শিক্ষা বিভাগে অনিয়ম কাম্য নয়
প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০১৩, ২১:৩১
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) এমপিও কেলেঙ্কারিতে ১০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী জড়িত থাকার প্রমাণ পাইয়াছে এই সংক্রান্ত অভিযোগ অনুসন্ধানে গঠিত কমিটি। এজন্য কমিটি এমপিওভুক্তির কাজে মনিটরিং ব্যবস্থা বাড়ানো ও কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থাসহ পাঁচ দফা সুপারিশ করিয়াছে। অভিযুক্তদের ঘুষ দিয়া এমপিওভুক্ত হইয়াছেন ২৮৩ জন স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষক। তদন্ত প্রতিবেদনে তাহাদের প্রত্যেকেরই এমপিও বাতিলের সুপারিশ করা হইয়াছে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে স্কুল-মাদ্রাসায় কর্মরত ঐসব শিক্ষককে অবৈধভাবে এমপিও দেওয়া হয়। ইহার আগে ২০০৯ সালে মে মাসেও এমপিও কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটিয়াছিল। সেই বত্সর অবশ্য মাত্র ১৭ জনকে এভাবে এমপিও দেওয়া হইয়াছিল বলিয়া জানা যায়। তখনও তদন্ত কমিটি গঠিত হইয়াছিল । কিন্তু জানা মতে সেই অনুযায়ী কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় নাই। এবার গ্রহণ করা হইবে কিনা তাহা বলা মুশকিল। কারণ বাংলাদেশে অনেক অন্যায় ও অনিয়মের প্রকৃত কার্যকারণ অনুসন্ধানকল্পে কমিটি গঠন করা হইলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তদন্ত রিপোর্ট আলোর মুখই দেখে না। তবে এক্ষেত্রে মাউশি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ এই কারণে যে, তাহারা তদন্ত কমিটি গঠন ও ইহার রিপোর্ট প্রকাশে আন্তরিকতার পরিচয় দিয়াছেন। এখন দেখার বিষয় ইহা আমলে নেওয়া হয় কিনা।
বাংলাদেশে দুর্নীতি কোন নূতন বিষয় নহে। ইহা যেন এখন আমাদের গা সওয়া হইয়া গিয়াছে। আমরা ইহাতেই অভ্যস্ত হইয়া পড়িয়াছি। আসলে আমাদের অবস্থা দাঁড়াইয়াছে ‘সর্বাঙ্গে ব্যথা ঔষধ দেব কোথা’। এই পরিস্থিতি কমবেশি সকল সেক্টরে বিরাজমান। আবার শুধু এই সরকারের আমলে নহে, বিগত সরকারগুলিও এক্ষেত্রে ধুয়া তুলসি পাতা ছিল না। এতকিছুর পরও যখনই শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বা শিক্ষা প্রশাসনের কোন অনিয়মের কথা চলিয়া আসে, তখন অধিক আতঙ্কিত না হইয়া পারা যায় না। কেননা যে সব শিক্ষক অনিয়মের আশ্রয় নিয়া সরকারি সুবিধাদি লইয়াছেন, তাহারা অন্যকে কী শিক্ষা দিবেন তাহাই ভাবিবার বিষয়। তাহারা কি সত্যিকারার্থে মানুষ গড়ার কারিগর হইতে পারেন? তাহাদের দ্বারা জাতির মেরুদন্ডেরই বা কী অবস্থা হইবে? তবে কথার পিঠেই কথা আসিয়া যায়। শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা এই দেশে আজকাল যে হারে বাড়িতেছে তাহা এক কথায় উদ্বেগজনক। এমতাবস্থায় কোনমতে একটা চাকরি পাওয়াই দুষ্কর হইয়া পড়িয়াছে। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতার চাকুরি পাইলেও যদি বেতন-ভাতার সরকারি অংশ এমপিও (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) পাওয়া না যায়, তাহা হইলে সেসব শিক্ষকের সংসারে অভাবের অজগর দেখা দেয় এবং ইহাতে দুশ্চিন্তার সীমা থাকে না। কেননা এমন অনেক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রহিয়াছে, যাহারা নিজস্ব তহবিল ও আয়-ইনকাম হইতে শিক্ষকদের পর্যাপ্ত বেতন-ভাতা দিতে পারে না। তাহাদের জন্য এমপিও পাওয়াটা জরুরিও বটে। অন্যদিকে সরকার আর্থিক অসংগতির কারণে সবাইকে এই সুবিধাও দিতে পারে না। ফলে এমপিও প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় দুর্নীতির জন্ম নেওয়াটা অস্বাভাবিক নহে।
অনেক সময় দেখা যায়, নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে সম্পূর্ণভাবে এমপিওভুক্ত করিতে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষ হইতে শুরু করিয়া ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি পর্যন্ত এমন কেহ নাই যাহারা এ ব্যাপারে চেষ্টা-তদবির করেন নাই। বলাবাহুল্য, ইহারই সুযোগ লইয়া থাকেন একশ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী। তাহার পরও আমাদের এই ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও সরব ও সোচ্চার হইতে হইবে। গড়িয়া তুলিতে হইবে প্রতিরোধ। তাই মাউশিকে এমপিও কেলেঙ্কারির লাগাম অবশ্যই টানিয়া ধরিতে হইবে।