রাজনীতি
দাঁড়াবার পা কোথায়
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০১৩, ২২:১৫
চুল নিয়ে টানাটানির কথা শুনে হানাহানির আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তিনি একচুলও নড়বেন না, উত্তরে বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন আন্দোলনের বাতাসে চুল উড়ে যাবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে দু’দলের অনড় অবস্থান ভাবিয়ে তুলছে আমাদেরকে। আমরা কোন ঢেঁকি গিলব সেটাই এখন দেখার বিষয়— তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই নাকি সরকারের অধীনে। এ প্রসঙ্গে অনেকেরই জানা একটি গল্প মনে পড়লো : একটি মেয়ে তার স্বামীকে নিয়ে বাবার বাড়ি বেড়াতে এলো। বাবা একদিন তার কন্যাকে ডেকে বললেন জামাই বাবাজি তার সাথে কোনো কথা বলে না এটা খুব পীড়াদায়ক, সম্মানে বাধে। মেয়েটি ঘরে গিয়ে জামাইকে প্রশ্ন করলো, কেন তুমি আব্বার সাথে প্রাণ খুলে কথা বলো না? এতে আব্বার বুঝি কষ্ট হয় না? জামাই সব শুনে বললো, ঠিক আছে এখন থেকেই কথা বলা শুরু করছি। সে গিয়ে তার শ্বশুরকে সালাম দিয়ে বললো, আব্বা, আমি নাকি আপনার সাথে কথা বলি না? এটা কি কোনো কথা হলো? চলেন বাইরে গিয়ে গ্রামটা ঘুরে দেখি আর দু’জন গল্প করি। শ্বশুর মহাখুশিতে জামাইয়ের সাথে হাঁটতে বের হলেন। দু’জন কথা বলতে বলতে নদীর ধার দিয়ে হাঁটছে এমন সময় জামাই জিজ্ঞেস করলো, আব্বা, এতো বড় নদী কারা কেটেছিলো? শ্বশুর উত্তর দিলেন, তা তো বলতে পারবো না, তবে জন্ম থেকেই এই নদীটা এমনই দেখছি। জামাই পুনরায় প্রশ্ন করলো, এই নদীর এতো মাটি কোথায় গেলো? শ্বশুর বিরক্তির সাথে বললেন, খাওয়া হয়েছে। জামাই উত্সাহ নিয়ে বললো, কে খেয়েছে আব্বা?
: আমি আর তোমার বাবা।
: তার মানে?
: আমি মাটি খাওয়া কাজ করেছি তোমার সাথে আমার মেয়ের বিয়ে দিয়ে, আর তোমার বাবা মাটি খাওয়া কাজ করেছে তোমার মতো ছেলের জন্ম দিয়ে।
সত্যই, আমরা মাটি খাওয়া কাজ করেছি একবার ধানের শীষে ভোট দিয়ে, একবার নৌকায় ভোট দিয়ে। বারবার এই মাটি খাওয়া কাজ করে যাচ্ছি। বুঝেও কিছু বলতে পারছি না। একেই বলে ঢেঁকি গেলা। ’৯১ সাল থেকে দেখে আসছি, যতোবার নির্বাচনের সময় হয়েছে ততোবার কঠোর আন্দোলন হয়েছে। একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে দেখতে আমরা অতিষ্ঠ। এই চর্বিতচর্বণ আর ভালো লাগছে না। সংবিধান সংশোধন করে বর্তমান সরকার যে চমক দেখাতে চেয়েছেন তা যদি ধমকের সুরে হয়, সেটা কি গ্রহণীয় হবে? সংবিধান তো সৃষ্টিকর্তা তৈরি করেননি যে এটার ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না। সংবিধান তো মানুষের জন্যই, মানুষের কল্যাণের জন্যই। সংশোধন করা এমন কোনো কঠিন কাজ নয়। কতোবারই তো এটা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন হয়েছে। আবারও হোক না যদি তাতে মানুষের কল্যাণ সাধিত হয়। তাছাড়া আদালতও রায়ে উল্লেখ করেছেন আরও দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখা যেতে পারে। আদালতের এই রায়টি মেনে নিতেও অসুবিধা থাকার কথা নয়। বর্তমান বিরোধী দল যখন ক্ষমতায় ছিলো, তারাও তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চাননি। তা হলে এখন তারা এতো উতলা কেন? গণতান্ত্রিক পদ্ধতিটাই শুরু হোক না— আমরা নতুন একটি পথে পা বাড়াতে পারবো। এসবই ঘটছে শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকা আর ক্ষমতায় যাবার লড়াইয়ে। একটি জন্মদিন কতো বিতর্কের সৃষ্টি করে তবুও সেটি ঘটা করে কেক কেটে পালন করা হয়। ষোল কোটি মানুষেরই জন্মদিন আছে এবং তাদেরকে নিয়েই তো রাজনীতি। সুতরাং সবার কথা ভাবা দরকার। অন্যকে শ্রদ্ধা করলে নিজের সম্মান বাড়ে— একথা জানার পরও নিজে কেন অসম্মানিত হতে যাবো? ভুল করে কূলহারা হলে সে-নাবিক ফুল পেলেও তুষ্ট হতে পারে না। সুতরাং চুল নিয়ে তুলকালাম ব্যাপার ঘটানোর কোনোও মানে নেই। কারণ আমরা কারো কথাতেই তুষ্ট হতে পারছি না।
লেখক: কবি ও শিশু-সাহিত্যিক