সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

দেশের স্বার্থে এখন সরকার ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা দরকার বাংলাদেশে বর্তমানে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে সেখান থেকে বেরিয়ে আসার জন্য সরকার ও প্রধান বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা দরকার। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কি আদৌ যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে? আগামী অক্টোবর মাসে সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কারো হাতে কি ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে নাকি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের হাতেই রাষ্ট্র ক্ষমতা থাকবে? নির্বাচন কার অধীনে হবে? যদি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর রাষ্ট্র ক্ষমতা না ছাড়েন আর বিএনপি যদি তাতে অমত পোষণ করে তখন কি হবে? তাহলে কি দেশে আবারো এক এগারোর সেনা-সমর্থিত সরকার কিংবা সরকারি সেনাশাসন ফিরে আসবে। আমরা চাই সমঝোতার মাধ্যমে রাজনীতির সংকটকে দূরীকরণ করে একটি অবাধ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেয়ার ব্যবস্থা করুন। মো. আবুবক্কর সিদ্দীক এমবিএ (আইবিএ), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ০০০০০ সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন আবার আসবে সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পালাবদল হোক এটাই সকলের প্রত্যাশা। কিন্তু নির্বাচন পূর্ব আবহাওয়া বার্তায় এ প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মনে হচ্ছে না। বরং এক দুর্যোগের আশংকায় আমরা আজ শংকিত। দেশের প্রধান বিরোধী দল বলছে, নির্বাচন হতে হবে নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে এবং এ দাবি আদায়ের জন্য তারা দেশব্যাপী দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তুলবে। পক্ষান্তরে, ক্ষমতাসীন দল বলছে, অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতই আমাদের দেশেও আসন্ন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অর্থাত্ তাদের অধীনেই। প্রয়োজনে বিরোধী দলের আন্দোলনকে তারা কঠোর হাতে দমন করবে। যাহোক নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কোন আলোচনা হবে বলে মনে হচ্ছে না। দু’দলই টেবিলের পরিবর্তে মাঠকে বেছে নিচ্ছে তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য। এমতাবস্থায় অভিশপ্ত, ১/১১-এর আগমনই আমরা টের পাচ্ছি। তাই প্রধান দুই দলের কাছে অনুরোধ আলোচনায় বসে সমঝোতায় আসুন, দেশকে ১/১১-এর ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করুন। মো. তোহা মিয়া সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ, মিরপুর-১৪, ঢাকা ১২০৬ ০০০০০ সমঝোতা করে উভয় দলই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন ভবিষ্যতে দেশের অবস্থা কোন্ পর্যায়ে যাবে তা নিয়ে সারাবিশ্ব উদ্বিগ্ন। আমরা সমঝোতা করতে জানি না বরং বিদেশি প্রভুর কাছে ধরনা দিতে বেশি আগ্রহী। ফলে আমরা আমাদের সম্মান ধরে রাখতে পারছি না। বস্তুত আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয়ই বিদেশি শক্তির উপর নির্ভরশীল। নির্বাচন নিয়ে সরকার ও প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান একই চক্রে ঘুরছে। পরিস্থিতি যে অনিশ্চয়তা এবং সংঘাতের দিকে যাচ্ছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা অপরিহার্য। বাস্তবতা হলো যুক্তি-তর্ক দিয়ে সমঝোতা হয় না। সমঝোতা করতে হয় আন্তরিক ইচ্ছা দ্বারা এবং উভয় পক্ষের ছাড়ের মাধ্যমে। আমরা কি একবারের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে বলতে পারি না যে, আমাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও সংকটের সমাধান আমরাই করব। মো. মাহবুবুর রহমান সম্মান চতুর্থ বর্ষ রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, বিএল কলেজ খুলনা ০০০০ গণতন্ত্র ও অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি অনুধাবন করে দ্রুত সমঝোতার উদ্যোগ নিন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ব্যাপক অবনতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সরকার ও বিরোধী দলের পরস্পর বিপরীতমুখী অবস্থানে পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থানে পৌঁছেছে। সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি সহিংস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ওয়ান-ইলেভেনের মতো হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই শীঘ্রই একটি সমাধানে পৌঁছা জরুরি। আমরা কোনভাবেই চাই না দেশ এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হোক। যা অর্থনীতিসহ অন্যান্য অবস্থাকে নাজুক অবস্থার মধ্যে ফেলতে পারে। এক্ষেত্রে নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে একটি ঐকমত্যে পৌঁছা জরুরি হয়ে পড়েছে। এর প্রধান দায়িত্ব সরকারের উপরই বর্তায়। তবুও গণতন্ত্র ও অর্থনীতির ঝুঁকির বিষয়টি অনুধাবন করে তারা দ্রুত রাজনৈতিক সমঝোতার উদ্যোগ নেবেন, এটাই মানুষের প্রত্যাশা। মো. আব্দুল বাসিত অনার্স ৪র্থ বর্ষ অর্থনীতি সিলেট এমসি কলেজ, সিলেট