থিতি একদিকে মনোনয়ন বাণিজ্যের প্রসার ঘটাবে, অন্যদিকে প্রধান দুটি দলে বিদ্রোহের বীজ বপিত হবে, যা আমাদের দেশে তৃতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের ব্যাপারে অনুঘটকের ভূমিকা পালন করতে পারে।
(৬) প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা: গত ২৫ জুলাই নির্বাচন কমিশন মন্ত্রণালয় প্রেরিত সংশোধনীতে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা সম্বলিত আরপিওর ধারা-৯১ই সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর তিনদিন পর ২৮ জুলাই কোনো এক অজ্ঞাত কারণে—যদিও এ ব্যাপারে বাজারে অনেক গুজব রয়েছে—কমিশন পুরো ধারাটিই বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। আমাদের জানামতে, কোনো মহল থেকেই এটি বাতিলের দাবি ওঠেনি। তাই কমিশনের সিদ্ধান্তটি সন্দেহের উদ্রেক না করে পারে না।
প্রবল সমালোচনার মুখে গত ৩০ জুলাই কমিশন তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পেছনের যুক্তি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রকাশ করে। কমিশনের প্রথম যুক্তিটি হলো যে, এটি ‘আনফেয়ার’ বা বৈষম্যমূলক। দুইজন প্রার্থীর মধ্যে চরম অসদাচরণের দায়ে একজনের প্রার্থিতা বাতিল হলে আবার তফসিল ঘোষণা করে পুনঃনির্বাচনের ব্যবস্থা করলে, যে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়নি, তাকে বিনা অপরাধে গুরুদণ্ড দেওয়া হবে। দুর্ভাগ্যবশত, এ ধরনের বৈষম্য আরপিওতে আরও রয়েছে। যেমন, কোনো বৈধ প্রার্থী মৃত্যুবরণ করলে নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের বিধান ধারা-১৭তে রয়েছে। একমাত্র পার্থক্য হলো যে, একটি সৃষ্টিকর্তা সৃষ্ট, আরেকটি মানবসৃষ্ট ঘটনা। এছাড়াও নির্বাচনী ব্যয়সীমা ১৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ করাও সাধারণ নাগরিকের প্রতি চরম বৈষম্যমূলক।
নির্বাচন কমিশনের আরেকটি যুক্তি হলো যে, বিধানটি আরপিও’র ধারা-১৯ এর সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ। ধারা-১৯ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের পর একজন মাত্র বৈধ প্রার্থী অবশিষ্ট থাকলে তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত বলে ঘোষণা করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত, আরপিওতে এ ধরনের আরও অসঙ্গতি রয়েছে। যেমন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এক-শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকা সংযুক্ত করতে হয়। কিন্তু ভোট প্রদান একটি গোপনীয় বিষয়। বস্তুত, আরপিওর ধারা-৮২ ও ৮৩ অনুযায়ী, ভোট প্রদানের গোপনীয়তা ভঙ্গ করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়াও, স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ব্যাপারে বাধা-নিষেধ এবং দলের বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ন্ত্রণে কঠোরতা নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে খর্ব করে।
কমিশনের অন্য একটি যুক্তি হলো যে, ধারা ৯১ই কোনোদিন প্রয়োগ হয়নি এবং প্রয়োগ করা যাবেও না। ধারাটি প্রয়োগ করা হয়নি বলে, এটি ভবিষ্যতে প্রয়োগ করা হবে না, এটি একটি খোঁড়া যুক্তি। এটি ব্যবহারের হুমকিই হল একটি ‘ডেটারেন্ট’ বা নিরোধক। এই ধারাটি আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করার পর ২০০৮ সাল থেকে আমাদের নির্বাচনগুলোতে সহিংসতা বলতে গেলে অনুপস্থিত। গত জাতীয় নির্বাচনে একজনও মারা যায়নি, সাম্প্রতিক পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একজন ব্যক্তিরও প্রাণহানি ঘটেনি। পক্ষান্তরে পশ্চিম বাংলার সাম্প্রতিক পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৩৯ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে আমরা শুনেছি।
কমিশনের আরও যুক্তি হলো যে, অন্যায় আচরণের জন্য শাস্তি বিধানের কাজটি তারা বিচার বিভাগের ওপর ছেড়ে দিতে চায়। নির্বাচনী বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আমাদের বিচার বিভাগের কার্যক্রম চরম হতাশাব্যঞ্জক। নিকট অতীতের কোনো নির্বাচনী বিরোধের মামলাই সংসদের মেয়াদ শেষের আগে নিস্পন্ন হয়নি। তাই ধারা ৯১ই বাতিল করলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী আইন ভঙ্গের প্রবল প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে পর্বতপ্রমাণ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এছাড়াও বিচার বিভাগকেই যদি দায়িত্ব দিতে হয়, তাহলে কমিশনের প্রয়োজনীয়তাই বা কেন? উপরন্তু, মনে রাখা প্রয়োজন যে, নির্বাচন কমিশন একটি আধা-বিচারিক প্রতিষ্ঠান।
অনেকেরই স্মরণ আছে যে, ৯১ই ধারাটি ২০০১ সালের তত্ত্বাবধাযক সরকারের আমলে একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে আরপিওতে সংযোজিত হয়। পরবর্তীতে রাজনৈতিক দলগুলো একাট্টা হয়ে এটি বাতিল করায়। এরপর ২০০৮ সালে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে এটি আবার আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তাই এ কষ্টার্জিত অর্জনকে কমিশন কেন বিসর্জন দিতে চাইছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। এছাড়াও এটি বাতিলের ফলে কমিশন ঠুঁটো জগন্নাতে পরিণত হবে বলে আমাদের আশঙ্কা। উপরন্তু মাত্র চার মাস আগে চূড়ান্ত করা উপজেলা নির্বাচনী বিধিমালায় কমিশন এই বিধানটি বাতিল করেনি। এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে কমিশন নিজেদের সম্পর্কে একটি অহেতুক বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। এর মাধ্যমে সরকারেরও বদনাম হচ্ছে। আর কমিশন সম্পর্কে সৃষ্ট বিতর্কের দ্রুত অবসান না হলে আগামী নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে যাবে।
পরিশেষে, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য একটি যথাযথ আইনি কাঠামো প্রণয়ন আবশ্যক। কমিশন যে পরিবর্তনগুলোর প্রস্তাব করেছে সেগুলো ছাড়াও সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের খাতিরে আরও কিছু বিষয় আরপিওতে সংযোজিত হওয়া আবশ্যক। আরপিওর সম্ভাব্য সংশোধনীগুলো সকল স্বার্থসংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে সম্পন্ন করা সমীচীন বলে আমরা মনে করি। তাই আমরা আশা করবো যে, নির্বাচন কমিশন সংক্ষিপ্ত আকারে হলেও, এ ধরনের একটি প্রক্রিয়া ব্যবহার করে তাদের প্রস্তাবিত আরপিও সংশোধনীগুলো আবার পুনঃবিবেচনা করবে। একই সঙ্গে কমিশন আইনগুলো কঠোরভাবে প্রয়োগের উদ্যোগ নেবে।
লেখক :সমপাদক, সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিক