আলোকপাত
সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে হবে
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৪
গতকালের খবরের মধ্যে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক খবর হলো ফেলানী হত্যার পুনর্বিচার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএসএফ। বিএসএফ মহাপরিচালক সুভাস যোতি ভারতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে আলোচনা করে এমন সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণ-মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে।
ভারত ভিন্ন একটি রাষ্ট্র বা দেশ হলেও সব সময় মনে হয়েছে ভারতের সাথে কোথায় যেন আমাদের একটা যোগসূত্র রয়েছে অন্তরের গহীনে। সেটা শুধু ভারত রাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশ ভৌগোলিক রাষ্টের সম্পকের্র গণ্ডিতে নয়। এর চেয়েও বেশি কিছু। ভারতবাসী প্রতিটি মানুষের সাথে বাংলার প্রতিটি মানুষের যোগসূত্র এটি। যার ভিত্তি ১৯৭১ সালে আমাদের মহান অর্জন মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে; অর্জিত আজকের বাংলাদেশ। যে অর্জনের পিছনে ভারতের ছিল বিশাল এক ভূমিকা। তাই ভারত মানেই বাংলার সারে সাত কোটি মানুষের পরম বন্ধু। আস্থা ও ভরসার স্থল। কত মমতা দিয়ে, কত দায়িত্বশীলভাবে একাত্তরে দুঃসময়ে ভারত আমাদের শরণার্থীদের খাদ্য যোগান দিয়েছে, তাদের ভূমি আমাদের ব্যবহার করতে দিয়েছে। তাদের অস্ত্র, তাদের সৈন্য সব কিছু দিয়ে আমাদের সাহায্য করেছে বিপুলভাবে। তাই তো বাঙালির মুক্তির ইতিহাসের সাথে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতের নাম যুক্ত হয়ে আছে স্বর্ণাংক্ষরে। আজও সে ইতিহাস বাঙালি জাতি ভুলেনি। স্মরণে রেখেছে সকল কালে, সময়ে-অসময়ে। স্মরণে রাখতেও চায় প্রতি ক্ষণে ক্ষণে। ভারত সরকার তাই যখন যা চেয়েছে বাংলাদেশের মানুষ ও তার সরকার চেয়েছে মুক্তহস্তে সার্বিকভাবে সহায়তার পথটি খোলা রাখতে।
আজ বাস্তবতা হলো দিন, দিন বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ক্ষীণ হয়ে যাচ্ছে ভারত বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সর্ম্পক। সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনায় তা মনে করবার নানাবিধ কারণও আছে। তারমধ্যে তিস্তা পানি চুক্তি, ছিটমহল বিনিময়, গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা, সীমান্ত হত্যার মত বিষয়গুলো তো; জন মনে উদ্বেগের কাটা হয়ে আছে। শেষমেষ, তার সাথে যুক্ত হলো সীমান্ত রক্ষী দ্বারা ফেলানী হত্যার প্রহসনমূলক বিচার। যা বাংলাদেশকে বা বাঙালিকে রীতিমত বিক্ষুব্ধ করে তুলছে। সমালোচনার ঝড় উঠেছে গোটা দেশময়। যদি বাংলাদেশ সরকার ফেলানী হত্যাকাণ্ডের বিষয় টিকে যেন-তেনভাবে দেখে সয়ে নেয়, যদি ন্যায়সঙ্গত বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ শেষে ব্যর্থ হয়, তবে নিশ্চিত করে বলা যায়, সেটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় হয়ে থাকবে। পাশাপাশি সীমান্ত সীমানায় নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বহুগুণে বাড়াবে। বিপন্ন বোধ করবে সীমান্তে বসবাসকৃত নিরিহ দরিদ্র মানুষ। ভাঙবে তাদের মনোবল। তাই বাংলাদেশকে যে কোন মূল্যে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হতে হবে। যদিও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ফেলানী মামলার রায়ে সন্ু্তুষ্ট না হলে আপীল করা হবে। (১৩ সেপ্টেম্বর- প্রথম আলো) ঠিক এর পরপরই গত শুক্রবার রাতেই টেলিভিশনে বিভিন্ন চ্যানেলে; ভারতের হাইকমিশনারের বরাতে জানা গেলো, বিএসএফ ফেলানী বিচার পুনর্বিচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেখা যাক শেষে তারা কী হয়। ভারত আমাদের বন্ধু দেশ। কিন্তু তারপরও সিমান্তে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, সীমান্তে হত্যা শূন্যে কৌটায় আনার ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাসের পরও প্রতিদিন নিরিহ বাঙালি মরছে পাখির মতন। সীমান্তে অপর প্রান্ত হতে বাংলাদেশে আসা মাদক ও নেশা জাতীয় দ্রব্যের অবৈধ ব্যবসা জমজমাট। যার কালো থাবা পরছে বাংলার যুব সমাজের উপরে। ভারতে পক্ষ হতে দেয়া কাঁটাতারের বেড়া ছিন্ন-বিছিন্ন হচ্ছে দুদেশের মানুষের মনের আদান-প্রদান। কিন্তু এতে এতটুকু ছাড় না দিলেও অবৈধ ব্যবসায় ঠিকই ছাড় পাচ্ছে কালো ব্যবসায়ীর বিএসএফের কাছ থেকে। বাংলাদেশ বার্ডার গার্ডের মহাপরিচালকের সাথে ভারতের বিএসএফ প্রধানের যৌথ সভার কথা রয়েছে আগামী রোববার। সময় এসেছে আমাদের ন্যায্য দাবীগুলো উত্থাপন করার। নিশ্চিতভাবে সীমান্তের হত্যাকে শূন্যে কৌঠায় আনতে হবে। জোড়ালোভাবে বলতে হবে- No killing in border.
লেখক :সমাজ কর্মী