সাফ গেমসের রেফারিং
প্রকাশ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৮
বর্তমানে নেপালে অষ্টম সাফ গেমস অনুষ্ঠিত হইতেছে। সার্কভুক্ত দেশ হিসাবে বাংলাদেশও এই আঞ্চলিক ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করিতেছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হইয়াছে। তন্মধ্যে গতকাল ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ খেলিয়াছে তিনটি ম্যাচ। সর্বশেষ এই গ্রুপে পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচে আমরা আবার পরাজিত হইয়াছি ২-১ গোলে। ইহাতে আমাদের সেমিফাইনালে উঠার সম্ভাবনা ধূলিস্যাত্ হইয়া গিয়াছে। তবে প্রথম দুইটি ম্যাচের বেদনাদায়ক স্মৃতি আমরা এখনও ভুলিতে পারিতেছি না। প্রথমত স্বাগতিক দেশ নেপালের সহিত উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ সবাইকে অবাক করিয়া দিয়া ২-০ গোলে হারিয়া যায়। অথচ ফিফার র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ ১৫৮তম আর নেপাল ১৭০তম। নেপাল একবারও সাফ চ্যাম্পিয়ন বা রানার্স আপ হয় নাই। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ একবার সাফ চ্যাম্পিয়ন (২০০৩) ও দুইবার রানার্স আপ (১৯৯৯ ও ২০০৫) হইয়াছে। মূলত সেই দেশের কর্তৃপক্ষের অবহেলায় অনুশীলনে যথাযথ সময় না পাওয়া ও অব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশ সেই ম্যাচটি হারিয়া যায় বলিয়া দাবি করা হইতেছে।
পরবর্তীতে ভারতের সহিত খেলায় বাংলাদেশ একেবারে শেষ মুহূর্তে আসিয়া জয় হাতছাড়া করে এবং ১-১ গোলে ড্র করে ম্যাচটি। বাংলাদেশ এক গোলে আগাইয়া ছিল। কিন্তু অতিরিক্ত সময় শেষ হইবার মাত্র ১০ সেকেন্ড আগে বিতর্কিত ফ্রি কিক হইতে গোলের কারণে খেলাটি ড্র হয়। যিনি এই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি দেন তিনি শ্রীলঙ্কান রেফারি ক্রিশাসন্থা ডি পেরেরা। তিনি খেলার আগেই বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের প্রয়োজনের চাইতেও বেশি নিয়মকানুন মানিতে বলিয়া মানসিক চাপ সৃষ্টি করেন বলিয়া অভিযোগ উঠিয়াছে। এমনকি বাংলাদেশের কোচকে বিনা কারণে মাঠ হইতে বাহির করিয়া দেন তিনি। তাই বাংলাদেশের কোচ লোডউইক ডি ক্রুইফ এই দ্বিতীয় ম্যাচটির ব্যাপারে বলেন যে, রেফারি ম্যাচটা ধ্বংস করিয়াছে। ভারতের সঙ্গে খেলার পর ঐ একই রেফারির বিরুদ্ধে পাকিস্তানও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উত্থাপন করে।
ক্রিকেটে আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত দেওয়ার ভুরি ভুরি দৃষ্টান্ত রহিয়াছে। বিশেষত এলবিডব্লিউ নিয়া প্রায়শ প্রশ্ন ওঠে। কখনও কখনও মাঠের আম্পায়ারদ্বয় পরামর্শ করিয়া বিশেষ ইশারা ও ভঙ্গিতে থার্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত জানিতে চাহেন। কখনও ব্যবহার করেন ওয়েরলেস। তাহার পর স্ক্রিনে ভাসিয়া ওঠে আউট বা নট আউট শব্দটি। ক্রিকেটের মাঠে প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি থাকায় থার্ড আম্পায়ারের অনেক সিদ্ধান্ত সঠিক বলিয়া মানিয়া নেওয়া হয়। তবে বিভিন্ন অ্যাঙ্গেল হইতে দেখিবার পরও অনেক ক্ষেত্রে প্রশ্ন থাকিয়া যায়। ওঠে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগও। অনুরূপভাবে ফুটবল মাঠে রেফারিরা ব্যবহার করেন ইয়ার ফোন। ইহার মাধ্যমে তাহারা খেলা চলাকালীন ম্যানেজমেন্টের সহিত যোগাযোগ রক্ষা করিয়া চলিতে পারেন। সুতরাং বিতর্কিত সিদ্ধান্ত ইহার কারণেও অনেক সময় আসিতে পারে। অনেক সময় রেফারিরা মাঠে শারীরিকভাবে হেনস্থার শিকার হন। মাত্রাতিরিক্ত প্রযুক্তির আশ্রয় নেওয়ার কারণে এরূপ কোন সমস্যার সৃষ্টি হইতেছে কিনা তাহা চিন্তার বিষয়। ক্রিকেটে বাজে আম্পারিং ও স্পট ফিক্সিং যেমন, তেমনি ফুটবলে বাজে রেফারিং উভয় খেলার সৌন্দর্য নষ্ট করিতেছে। তাই আমরা মনে করি, আগের ন্যায় মাঠে রেফারিরা যে সিদ্ধান্ত নিবেন তাহাই সকলের একবাক্যে মানিয়া নেওয়া আবশ্যক। আর কোন বিবেচনা বা অন্য কোন কাহার সহিত তাত্ক্ষণিক যোগাযোগের সুযোগ না থাকাই বাঞ্ছনীয়।