যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সিরিয়ার পাল্টা হুঁশিয়ারি
সিরিয়ার বিষাক্ত গ্যাস হামলার স্থলে তদন্তের অনুমতি পেল জাতিসংঘ
প্রকাশ : ২৬ আগস্ট ২০১৩, ২১:০০
সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র হামলার স্থলে তদন্তের অনুমতি পেয়েছে জাতিসংঘের অস্ত্র পরিদর্শক দল। এরই মধ্যে সিরিয়ায় রাসায়নিকের বিষক্রিয়ায় ৩৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিত্সা সংস্থা মেডিসিন স্যান্স ফ্রন্টিয়াস (এমএসএফ)। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে পাল্টা হুঁশিয়ার দিয়েছে সিরিয়া।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র হামলা স্থল তদন্তের অনুমতি পেয়েছে জাতিসংঘ অস্ত্র পরিদর্শক দল। গতকাল সোমবার থেকে এ তদন্ত শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। গত বুধবার দামেস্কের গাউটা অঞ্চলে সেনাবাহিনীর রাসায়নিক গ্যাস হামলায় শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয় বলে দাবি করেছে বিদ্রোহীরা। এর তিনদিন আগেই একটি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠি দামেস্কে পৌঁছালেও অনুমোদন না থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে পারেনি তারা। বিষাক্ত গ্যাসের ব্যবহার নিয়ে সরকার ও বিদ্রোহীরা পরস্পরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছে। এতে ঘটনার সত্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল নিশ্চিত হলেও কোন পক্ষ এতে জড়িত তা পরিষ্কার হয়নি। প্রাথমিক সত্যতা মেলায় ইতোমধ্যেই আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে বৃটেন, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো। এর মধ্যে ভূ-মধ্যসাগরে থাকা মার্কিন রণতরীগুলো সিরিয়া অভিমুখে যাওয়ায় এ অঞ্চলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিরিয়ায় রাসায়নিক হামলার অভিযোগ ওঠা আক্রান্ত এলাকায় জাতিসংঘের রাসায়নিক অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের পরিদর্শনের বিষয়ে রবিবার নিরস্ত্রীকরণ সংস্থার প্রধান এঙ্গেলা কিনের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছে। এরই মধ্যে সিরিয়ায় রাসায়নিকের বিষক্রিয়ায় ৩৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক চিকিত্সা সংস্থা মেডিসিন স্যান্স ফ্রন্টিয়াস (এমএসএফ)। এমএসএফ বলেছে, গত বুধবার স্নায়ুতন্ত্র বিকলকারী গ্যাসে আক্রান্ত হওয়ার উপসর্গ নিয়ে রাজধানী দামেস্কের আশপাশের তিনটি হাসপাতালে প্রায় তিন হাজার ছয়শ’ মানুষ ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে ৩৫৫ জন মারা গেছে। জানা গেছে, দামেস্ক ও এর আশপাশের এলাকায় মেডিসিন স্যান্স ফ্রন্টিয়াসের নিজস্ব কোনো কর্মী নেই। তবে গতবছর থেকে ওই এলাকার হাসপাতাল ও চিকিত্সা প্রদানকারী বিভিন্ন গ্রুপকে সহায়তা দিয়ে আসছে সংস্থাটি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ার করে সিরিয়া বলেছে, যে কোনো সামরিক ব্যবস্থা ‘আগুনের গোলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করে মধ্যপ্রাচ্যকে জ্বালিয়ে দেবে’। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য শনিবার সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে দেশটির বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেয়।