[ নি র্বা চ ন ]

মানুষের শক্তির ওপর ভরসা রাখতে হবে

দলীয়, নাকি নির্দলীয় সরকারের অধীনে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়ে বসে আছে। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে একটি সমঝোতায় উপনীত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধীদলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে যেমন জাতিসংঘের উদ্বেগ রয়েছে, তেমনি এখানে চলমান রাজনৈতিক সংকটের সুযোগ নিয়ে ধর্মীয় উগ্রবাদ, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের উত্থানের আশঙ্কায়ও জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে শুধু জাতিসংঘ নয়, দেশে-বিদেশে অনেকের মধ্যেই উদ্বেগ লক্ষ্য করা গেলেও বাংলাদেশের দুই নেত্রীর মধ্যে তেমন উদ্বেগের বহিঃপ্রকাশ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে, ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা জানিয়েছেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটে নাক গলাবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। কোন সিদ্ধান্ত তাদের (বাংলাদেশের) জন্য ভালো হবে, সেটি তারাই নির্ধারণ করবে। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো মতামত দেবে না। দেশে দেশে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নাক গলাতে অভ্যস্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকটে নাক গলাবেন না বলে হঠাত্ করে মন্তব্য করায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বিষয়টি কৌতূহলোদ্দীপক বলেই মনে করছেন। রাজনীতিতে দ্রুত কোনো নাটকীয় ঘটনা ঘটার মতো কোনো লক্ষণ বাহ্যত দেখা না গেলেও পর্দার অন্তরালে বিশেষ কিছু চলছে কি-না তা অস্পষ্ট। তবে অনেকেই মনে করেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা বাইরে যত হম্বিতম্বি করছেন, তার বেশিটাই লোক দেখানো। আওয়ামী লীগ যেমন বিএনপিকে চেনে, তেমনি বিএনপিও চেনে আওয়ামী লীগকে। একে অপরের শক্তি ও দুর্বলতাগুলো জানে। আওয়ামী লীগ কি করতে পারে সেটা যেমন বিএনপির জানা, তেমনি বিএনপির ক্ষমতাও আওয়ামী লীগের অজানা নয়। এ অবস্থায় কেউ কাউকে নতুন করে বিশেষ কিছু দেখিয়ে দিতে পারবে কি-না বলা মুশকিল। তবে দুই দল যদি এবার নির্বাচনমুখী হয় এবং ভবিষ্যত্ নির্ধারণের দায়িত্বটা জনগণের ওপর ছেড়ে দেয়, তাহলে তার চেয়ে ভালো আর কিছু হবে না। বিএনপি বা ১৮ দলীয় জোট যদি সত্যি মনে করে থাকে যে, আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ তাদের পক্ষে রায় দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে— তাহলে নির্বাচন নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় সৃষ্টি করা তাদের উচিত হবে না। জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল যে-কোনো অবস্থায় জনগণের মুখোমুখি হতে ভয় পায় না। ইয়াহিয়া খানের লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডারের অধীনেই আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে ঐতিহাসিক গণরায় পেয়েছিল। কোনো ধরনের অজুহাত তুলে তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনে অংশ নিতে সংশয় বা দ্বিধা করেননি। মানুষকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলেননি। বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ারও উচিত হবে, যে-কোনো অবস্থায় নির্বাচনে অংশগ্রহণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা। আন্দোলনের নামে মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ানোর চেয়ে নির্বাচনী চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেই তিনি সাধারণ মানুষের সমর্থন ও সহানুভূতি বেশি পাবেন। নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় সৃষ্টি গণতন্ত্রকামী কোনো মানুষের কাম্য হতে পারে না। বিএনপি এবং তার মিত্ররা এটা ক্রমাগত প্রচার করে আসছে যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত মহাজোট সরকার পৌনে পাঁচ বছরে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, দেশে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে, বিরোধী দলের ওপর হামলা-মামলা, অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছে। তারা যদি সত্যি এটা বিশ্বাস করে যে, তাদের শাসনামলেই দেশের মানুষ বেশি সুখ-শান্তিতে ছিল, তাহলে তাদের তো অস্থির হওয়ার কিছু নেই। নির্বাচনী প্রচারণায় আওয়ামী লীগের ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে তারা নিজেরা ক্ষমতায় গিয়ে অতীতের চাইতে আরো ভালো কী কী করতে চায়, কীভাবে এবং কাদের নিয়ে সেগুলো করবে— সে সব স্পষ্ট করে বললে— ভোটাররা যদি নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিলিয়ে মনে করে তাদের বক্তব্য সঠিক, তাহলে ভোটতো তারাই পাবেন। জনপ্রিয়তা নিয়ে যদি সন্দেহ না থাকে, তাহলে নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু থাকতে পারে না। নির্দলীয় সরকার না হলে ভোটের মাধ্যমে জনমতের প্রকৃত প্রতিফলন ঘটবে না বলে যারা আহাজারি করেন, তারা আসলে মানুষের শক্তির ওপর আস্থা রাখতে ভরসা পান না। বিএনপির ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বিবৃতিতে গত ৩১ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, আমাদের এখন মূল লক্ষ্যই হচ্ছে বাতিল করা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আবারও সংবিধানে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। এরজন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং দেশবাসীকে আন্দোলন-সংগ্রামের সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান তিনি জানিয়েছেন। তার এই বিবৃতি দলের ‘সর্বস্তরের নেতাকর্মী’দের কতটুকু উত্সাহিত করেছে সেটা জানা না গেলেও, দেশের সাধারণ মানুষ যে এতে খুব বেশি উদ্বুদ্ধ হয়নি, তাতে সন্দেহ নেই। কারণ আন্দোলন-সংগ্রামের কথা শুনলে মানুষ এখন ভয় পায়। আন্দোলন-সংগ্রাম মানে হিংসা, হানাহানি, মৃত্যু। তাছাড়া আন্দোলন-সংগ্রাম করে দাবি আদায়ের ইতিহাস বিএনপি তৈরি করতে পারেনি। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পরও বেগম জিয়া এবং তার দল ওই সরকারকে মেয়াদপূর্ণ করতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিল। সে সময়ও সরকার পতনের আন্দোলনের নামে হরতাল-অবস্থান ধর্মঘট-ঘেরাও-লংমার্চ কোনো কিছু বাদ দেয়া হয়নি। দিন-তারিখ বেঁধে দিয়ে বলা হয়েছিল, ওই দিনের পর সরকারকে আর ক্ষমতায় থাকতে দেয়া হবে না। শেখ হাসিনার ওই সময়ের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য বিএনপি কেবল এককভাবে চেষ্টা করেছিল তাই নয়, চারদলীয় জোট করেও আন্দোলন করেছে, কিন্তু তাতে বিশেষ কিছু সুবিধা করতে পারেনি। আবার এই মেয়াদে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পরও বেগম জিয়া একইভাবে ক্রমাগত সরকার পতনের আন্দোলনের কথা বলেছেন। আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন। আলটিমেটাম দিয়েছেন। কিন্তু সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারেননি। অর্থাত্ এরশাদবিরোধী আন্দোলনে বেগম জিয়ার যে ‘আপসহীন’ ইমেজ গড়ে উঠেছিল, দুই মেয়াদের শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে সেখানে তার একটি ‘ব্যর্থ’ ইমেজ তৈরি হয়েছে। কাজেই আন্দোলনের হুমকি না দিয়ে বেগম জিয়ার এখন সর্বশক্তি নিয়ে নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়ার ঘোষণা দেয়া উচিত। ভোটের মাধ্যমে বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটানোর জন্য দেশের মানুষ ভোটবিপ্লবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানালে মানুষ তাতে উত্সাহ নিয়ে সাড়া দেবে বলেই মনে হয়। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গিয়ে বিএনপি যদি দলীয় ক্যাডার এবং জামায়াত-হেফাজতের সন্ত্রাসীদের সহযোগিতায় দেশে হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড শুরু করে তাহলে কার উপকার হবে সেটা বিএনপি নেত্রীকে গভীরভাবে ভাবতে হবে। দেশের মধ্যে শান্তি বিনষ্ট করা বা অন্য যে-কোনো ধরনের উত্পাত সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে। আর যাই হোক, মানুষ কোনোভাবেই দেশে অশান্তি চায় না, অরাজকতা চায় না। তাছাড়া একটি সফল গণআন্দোলন গড়ে তোলার জন্য যে ধরনের সংগঠন শক্তির প্রয়োজন সেটাও বিএনপির নেই। সারা দেশে বিএনপির অসংখ্য ভোটার আছে, নীরব সমর্থক আছে। কিন্তু তারা দলীয় ক্যাডারের ভূমিকায় নামবে না। অধিকাংশ জেলাতেই দলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। কমিটি থাকলেও সেগুলো মূলত নিষ্ক্রিয়। প্রায় সব জায়গায় দলের মধ্যে কোন্দল, গ্রুপিং প্রবল। এ ওকে দেখতে পারে না। ও একে সহ্য করতে পারে না। নেতৃত্বের মধ্যেও ভাবনা-চিন্তার ঐক্য ও সংহতির অভাব আছে। সাম্প্রতিক সময়েও দেশের বেশ কয়েকটি জায়গায় দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ লক্ষ্য করা গেছে। কয়েক স্থানে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও নাজেহাল হতে হয়েছে বিক্ষুব্ধ সমর্থকদের হাতে। এই রকম একটি ‘ছ্যাড়াব্যাড়া’ সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে বার বার আন্দোলনের হুমকি দিয়ে তারপর আবার পিছিয়ে আসার চেয়ে নির্বাচনযুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগ করাই শ্রেয়। কারণ নির্বাচনে অংশ নিলে বিএনপি যে খারাপ করবে না, সেটা পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলেও দেখা গেছে। আন্দোলন করার ক্ষেত্রে নিজেদের শক্তি-সামর্থ্য সম্পর্কে বিএনপি নেতাদের ধারণা আছে বলেই সম্ভবত রাজপথের আন্দোলনে শক্তি পরীক্ষায় নামার পরিবর্তে বিএনপিকে অন্যরকম কৌশলের আশ্রয় নিতে দেখা যায়। নানা রকম মিথ্যাচার করে অথবা গুজব ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করা এবং সরকারকেও এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখতে চায় বিএনপি এবং তার সহযোগী দলগুলো। অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা রাজপথের লড়াই-সংগ্রামে অভিজ্ঞ হলেও অপপ্রচার মোকাবেলায় তাদের সক্ষমতা কম। সে জন্যই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অপপ্রচারের ফাঁদে ফেলার কৌশল বিএনপি নিয়েছে বলে কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিজেদের অনুকূলে রাখার জন্য আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি উভয় দলই নিজেদের শক্তি-সামর্থ্যের সর্বোচ্চ প্রয়োগ করবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে এই শক্তি প্রয়োগ যদি সংঘাতপূর্ণ হয়ে ওঠে তাহলে পরিণতি কী হবে, সেটা কেউ বলতে পারেন না। সবাইকে এটা বুঝতে হবে যে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতা বদলের ভিন্ন কোনো পথ নেই। তাই যে সরকারের অধীনেই হোক না কেন নির্বাচনে যেতেই হবে। সরকার ব্যবস্থা নিয়ে ঝগড়ার পরিণতিতে নির্বাচন না হওয়ার পরিস্থিতি যেন কোনোভাবেই সৃষ্টি না হয়। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে যাতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে, মানুষ যাতে নির্ভয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে, সেটাই নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সব পক্ষকেই ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দিতে হবে। অহমিকা পরিহার করতে হবে। উস্কানি বা প্রভোকেশনের ফাঁদে পা দেয়া চলবে না। দেশের সাধারণ মানুষের বিবেচনাবোধের ওপর আস্থা রাখতে হবে। আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বা নিয়ম পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হতে হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঐতিহ্য গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার রাজনীতিনিরপেক্ষ বিষয় নয়। গণতান্ত্রিক রাজনীতির একটা বিশেষ ধাপ নির্বাচন। রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের প্রধান শক্তি। তাই নির্বাচন পরিচালনার জন্য দলনিরপেক্ষ বা নির্দলীয় সরকারের দাবি তুলে আমরা রাজনীতির কত বড় ক্ষতি করছি, সেটাও ভাবার সময় এসেছে। নির্বাচনের ফলাফল নিজের অনুকূলে না গেলেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি বলে অভিযোগ তোলার ধারা পরিহার করতে হবে। নির্বাচন মানেই জয় অথবা পরাজয়। জয়ের আশা নিয়েই সবাই নির্বাচনে অংশ নেন। তবে এক আসনে এক সঙ্গে একাধিক প্রার্থীর জয়ের কোনো সুযোগ নেই। তাই পরাজিত প্রার্থীকে নির্বাচনের ফল, নির্বাচনমণ্ডলীর রায় মেনে নিতে হয়। ‘আমি জিতলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, পরাজিত হলে কারচুপি হয়েছে’— এ ধরনের মনোভাব বদলাতে না পারলে দেশে কোনোদিন সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারা প্রতিষ্ঠিত হবে না। মাঠ গরম করা বা কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে গিয়ে রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীদের এমন বক্তব্য দেয়া উচিত নয়, যা মানুষের মনে নির্বাচন বা রাজনীতি সম্পর্কেই বিরূপতার জন্ম দিতে পারে। যারা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বিশ্বাসী তাদের কাছে নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই, থাকতে পারে না। গণদুশমনেরা বিশেষ বিশেষ মুহূর্তে উদ্দেশ্যমূলকভাবে পরিকল্পিত গুজব ছড়ায়। মানুষকে বিভ্রান্ত ও ভীতিগ্রস্ত করে তোলার অপচেষ্টা চালায়। বিভ্রান্তি ও আতঙ্কের পরিবেশ কোনো পক্ষের ‘ইভিল ডিজাইন’ বাস্তবায়নের পথ সুগম করে দেয়। রাজনীতিবিদদের যেমন এ বিষয়টি মনে রাখতে হবে, তেমনি নাগরিক সম্প্রদায়ের যারা নানাভাবে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখছেন তাদেরও সব দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ঘোলা পানিতে কাউকে মাছ শিকারের সুযোগ দেয়া যাবে না। নানা দুঃসময় ও ক্রান্তিকাল অতিক্রম এবং অশুভ শক্তি পরাভূত করার অভিজ্ঞতা বাঙালির জাতির আছে—এই মুহূর্তে আশার কথা শুধু এটাই। লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট ই-মেইল :bibhu54@yahoo.com