ড. ইউনূস প্রসঙ্গ :শুধু শুধু লোক হাসাইয়া কী লাভ

গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আয়কর সংক্রান্ত্র একটি বিষয় সমপ্রতি বেশ আলোচনার খোরাক যোগাইয়াছে। ড. ইউনূস কর ফাঁকি দিয়াছেন নাকি বকেয়া কর দেন নাই, ইহা লইয়াও সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের নানা দ্বিধা দেখিতে পাওয়া গিয়াছে। যাহার কারণে ব্যাখ্যাও দিতে হইয়াছে। যাহাই হউক, ড.ইউনূসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি আয়কর ঠিকমত দেন নাই। গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কর না দেওয়ার অভিযোগ তোলা হইয়াছে। এই কারণে তাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা লইবার সিদ্ধান্তও সরকারের আছে। মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রীও জানাইয়াছেন যে, গ্রামীণ ব্যাংকের বিভিন্ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান আয়কর সুবিধা নিয়াছে। বেআইনি কর সুবিধা নেওয়ার বিষয়ে পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংকের সাত সহযোগী প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হইতে বলা হয়, বেআইনী কর সুবিধা নেওয়ার যে অভিযোগ আনা হইয়াছে তাহা ভিত্তিহীন। সাতটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হইতে দেওয়া যৌথ বিবৃতির পাল্টা বক্তব্য দিতে গিয়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলিয়াছেন, বার্ষিক বিবরণী জমা দেওয়ার সময় আয়কর অধ্যাদেশের অনেক ধারা প্রতিপালন করে নাই ওসব প্রতিষ্ঠান। ড. ইউনূস ও গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত তথ্যাদিসহ সিদ্ধান্তসমূহ এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হইয়াছে। এই প্রতিবেদনে ব্যক্তি করদাতা হিসাবে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রবাসী-আয়সহ বিভিন্ন তথ্য সন্নিবেশিত করা হইয়াছে। ইহার ফলে যে কেহই এখন ওয়েবসাইটে গিয়া বিস্তারিত জানিতে পারিবেন। যদিও কথা থাকিয়া যায় যে, আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী করদাতার তথ্য গোপন রাখিবার বাধ্যবাধকতা এনবিআরের রহিয়াছে। এইক্ষেত্রে এনবিআর কেন সেই বাধ্যবাধকতা মানিল না তাহা নিয়াও কানাঘুষা কম হইতেছে না। এইখানে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্ব পালনের সঠিকতা লইয়াও প্রশ্ন উঠিতে পারে। এইখানে বলা আবশ্যক যে, এতদিন পরে কেন কর ফাঁকি বা বকেয়া করের বিষয়টি উত্থাপিত হইয়াছে? আর যদি সত্যি সত্যি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সঠিক হয়, তাহা হইলে কিসের ভিত্তিতে তিনি কর মওকুফ সুবিধা পাইলেন এবং কাহাদের নির্দেশে তাহাকে এই সুবিধা দেওয়া হইলো তাহাও খুঁজিয়া বাহির করা দরকার। সংশ্লিষ্ট দফতরের যাহারা এই কাজ করিয়া থাকেন, তাহারাও সুচারুভাবে নিজ কার্য সম্পাদন করেন নাই-তাহাও ইহাতে প্রতীয়মান হয়। তবে কী তাহাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা লইবার ঘোষণা আমরা শুনিতে পারিবো? ড. ইউনূসের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করিবার জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ হইতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানানো হইয়াছে। ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দুটি সম্মান প্রেসিডেন্সিয়াল ও কংগ্রেশনাল পদক পাইয়াছেন। তাহার কাজের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সম্মান জানানোর এই প্রক্রিয়াকে বিশ্বের অনেকেই স্বাগত জানাইয়াছিল। ড. ইউনূস আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ত্ব। তিনি এমন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার ছিলেন, যেই প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ভিত্তি চিন্তা করিলে তাহার বিরুদ্ধে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ আসিতে পারিতো। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হইতেছে যে, সেই ধরনের বড় কোন অভিযোগ তাহার বিরুদ্ধে করা হয় নাই। বরঞ্চ যাহা শুনিতেছি তাহা সেই তুলনায় নেহায়েতই ‘মামুলি’ বলা যাইতে পারে। যেই কারণে ঢাকায় এখন এমন কথাও শোনা যাইতেছে যে, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের ধরন দেখিয়া পাছে ‘ঘোড়া ভি না হাছে’। সেই কারণেই বলিতে হয়, শুধু শুধু লোক হাসাইয়া লাভ কী তাহাতে।