‘মাদকমুক্ত করতে চাই সেনাবাহিনী’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত করতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেবার বিষয়ে যে উক্তিটি করেছেন তা সঠিক। সব সরকারের আমলে মাদক ব্যবহার ছিল, এখনো আছে। তবে আগেও ছিল; এখন দিনে দিনে বেড়ে চলেছে। এ মরণনেশা থেকে এখনই পরিত্রাণের জন্য অবশ্যই সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিতে হবে। মো. মোজাহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান, ইডফি, সাভার, ঢাকা দেশকে মাদকদ্রব্য মুক্ত করার জন্য সেনাবাহিনীকে অবশ্যই ক্ষমতা দেবার জন্য আমি সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারমান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাথে একমত পোষণ করছি। সুপায়ন চাকমা খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম মাদকদ্রব্য ব্যবহার বন্ধ করা এবং মাদক ব্যবসায়ীদের চিরতরে নির্মূল করার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিতে সরকারের প্রতি জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যে আহ্বান জানিয়েছেন তা যথার্থ। মাদকের সর্বনাশা ছোবলের ঘটনার উদ্বিগ্ন-উত্কণ্ঠিত ও আতংকিত আজ দেশবাসী। বিপ্লব আলম উর্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা মাদকমুক্ত করতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাথে আমি একমত। তিনি মাদকমুক্ত করতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেবার যে কথা বলেছেন তা সম্পূর্ণ সঠিক। মো. ফারুক আলম মালিবাগ, ঢাকা নিয়ন্ত্রণহীন মাদকের বিস্মৃতি এখন দেশ জুড়ে ক্রমেই হয়ে উঠেছে সর্বগ্রাসী। ভয়াল মাদক তারুণ্য, মেধা, বিবেক, লেখাপড়া, মনুষ্যত্ব সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে। সুতরাং এ মরণনেশা থেকে বাঁচতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়ার যে কথা বলেছেন তা যথার্থ। এইচ কে এম রমিজউদ্দিন মিরপুর, ঢাকা সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের মাদকদ্রব্য বিস্তার রোধে এ দেশকে মাদকমুক্ত করতে হলে এর দায়িত্ব সেনাবাহিনীকেই দেয়া প্রয়োজন বলে যে মন্তব্য করেছেন তা যথার্থই সঠিক। মাদক দ্রব্যের কড়াল গ্রাসে গোটা জাতি আক্রান্ত। পুলিশ, র্যাব, বিজিপি মাদকদ্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। সরকারকে যে কোনো মূল্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। সুতরাং সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিয়ে হলেও তা করতে হবে। কারণ মাদকদ্রব্যের কড়াল থাবায় ভবিষ্যত্ সন্তানরাই আজ আক্রান্ত হয়ে শেষ হতে চলেছে। তাই জাতিকে রক্ষা করতে হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া আবশ্যক। শাহ মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন হিরো কালীহাতি, টাঙ্গাইল মাদকদ্রব্য বিনষ্ট করে দিচ্ছে সবকিছু। স্নেহ, মায়া-মমতা, ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন সবই। তাই অচিরেই এ কড়ালগ্রাস থেকে দেশ ও জাতিকে বাঁচাতে হলে সাবেক রাষ্ট্রপাত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাথে আমি একমত পোষণ করছি। মো.শহীদুল ইসলাম (রয়েল) নিশিন্দারা মধ্যপাড়া, বগুড়া মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে আজ বাবা-মা ঘনিষ্ঠ স্বজন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন। আজ বাবা-মাও সন্তানের কাছে নিরাপদ নয়। এ অবস্থাতে সরকারের ভূমিকা অনেক। কিন্তু বাস্তবে দেখছি আমরা তা হচ্ছে না। সুতরাং এ থেকে উদ্ধার পেতে হলে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া অপরিহার্য বলে মনে করছি। মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল) আরাপপুর, ঝিনাইদহ মাদকে সয়লাব হয়ে গেছে আজ গোটা দেশ। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার মাদকাসক্ত চিকিত্সা নিচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় ৯ হাজার ইয়াবাসেবী। যদি এভাবে দিনে দিনে মাদকদ্রব্যের ব্যবহার বাড়তে থাকে তাহলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কী করছে? তারা যদি না পারে তাহলে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান যে বক্তব্য দিয়েছেন সেনাবাহিনী বিষয়ে সেটাই করা উচিত। শিশির পিলখানা, ঢাকা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ বলেছেন, বাংলাদেশকে মাদকমুক্ত করতে হলে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া প্রয়োজন। এরশাদ যা বলেছেন তা আমি সমর্থন করি না। কারণ সেনাবাহিনীর একার পক্ষে তা মোটেও সম্ভব নয়। সাপের বিষ প্রতিরোধ করতে হলে সাপের বিষই প্রয়োজন। যেহেতু মাদকের প্রভাবে যুব সমাজ ধ্বংসের মুখে সেহেতু যুব সমাজকেই এগিয়ে আসতে হবে। মাদক যখন আন্তর্জাতিক ব্যবসায় অন্তর্ভুক্ত তখন আন্তর্জাতিকভাবে এর প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। ইভান কাওরাইদ, গাজীপুর সেনাবাহিনী দ্বারা মাদক ব্যবসাটা নিয়ন্ত্রণ করার বিষয়টি এমন একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তির মুখ দিয়ে বেরিয়েছে যিনি একসময় সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন, ছিলেন দেশের প্রেসিডেন্টও। বর্তমানে তিনি একটি দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানও। তাই তাঁর উক্তিটি যথেষ্ট বিবেচনার দাবি রাখে। কারণ নেশাজাতীয় যত রকমের পণ্য আছে তা যে বা যারা আমদানি করে কিংবা চোরাপথে আনে তাদের বিরুদ্ধে আমরা এতোদিনে কোনরকম সফল ব্যবস্থা নিতে পারিনি। তাই আমরা মনে করি, সাবেক প্রেসিডেন্টের এই উক্তির সমর্থনে ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। নেশা জাতীয় দ্রব্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এ ধরনের ব্যবস্থা নিতে গেলে সেনাবাহিনীর সাহায্যের প্রয়োজন। সিভিল সোসাইটি প্রয়োজনীয় উদ্যোগ এবং সহায়ক ব্যবস্থা সফলভাবে নিতে পারেনি বলেই আমাদের তরুণসমাজ আজ নেশার কবলে। আমাদের আগামী প্রজন্ম যাতে ধ্বংস হয়ে না যায় সেজন্য সচেতন সকল মহলের এগিয়ে আসা উচিত। মনে রাখা দরকার, ঐশীরা আমাদের সমাজের বাইরের কেউ নয়। এদেরকে সুপথ, সুদিন, সুন্দর স্বপ্ন দেখাবার দায়িত্ব আমাদের। মাথাব্যথা হলে মাথা কেটে ফেলাই সমাধান নয়। তাই ওদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে কোন সমাধান বেরিয়ে আসবে না। ওদেরকে আদর-সোহাগ দিয়ে মন্দ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে মা-বাবার মতো দায়িত্বশীল ভূমিকা সমাজকেই নিতে হবে। আমরা যারা ভালো আছি দাবি করি, সেই ভালো থাকা যাবে না যদি না ঐশীরা ভাল না হয়। তাই সেনাবাহিনীর সঙ্গে সঙ্গে সকল স্কুল-কলেজে কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশীল সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। যারা নেশার দুষ্টু থাবা থেকে আগামী প্রজন্মকে বাঁচানোর জন্য রাজপথ নেমে এসে মানুষকে সচেতন করে তুলবে। ওয়াহিদ মুরাদ দিলু রোড, নিউ ইস্কাটন সাবেক রাষ্ট্রপতি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের বক্তব্যের সঙ্গে আমিও বলতে চাই, বাংলাদেশকে মরণ নেশা মাদকের কালো থাবা থেকে এই দেশ তথা জাতি, সমাজ-পরিবার, সন্তানকে বাঁচাতে মাদক সম্পূর্ণরূপে উচ্ছেদ করতে এখনই সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া উচিত। কোরবান মানিক চালাকচর, নরসিংদী মাদকের আগ্রাসনে ধ্বংস হচ্ছে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের যুবসমাজ। মদ, গাঁজা, হেরোইন, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ যেকোন ধরনের মাদক আজ হাতের নাগালে। প্রশাসন যেন দেখেও দেখে না, শুনেও শোনে না। প্রাইভেট ভার্সিটির ধনীর দুলালীরা পর্যন্ত মদক সেবন থেকে পিছিয়ে নেই। এঅবস্থায় দেশ ও জাতিকে মাদক থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দিলে তা হবে যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। কারণ বাংলাদেশের সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করার মাধ্যমে ও আন্তর্জাতিকভাবে সুনাম অর্জন করেছে। কাজেই জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেব মাদক প্রতিরোধের দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে দেয়ার কথা সঠিক সময়ে বলেছেন। ডা. মর্জিনা আক্তার বারিধারা পাইলস কিউর সেন্টার, ঢাকা মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করতে হলে শুধুমাত্র সেনাবাহিনী দিয়ে সম্ভব নয়। তার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব এবং নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব ছেলেমেয়েদেরকে সাত বছর বয়সের ভিতরেই বোঝাতে হবে মা-বাবাকে। অন্যদিকে সরকার এ ব্যাপারে কঠিন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। বিশেষ করে আমরা লক্ষ করছি যে, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত তাদের সীমান্তে এবং বাংলাদেশ সীমান্তে পঁয়ত্রিশটির মতো ফেনসিডিল কারখানা তৈরি করে রেখেছে। সেই সীমান্ত দিয়ে অবাধে একশ্রেণির আসাধু মানুষকে দিয়ে বাংলাদেশে তা পাচার করছে। সেখানে আমাদের নিয়োজিত বাহিনী সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে বলেই দেশে ফেনসিডিল, ইয়াবা অবাধে প্রবেশ করেছে। তোফাজুল বিন আমীন ধানমন্ডি, ঢাকা মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে হলে সেনাবাহিনীর কোন বিকল্প নেই। একমাত্র তাদের দ্বারাই মাদকমুক্ত করা সম্ভব। ফৌজিয়া মুন্নী পল্লবী, মিরপুর. ঢাকা জাপার চেয়ারম্যান এরশাদ বলেছেন, এদেশকে মাদকমুক্ত করতে হলে সেনাবাহিনীকে নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু এটার সাথে আমি একমত নই। কারণ ওনার কথার কোন ঠিক নেই। তিনি আজ যা বলেন, কাল তা ভুলে যান। তাই মাদকমুক্ত করতে হলে সরকারকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা সেনাবাহিনী ছাড়া এ দেশকে মাদকমুক্ত করা সম্ভব নয় বলে জাপার চেয়ারম্যানের উক্তির সাথে একমত পোষণ করছি। এটা সত্যি কথা। সেনাবাহিনী এদেশের ইতিহাসে বহু ভালো কাজ করেছে সেই দায়িত্বত নিয়ে তারা সফল হোক। সানজিদা আক্তার শিলা সিডনি, অস্ট্রেলিয়া মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তোলার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব না দেয়া ছাড়া কোন গতি নেই। এ দেশের সেনাবাহিনীর অবদানের কথা আমাদের অনেকেরই মনে আছে। সুতরাং মাদকমুক্ত দেশ গড়তে জাপার চেয়াম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব প্রদান সম্পর্কে যে উক্তি করেছেন তা যথার্থই ঠিক। বিপ্লব আলম উর্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা মাদক নিয়ন্ত্রণে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ দায়িত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাপার চেয়াম্যান। এটার সঙ্গে একমত হতে পারলাম না। দেশের সরকার থাকতে কেন সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিতে হবে? এটাই বড় প্রশ্ন। রমিজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় মাদক আজ ভয়াল রূপ নিয়েছে। যার ফলে যুবসমাজ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এই যুবসমাজকে বাঁচাতে হলে মাদককে ‘না’ বলতে হবে এবং এর ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন সরকারের অন্তরিকতা ও নৈতিকতা। হারুন পল্লবী, ঢাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেবার বিষয়ে জাপার চেয়ারম্যান যে বক্তব্য রেখেছেন তার সাথে একমত পোষণ করছি। দেশে মাদকে সয়লাব। যেভাবে দিন দিন বাড়ছে তাতে করে নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ছে দেশ। সুতরাং সেনাবাহিনীকেই এই গুরু দায়িত্ব দিতে হবে। শিউলি, সাভার, ঢাকা সেনাবাহিনী দেশের ইতিহাসে অতীতে বহুকাজে সাফল্য এনেছে। আমাদের বিশ্বাস, এই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে তারাই ভালো ভূমিকা রাখতে পারবে। জাপার এই বক্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। রিফাত ঝিনাইদহ বর্তমান রাজনীতিবিদদের মধ্যে মন্দের ভালো জাপা হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ মাঝে মাঝে জনকল্যাণার্থে খুবই সুন্দর সুন্দর কথা বলে থাকেন। যদিও সকালে বলা কথা বিকালে বেমালুম ভুলে যান। তবুও এরকম একটি সুন্দর প্রস্তাবনার জন্য জাপা চেয়ারম্যানকে মোবারকবাদ জানাই। মাদক, ঘুষ, খুন-খারাপি, দুর্নীতি, লুটতরাজ, খাদ্যে ভেজাল, যানজট, সর্বশেষ ঐশীর হাতে জন্মদাতা পিতা-মাতা খুন এসব ঘটনা, র্দুঘটনা একদিনে মাটি ভেদ করে আমাদের সমাজে হানা দেয়নি। এ সবের মূল কারণ অসত্ ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ আর অসত্ সমাজপতিদের, অসত্ সব কাজের ফল। পিতা-মাতার রুজি-রোজগার অসত্ পথে হলে সুসন্তান আশা করা যেমন দুরূহ ব্যাপার তেমনি প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত হলে জনকল্যাণমূলক কোন কাজ আশা করা যায় না। মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশসহ সব বিভাগ ব্যর্থ। এর মূল কারণ লেনদেনে অর্থ। ইতিপূর্বে যানজট নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিয়ে সুফল পাওয়া গিয়েছিল কিন্তু এক নিরর্থক অজুহাত দেখিয়ে রাজনীতিক কারণে তাদেরকে উঠিয়ে নিয়ে দুঃসহ যানজটের মাঝে আমাদেরকে আবার ঠেলে দেয়া হয়েছে। সেনাবাহিনী যেমন বহিঃশত্রুর হাত হতে আমাদের দেশকে রক্ষা করবে তেমনি সমাজে লুকিয়ে থাকা হিংস্র পশু চরিত্রসমূহ এবং অমানুষের হাত হতে রক্ষার জন্য কাজে লাগালে কোন বিধি-বিধানে অমর্যাদা হবে বলে আমি মনে করি না। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণসহ বিষমুক্ত খাদ্য, ভেজাল ওষুধ, যানজট, রাস্তাঘাট বেহালদশা ও মেরামত, পানি, বিদ্যুত্ ও গ্যাস নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলকভাবে ২ বছরের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগকে তিন বাহিনীর অধীনস্থ করা হোক। এতে উপকার হবে- অপকার হবে না। কেউ যদি বলে এটা সশস্ত্র বাহিনীর কাজ নয়, তাহলে জোর গলায় বলবো, এ ছাড়া উপায় কী? মো. লুত্ফর রহমান এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, তরুণরাই সমাজের সব। তারাই সমাজ বদলায়। অথচ আজ মাদকের দংশনে বিপন্ন এই তরুণ সমাজ। ধ্বংস করে দিচ্ছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র। সুতরাং এর জন্য প্রয়োজন সঠিক আইন প্রয়োগ। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীও নিয়োগ করা যেতে পারে। আইরিন সুলতানা সনজু ধুপপুর, মাইজপাড়া চট্টগ্রাম মাদকমুক্ত করার মত সক্ষমতা যদি সেনাবাহিনীর থাকে তাহলে দায়িত্বটা দেয়া যেতে পারে। অ্যাডভোকেট ফারুক হাসান জজকোট, ঢাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট ও জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের বক্তব্যের সাথে একমত। দিন দিন মাদকদ্রব্য ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে আগুনে পুড়ে মারা, মাকে জবাই করা, মাদকের কারণে সন্তানকে বিক্রি করে দেয়ার মতো মর্মস্পর্শী ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি। সুতরাং এ থেকে রক্ষা পেতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। আবদুল মালেক মিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিস, মিরপুর, ঢাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট, ও জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মাদকমুক্ত করার বিষয়ে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেবার কথা বলেছেন। তিনি অনেক সময় অনেক মূল্যবান কথা বলেন। মাদকের নেশার কাছে জিম্মি হয়ে পড়ছে দেশের যুবসমাজ। এ মরণ নেশার উন্মুক্ত শিকারে পরিণত হয়েছে এক পুলিশ ইন্সপেক্টর ও তার স্ত্রী। সুতরাং এ রকম ঘটনা যেন আর না ঘটে সেজন্য এখনই মাদক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে তত্পর হতে হবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিতে হবে। নাসরিন সুলতানা, স্যানিসাইড, নিউইয়র্ক এখন মাদক থাবায় আক্রান্ত দেশের প্রায় প্রতিটি এলাকা। অভিজাত তরুণ-তরুণীদের একটি অংশ মাদক ও ইয়াবায় আসক্ত। এ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রয়েছে রাজধানীর বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী। এ মরণ নেশা প্রতিরোধে সীমান্তে কড়াকড়ি প্রহরার ব্যবস্থা করা দরকার। অন্যদিকে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে তাদের এ রকম ভয় ঢোকাতে হবে। মধ্যে ব্যবস্থা যদি না কার্যকর হয় তাহলে জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সেনাবাহিনীর দায়িত্বে থাকার যে কথা বলেছেন সেটি করতে হবে। মনির হোসেন সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র, মিরপুর-১, ঢাকা মাদকে ছেয়ে গেছে সারাদেশ। এ থেকে রেহাই পেতে হলে এখনই তত্পর হতে হবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে অনেক মাদকদ্রব্য ব্যবহার কমে আসবে। এম এম কে রাজা, মতিঝিল, ঢাকা মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনাবাহিনী প্রয়োজন বলে জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন । এতে যুবসমাজ মাদক থেকে ফিরবে । এজন্য জাপার চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ। শরীফ উদ্দিন ভুঁইয়া কিশোরগঞ্জ, তাড়াইল, ঢাকা বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার তাদের ইশতেহারে বলেছিল, স্বাধীন বাংলাদেশ থেকে সন্ত্রাস, মাদকদ্রব্য নিমূল করা হবে। সরকার গঠন করে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত দেশ গঠনে কাজ করছে। যুবসমাজকে বাঁচাচ্ছে তখন সারাদেশে মাদক চোরাকারবারিরা বিভিন্ন মাদকে ভাসাচ্ছে দেশ। সারাদেশে অহরহ ঘটছে মাদক সেবনে মৃত্যু। কেউ বা মাদকে চিকিত্সা নিচ্ছে। গত মাসে ভারত থেকে আসা বিষাক্ত মদ পানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ ব্যক্তির মৃত্যু, এর আগে তো মাদক গ্রহণকারীরা মরছে। সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে মাদকদ্রব্য ক্রেতা-বিক্রেতা ও সেবনকারীদের জেল-জরিমানা করছে। এতে কিছুটা হলেও মাদক নিয়ন্ত্রণ হলেও আশার গুঁড়ে বালি হচ্ছে মুহূর্তেই। জাপার চেয়ারম্যান ৯০-এ ক্ষমতায় ছিলেন। তাঁর শাসনামলে দেশে সবচেয়ে বেশি মরণ নেশায় ভাসছিল দেশ। তখন তো তিনি পারতেন বাংলাদেশ থেকে চিরতরে মাদকদ্রব্যমুক্ত করতে। তিনি তা পারেননি। নিজের দায় অন্যের গায়ে চাপানো ঠিক নয়। ফারুক আহমেদ, বাগমারা, রাজশাহী মাদকদ্রব্য ব্যবহার বন্ধ করা এবং মাদক ব্যবসায়ীদের চিরতরে নির্মূল করার জন্য সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। মাদকের সর্বনাশা ছোবলে উদ্বিগ্ন, উত্কণ্ঠিত ও আতঙ্কিত দেশবাসী। তাই যে কোন মূল্যে দেশের মানুষকে এই মাদকের সর্বনাশা ছোবলের হাত থেকে রক্ষা করতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে। দেশে মাদকদ্রব্যের বিস্তার এখন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সম্প্রতি একজন পুলিশ কর্মকর্তার মাদকাসক্ত মেয়ে তার মা ও বাবাকে হত্যার পর কিশোর ও তরুণদের ওপর মাদকের প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। তাই জাপা চেয়ারম্যানের উক্তিটি যথার্থ বটে। সেনাবাহিনীর কর্মকাণ্ডের সুনাম রয়েছে। বিশেষ করে দুর্যোগপূর্ণ সময়ে ত্রাণ বিতরণের কথা সর্বজনবিদিত। সুতরাং দেশকে মাদকমুক্ত করতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া জরুরি। লাডলা, পিলখান, ঢাকা মাদকাসক্তরা শুধু নিজেদের মেধা ও জীবন শক্তিই ধ্বংস করছে না— তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করছে। তাই মাদকমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে হলে জাপার চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যা বলেছেন আমরা মনে করছি তা অবিলম্বে করা হোক । মাসুম আহম্মেদ, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা মাদক, পর্ণোগ্রাফি, ইভটিজিংয়ের ঘটনা এখন শুধু কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় নয় স্কুল পর্যন্ত পৌঁছেছে। হেরোইন, গাঁজার মতো মাদকের স্থান দখল করেছে বহনযোগ্য ইয়াবা। শুধু তাই নয় রাজধানীর অভিজাত এলাকায় বিক্রি হচ্ছে শিশা নামের আরেক মাদক। সুতরাং এগুলোকে রোধ করা এখনই দরকার। আর এ জন্য প্রয়োজন সরকারের একান্ত সহযোগিতা ও সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়া। হোসনে আরা করিম এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা কিশোর-তরুণদের বিরাট অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দেশ, জাতি ও সমাজের জন্য এরা অতি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই মরণ নেশা থেকে মুক্তির পথ হচ্ছে এগুলোকে রোধ করা। দেশের রাজনীতিবিদরা এদিকে নজর দিচ্ছেন না। তাই এই মুহূর্তে উচিত জাপার চেয়ারম্যানের কথাটি কাজে লাগানো। নীলুফা আক্তার মিরপুর, ঢাকা মাদকের মরণ থাবায় ভাসছে দেশ। মাদকের এই গ্রাস থেকে রক্ষা পেতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। তাই মাদকমুক্ত দেশ করতে জাপার চেয়ারম্যান সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেবার জন্য সরকারকে যে কথা বলেছেন সেটা যথার্থ বলেছেন। মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ মিরপুর ১, ঢাকা আমাদের দেশে অনেক সমস্যার মধ্যে মাদক গ্রহণ অন্যতম সমস্যা। মাদক যেন দেশে ঢুকতে না পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। সেজন্য সরকার শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না মাদকবিরোধী ওইসব আইনের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে সেনাবাহিনীই পারে বিষয়টি যথার্থভাবে পালন করতে। হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী কবিরহাট, নোয়াখালী দেশের যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে হবে। জাপার চেয়ারম্যানে সঙ্গে সেনাবাহিনীর কথা আমরাও বলছি। মো. সেলিম, মহাখালী, ঢাকা মাদকে সয়লাব দেশ। রাজনীতিবিদরা বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন না। তাই এ ভয়াবহ সমস্যা সমাধানের জন্য এটি সেনাবাহিনীর হাতে দেয়া উচিত। পারভীন আক্তার হাজারীবাগ পার্ক, বাড্ডানগর, ঢাকা ‘নির্বাচনে সেনা মোতায়েন চাইলে’ ঝড় ওঠে। কিন্তু মাদক নিয়ন্ত্রণে সেনা, ওয়াসার পানি বিতরণ, ট্রাফিক কনট্রোল, রাস্তা নির্মাণ, ভোটার তালিকা তৈরি এমন নানান কাজে ঘন ঘন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ওপর নির্ভরতা স্বাভাবিকভাবে কাম্য হতে পারে না। এতে তাদের পেশাদারিত্ব ও মূল দায়িত্বের সময় নষ্ট এবং জনগণের ভয় ও আস্থার জায়গাটুকুও দুর্বল হয়। কিন্তু না পেরেই সেনা তলব অথচ কেউ ব্যর্থতার দায় নেয় না। আবার প্রয়োজন শেষে সব দোষ সেনাবাাহনীর। সত্য কথা, তারাও এদেশের সন্তান— আমাদের ভাই-বন্ধু। তাই দেশের সেবায় তাদের ভূমিকা অস্বীকার করা যায় না। অধ্যাপক মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ বিভাগীয় প্রধান ইসলামিক স্টাডিজ কাপাসিয়া ডিগ্রি কলেজ কাপাসিয়া, গাজীপুর ১৭ নিবিড় বুননে সমাজটা এখন আর নেই। চিরায়ত দেশজ সংস্কৃতি ক্ষয়রোগে আক্রান্ত। উদ্ভট যাত্রায় আমরা গা ভাসিয়ে চলছি দলবেঁধে। আকাশ সংস্কৃতির মায়ার বাঁধনে বাঁধা এই সমাজব্যবস্থাকে শবচ্ছেদ করছে প্রতিনিয়ত। এত শত প্রতিকূলতাকে দলে আমরা যখন সামনে এগুতে চাচ্ছি, তখন বড় বাধা হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও রাজনৈতিক পরিচয়। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় মাদকাসক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে দেশময়। রাজনৈতিক পরিচিতি থাকলে রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের অলিতেগলিতে মাদকদ্রব্য ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা, হেরোইন-এর মতো মরণঘাতী মাদক দ্রব্য, ব্যবসায়ীদের প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরবরাহ করতে বেগ পেতে হয় না। নিরপদ্রব ব্যবস্থায় মাদকদ্রব্য বেচা-কেনা করতেও অসুবিধা হয় না। এই সহজ লভ্যতায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে এমন কোন পর্যায় নেই যেখানে তরুণ-তরুণীরা মাদক সেবনে আক্রান্ত হচ্ছে না। ফলে হাজারো ঐশী সৃষ্টি হচ্ছে। এই যখন অবস্থা তখন সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহম্মদ এরশাদ বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত করতে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দেয়ার কথা বলেছেন। সবেধন নীলমনি এই সেনাবাহিনী আছে রাষ্ট্রের সকল জঞ্জাল দূর করতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য করতে আস্থার সর্বশেষ স্থানটি হিসেবে বিবেচিত হওয়ায়, আমরাও মনে করি হু. মু. এরশাদের ধারণা কাজে লাগালে সুফল পাওয়া যেতে পারে। মাদকের ভয়াবহতা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তাত্ক্ষণিক মোকাবেলায় সেনাবাহিনী লন্ড্রিওয়াস কার্যক্রম চালালে মাদকমুক্ত পরিবেশ পাওয়া যাবে। ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সন্তানদের আস্থাশীল করে গড়ে তুলতে হবে। সকল অভিভাবককে ভূমিকা নিতে হবে দেশ থেকে মাদকদ্রব্য উত্খাতের। সামাজিক অনুশাসন ও অনুশীলনে রাজনীতিকরণ না হয় সে ব্যাপারেও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর বাংলাদেশকে সম্পূর্ণরূপে মাদকমুক্ত করতে হলে অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে এ দায়িত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যে মতামত দিয়েছেন তা সর্বাংশে প্রযোজ্য নয়। মূলত সৃষ্টি থেকে মাদক মারাত্মক সামাজিক ব্যাধি হিসেবে বিরাজমান। আমাদের দেশে বিপর্যয় দেখা দেয় অপরিণত বয়সে সেবন এবং পরিণত বয়সে মাত্রাতিরিক্ত সেবনসহ নানাবিধ পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয় এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে। আমাদের তরুণসমাজের বিরাট একটা অংশ আজ মাদকসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ নেশায় অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পের নায়ক ফটিকের মত বয়ঃসন্ধিক্ষণে পৌঁছার সাথে সাথে আমাদের কিশোর-কিশোরীরা ‘না ঘরকা না ঘাটকা’। আর এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা সমাজের কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণীদের বখে যাওয়া সতীর্থদের মাধ্যমে অন্ধকার জগতের দিকে তাদেরকে টেনে নিচ্ছে। বর্তমান বিশ্বের চমক সৃষ্টিকারী এমএলএম (মাল্টি লেভেল মার্কেটিং) পদ্ধতিতে তরুণ সমাজকে মাদকসহ আধুনিক সহজলভ্য নেশার দিকে ধাবিত করা হচ্ছে। এই পদ্ধতিতে কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণীরা মাদক সেবন থেকে সেবন-কাম বিক্রেতার পর্যায়ে উপনীত হচ্ছে। ফলে কোন অবস্থাতেই এর বেড়াজাল ছিন্ন করার সুযোগ তাদের হাতে নেই বললেই চলে। তার সাথে যোগ হয়েছে ‘ডিসকো’, ‘ডিজে’ পার্টির নামে তরুণ-তরুণীদের নেশার ঘোরে উদ্দাম নৃত্যের আসরে সক্রিয় অংশ হণের সুযোগ করে দেয়া। ফলে লাজ-লজ্জা ভুলে এবং শারীরিক ও মানসিক জড়তা কাটিয়ে অপ্রাপ্ত বয়সে নেশা জাতীয় দ্রব্য ইয়াবা, ভায়েগ্রা ফেনসিডিলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্যের ক্রিয়ায় সক্রিয় হয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনসহ নানা অনৈতিক কাজে তারা জড়িয়ে পড়ছে। তার থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে রাষ্ট্র এবং সমাজবিজ্ঞানীসহ সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে না আসার কোন বিকল্প নেই। জীবন গড়ার প্রারম্ভেই ঐশীর মত অনেক শিশু, কিশোর-কিশোরী এবং তরুণ-তরুণী নয় বরং তাদের পিতা-মাতাকেও চরম ট্র্যাজিক পরিণতি বরণ করে নিতে হচ্ছে আর এর মূল দায়ভার বর্তাচ্ছে সমাজ, জাতি ও রাষ্ট্রের ওপর। উপযুক্ত যুব শক্তিবিহীন রাষ্ট্রযন্ত্র সম্পূর্ণ অচল। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী দিয়ে এর সম্পূর্ণ প্রতিকার সম্ভব নয়, কারণ সেনাবাহিনীর মত হাইডোজ অ্যান্টিবায়টিক দিয়ে রোগ সাময়িকভাবে দমানো যায় কিন্তু নির্মূল করা যায় না। তবে নৌ, স্থল ও বিমান পথে এবং বর্ডার দিয়ে মাদকদ্রব্যের অনুপ্রবেশ কঠোরভাবে ঠেকাতে সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানো যেতে পারে। তবে মাদকদ্রব্য মোকাবেলায় রাষ্ট্র, সমাজ, অভিভাবক, শিক্ষক-শিক্ষিকা, সমাজ সংস্কারক, সমাজবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞানী, প্রচলিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে আন্তরিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী ৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা ১২০৩