সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

বিভীষিকাময় ১/১১ আর নয়, চাই সমঝোতা একটি দেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ তখনই সুশোভিত হয় যখন ঐ দেশের রাজনৈতিক দলগুলো জাতীয় স্বার্থে ঐকমত্যে পৌঁছায়। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে দেখা যায় যে রাজনৈতিক দলগুলো বেশির ভাগ সময়ে পরস্পরের প্রতি অসহিষ্ণু আচরণে লিপ্ত। যার ফলশ্রুতিতে আমরা লক্ষ্য করি স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করে বিভিন্ন অরাজনৈতিক সরকারের ক্ষমতা দখল। ফলে এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে, থেমে গেছে উন্নয়নের ধারা এবং বিস্তৃত হয়েছে দুর্নীতির পথ। নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের আগ্রাসী অবস্থান যেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অনিশ্চয়তার রেখাপাত করছে; যার পরিণতি খুবই ভয়াবহ। এ পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছানো। আর সেটাই হতে পারে ১৬ কোটি মানুষের স্বস্তির একমাত্র পথ। মাহমুদুল হাসান হাসনাত সমাজতত্ত্ব বিভাগ (১ম বর্ষ), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ০০০০০০০০০ আলোচনাই একমাত্র সমাধান জনগণের কল্যাণ সাধন করাই হচ্ছে গণতান্ত্রিক দেশের রাজনীতিবিদের অন্যতম দায়িত্ব। এ পদ্ধতিতে সরকারি দল রাষ্ট্র পরিচালনা করবে, আর বিরোধী দল সরকারের ভাল কাজে সহযোগিতা এবং দেশের স্বার্থ বিরোধী কাজে বাধা প্রদান করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, নির্বাচনের সময় আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের মুখ থেকে শোনা যায় অনেক বড় বড় আশারবাণী। স্বাধীনতার ৪৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারিনি, তা কেবল আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের জন্য, কারণ তারা কখনই জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে না, কাজ করেন ব্যক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য। আপনাদের কাছে কি ব্যক্তি স্বার্থ বড় মনে হয়, না হতভাগ্য মানুষের স্বার্থ? আসুন, ব্যক্তি স্বার্থ ত্যাগ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান এবং দেশের হতভাগ্য মানুষের মুখে হাসি ফুটাই। আমরা আর ওয়ান ইলেভেন চাই না, আপনাদের আলোচনার অপেক্ষায় তাকিয়ে রইলাম। মো. আমিনুর রহমান ৩য় বর্ষ, ১ম সেমিস্টার, অর্থনীতি বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর ০০০০০০০০০০ সমঝোতায় এসে সংঘাত ঠেকাতে হবে জনগণকে এড়িয়ে কোন সরকারই ক্ষমতায় আসা সম্ভব না। আর সবচেয়ে অসম্ভব হলো জনগণের দাবি মেনে না নিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার আশা করা। এখন মূল কথা হলো, শুধু প্রধান বিরোধী দল বিএনপি না, অধিকাংশ আওয়ামী লীগও না, না ডান অথবা বামপন্থি কোন সংগঠন। দেশের শতভাগ জনগণ কান পেতে চেয়ে আছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর দিকে শুধু একটি রায় শোনার জন্য। জনগণের দাবি মেনে নেবে, সমঝোতায় আসবে, সুষ্ঠু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। এ দেশে জনগণ যা চাইবে তা-ই হবে, তা না হলে সংঘাত, রক্তপাত আর কিছু প্রাণহানি নিশ্চিত হবে আর তা ঠেকাতে প্রধান দুই দলের উচিত, অবশ্যই! অবশ্যই!! এবং অবশ্যই!!! সমঝোতায় এসে নির্বাচন কাজ পরিচালনা করা। এতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার মেনে নিলে, লজ্জার কিছু নাই। সাইদুল হাসান সাদ্দাম বিএসসি অনার্স (পদার্থ বিজ্ঞান), তিতুমীর সরকারি কলেজ, ঢাকা ০০০০০০০০০ কেন ওয়ান ইলেভেন? সমতায় আসুন বাঙ্গালি জাতির ইতিহাসে কালো অধ্যায় বহন করে এই ওয়ান ইলেভেন। এদেশের শক্তিশালী রাজনীতি ব্যক্তিদের মতো লোকদের নিম্নস্থানের বা পদের পরিচয় দিয়েছিল জাতি তথা বিশ্বের বুকে এই ওয়ান ইলেভেন। আমি বলব, বাঙ্গালি জাতির রাজনৈতিক দুর্বলতায় এই ওয়ান ইলেভেনের কারণ ছিল। আমাদের তরুণ প্রজন্মের জাতির কাছে জিজ্ঞাসা, কেন এই রাজনৈতিক দুর্বলতা? কেন এই ওয়ান ইলেভেনের অপরিসীম ক্ষমতা? তাই তরুণ প্রজন্মের সরকার বা বিরোধী দলের কাছে অনুরোধ আর যেন এই ওয়ান ইলেভেনের বা রাজনৈতিক জঘন্য ইতিহাস জাতিকে আর দেখতে না হয়। আর যেন অসংখ্য নিরীহ মায়ের কোল খালি না হয়। তাই তরুণ প্রজন্মের অনুরোধ, সরকার ও বিরোধী দলের প্রতি আপনারা দ্রুত সমঝোতায় আসুন এবং আপোস-মীমাংসার মাধ্যমে সুষ্ঠু-সুন্দর নির্বাচন করুন এবং দেশকে সহিংসতার হাত থেকে রক্ষা করুন। তা না হলে আবার হয়তো রাজনীতির কালো বা জঘন্য ইতিহাস জাতিকে বহন করতে হবে এবং জাতিকে বার বার প্রশ্ন করা হবে সত্যিই কি এটি গণতান্ত্রিক দেশ? তাই অনুরোধ, দয়া করে আর গণতন্ত্রকে অবহেলা করবেন না। উজ্জল হুসাইন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ, ১ম বর্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়