আইন-শৃঙ্খলার অবনতি

করাচিতে বুলেট প্রুফ গাড়ি কেনার হিড়িক

পাকিস্তানের ব্যস্ত নগরী করাচি দেশটির অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। শহরটিতে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ লোকের বসবাস। বড় বড় শিল্প-কারখানা, আমদানি-রফতানি প্রতিষ্ঠানসহ বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এখানে অবস্থিত। কিন্তু সন্ত্রাসী হামলা, অপহরণ, খুন-গুমসহ অপরাধের কেন্দ্রবিন্দু করাচিতে রীতিমত আতঙ্ক ও শংঙ্কার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি অনৈতিক কর্মকাণ্ড, অপরাধ প্রবণতা, সামাজিক ও জাতিগত বৈষম্য, মাদকাসক্ত ও তালেবানের বোমা হামলা এখানকার নৈমত্তিক বিষয়। গত দুই বছরে এসব ঘটনায় রেকর্ড সংখ্যক লোকের প্রাণহানি ঘটেছে। পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের হিসাবে, চলতি বছর ২০১৩ সালের প্রথম ছয় মাসে এসব ঘটনায় নিহত হয়েছে ১ হাজার ৭২৬ জন। তবে গত বছর একই সময়ে নিহতের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২১৫ জন। পাকিস্তানের সিটিজেন- পুলিশ লিয়াঁজো কমিটির হিসাব অনুযায়ী, ২০১২ সালে করাচিতে প্রায় ১৩০ জনকে অপহরণ করা হয়েছে। করাচির একজন সফল ব্যবসায়ী নাদিম খান করাচির কোরাঙ্গি শিল্প-বাণিজ্য এলাকার আইন-শৃঙ্খলা কমিটিরও প্রধান, তিনি প্রতি মুহূর্তে হুমকির শিকার হচ্ছেন। প্রশাসনিক নিরাপত্তার প্রতি তার আস্থা নেই। তিনি বলেন, করাচি এখন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক। করাচিতে পুলিশ আছে, রেঞ্জার্স আছে। কিন্তু তারা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পারে না। যে কারণে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য বডিগার্ড থেকে শুরু করে বোমা ও বুলেট প্রুফ গাড়ির দিকে ঝুঁকছেন ব্যবসায়ীরা। সামর্থবান ব্যবসায়ীরা গাড়ির সাধারণ জানালার পরিবর্তে একে-৪৭ রাইফেলের বুলেট প্রুফ গ্লাস ব্যবহার করছে, কেউবা গাড়ির চেসিস ও ইঞ্জিনকে বোম প্রতিরোধক করে নিচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করাচির ব্যবসায়ীদের উদ্বেগজনক হলেও বড় বড় গাড়ি বিক্রেতা কোম্পানি বিশেষ করে যারা বুলেটপ্রুফ ও বোম প্রতিরোধক গাড়ি বিক্রি করে তাদের জন্য অত্যন্ত ভাল সময় যাচ্ছে। পাকিস্তানের বড় গাড়ি বিক্রেতা কোম্পানির প্রধান খালিদ ইউসুফ জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে তারা এই ব্যবসা শুরু করার পর বছরে পরিধি দ্বিগুণ হয়েছে। পুরোনো ধাচের টয়োটা গাড়ি গুলোর দরজা, জানালা, বসার সিট, ইঞ্জিন সব কিছুই খুব সাধারণ যা খুব সহজেই বুলেট ও বোমার আঘাতে উড়ে যেতে যায়। নতুন মডেলের সাঁজোয়া বুলেট প্রুফ গাড়িগুলোর দরজা পুরু। এছাড়া গাড়ির চেসিস-ব্যাটারি, ইঞ্জিন সবকিছুই বুলেট ও বোমা প্রতিরোধক হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। এসব করতে ৩০ থেকে ৪৫ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হয়। যা অনেক পাকিস্তানির জন্য বিশাল খরচের ব্যাপার। কিন্তু ধনী ও আভিজাত শ্রেণী এটাকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সুবর্ণ সুযোগ ভেবে হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। ফলে এটি বড় বড় গাড়ি বিক্রেতা কোম্পানির জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে। তাদের ধারণা ছিল, এই সাঁজোয়া গাড়ি বিক্রির পরিমাণ হবে প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪টি। কিন্তু প্রথম মাসের শুরুতেই ১০টি গাড়ির মধ্যে ৭টি গাড়ি বিক্রি হয়ে গেছে। এখন তাদের প্রতি মাসে টার্গেট হচ্ছে ১৫টি গাড়ি বিক্রি করা। চাহিদা আরো বাড়বে বলে তারা প্রত্যাশা করছে। এসব গাড়ি বিক্রি করে প্রচুর লাভ হচ্ছে। তবে এই বুলেটপ্রুফ গাড়ির পক্ষে কখনোই পুরোপুরি নিরাপত্তা দেয়া সম্ভব নয়। যার প্রমাণ গত মাসে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির নিরাপত্তা প্রধান বিলাল শেখ নিহত হওয়া ঘটনা।