কোন্ পথে যাচ্ছে রাজনীতি

এক সময় যেভাবে ঘরে-ঘরে ও পাড়ায়-পাড়ায় ক্যারাম বোর্ড খেলা চলতো, আজকাল তেমনটি আর দেখা যায় না। দীর্ঘ জেল জীবনের অন্তরীণ দিনগুলো পড়াশুনা, রাজনৈতিক ক্লাস, বাগানের পরিচর্যা, শখের রান্না-বান্না, মেস পরিচালনা ইত্যাদি রুটিন কাজে ভরে থাকতো। এর বাইরে বিনোদনের জন্য গান-নাটকের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি একটি বড় সময় ধরে থাকতো ক্যারাম প্রতিযোগিতা। ক্যারাম খেলায় একটি কৌশলী মার হলো এ্যাঙ্গেল শট। স্ট্রাইকারটিকে এমনভাবে হিট করা হয় যাতে সেটিকে হয়তো ডান বরাবর পাঠিয়ে গুটির এক কোণায় স্পর্শ করিয়ে সেই গুটিকে ঠিক বিপরীতমুখী বাম দিকের পকেটে ফেলার চেষ্টা করা হয়। ডান দিকে স্ট্রাইক করে গুটিকে বাম দিকে, কিম্বা তার বিপরীত ব্যবস্থায় বাম দিকে স্ট্রাইক করে গুটিকে ডান দিকে ফেলার এই কৌশলকে বলা হয় এ্যাঙ্গেল শট। দেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র হম্বি-তম্বি ও তরবারি ঘোরানোর যাবতীয় কসরত্ দেখে সন্দেহ হয় যে, এসবের সবই এ দুটি দলের এ্যাঙ্গেল শটের মতো চাল কিনা। কিম্বা, সবটাই দু’পক্ষের দিক থেকে দরকষাকষির পরিকল্পিত প্রয়াস কি না। না কি, পরিস্থিতি দু’পক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে এক অমীমাংসাযোগ্য অচলাবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। অথবা কোনো বিশেষ ব্লু-প্রিন্টের ছক ধরে পরিস্থিতিকে সেদিক ধাবিত করার ষড়যন্ত্রমূলক খেলার অংশ হিসেবে সবকিছু ঘটানো হচ্ছে। দেশবাসীর জীবনে সমস্যার কোনো শেষ নেই। রাষ্ট্র, সমাজ, অর্থনীতিতেও সমস্যা অন্তহীন। এসব সমস্যা নিয়ে মানুষ ব্যতিব্যস্ত। সমস্যার পাহাড়ে দেশ ডুবতে বসেছে। সংসারের আয়-ব্যয় মিলাতে মানুষ দিশেহারা। টু-পাইস এধার-ওধার করে আয় বাড়ানোর পথ করে নিতে না পারলে মাসের অর্ধেক সময় সংসার অচল। প্রাণান্ত পরিশ্রম করে সংসার খরচ যোগাড় করতে যেয়ে তাদের জীবনীশক্তি নিঃশেষ হচ্ছে। যেসব ঘরে বিদেশ থেকে রেমিটেন্স আসে তারা কিছুটা স্বস্তিতে থাকলেও বাজারে কাঁচা টাকা ছড়িয়ে পড়ায় সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির কারণে অপরাপর সাড়ে চৌদ্দ আনা মানুষ আরো অসহায় হয়ে পড়ছে। এদিকে, চোখের সামনে হাজার হাজার কোটি টাকা স্রেফ লুটপাট করে ফুলে-ফেঁপে উঠছে একশ্রেণির নব্য-লুটেরার দল। লুটপাটের আয়োজন করতে দেশ ও দেশের সম্পদ বেঁচে দেয়া হচ্ছে সাম্রাজ্যবাদী প্রভুদের কাছে। ঘুষ, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দলবাজি, তদবিরবাজি, নমিনেশন-বাণিজ্য, পদ-বাণিজ্য, ভর্তি-বাণিজ্য, সিট-বাণিজ্য, পদায়ন-বাণিজ্য, বদলি-বাণিজ্য, ভূমি দখল, নদী-খাল-বিল-পাহাড়-জঙ্গল দখল, খুন-ধর্ষণ, ছিনতাই, রাহাজানি, যানজট, রাস্তা-ঘাটের বেহাল অবস্থা, লুটপাটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে হানাহানি-খুনাখুনি— এসব ঘটনা নিত্যদিন ঘটে চলেছে চতুর্দিকে। সর্বাঙ্গে ব্যথা, ওষুধ দেব কোথা— অবস্থা দাঁড়িয়েছে সেরকম। সরকার অবশ্য একথা প্রমাণে গলদঘর্ম হচ্ছে যে, দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে ও হচ্ছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী বুক ফুলিয়ে ঘোষণা দিয়েছেন যে, বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বছরে ১ হাজার ডলার ছাড়িয়ে গেছে। অর্থমন্ত্রী হয়তো ভেবেছেন, এই হিসাব শুনে যে আহ্লাদে বগল বাজানোর কিছু নেই, সেকথা মানুষ টের পাবে না। একজন লোক যদি বছরে হাজার লক্ষ ডলার আয় করে ও ১ লক্ষ লোক যদি মাত্র ১০০ ডলার করে আয় করে তাহলেও মাথাপিছু আয় ১,০০০ ডলার হয়েছে বলে হিসেব কষে দেখানো যায়। একথা ঠিক যে মহাজোটের পাঁচ বছরের শাসনকালে কাজ যে কিছুই হয়নি, তেমন কথা বলা যাবে না। কিন্তু দেশ ও দেশের জনগণ আজ যে সবকিছু মিলিয়ে ভালো নেই, তারা যে সমস্যা-সংকটে জর্জরিত— প্রকৃত সত্য কথা হলো এটিই। সাধারণ মানুষের অভিমতও সুস্পষ্টভাবে তেমনই। জনমত কখনই ভুল হয় না। পরিসংখ্যানের চাতুরিপূর্ণ ম্যানুপুলেশনের চেয়ে তা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য। দেশের অন্যান্য সব মৌলিক সমস্যাকে পাশে ঠেলে দিয়ে রাজনীতির একটি বিশেষ সমস্যার প্রতি জনগণের দৃষ্টি এখন কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। প্রচলিত ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে যেসব রক্ষণশীল শক্তি আগ্রহী, এটি তাদেরই একটি পুরোনো কৌশল। তুলনামূলকভাবে গুরুত্বহীন কিম্বা কোন নন-ইস্যুকে ‘প্রধান ইস্যু’ বানিয়ে তারা জনস্বার্থ সম্পৃক্ত প্রকৃত ইস্যু থেকে জনগণের দৃষ্টি সরিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে এ কাজ করে থাকে। তাই, বুর্জোয়া শক্তির ক্ষমতার খেলার পরিণতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুটি এখন দেশের প্রধান ও বহুলাংশে একমাত্র ইস্যু বানিয়ে ফেলা হয়েছে। গদি দখলের এই খেলা অবশ্য আগুন নিয়ে বিপজ্জনক এক মরণ খেলা। যার পরিণতিতে দেশ ভয়াবহ বিপদে নিক্ষিপ্ত হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কয়েকদিন আগে বলেছেন, সংসদ বহাল রেখেই ২৭ অক্টোবর থেকে ২৪ জানুয়ারি এই ৯০ দিনের মধ্যে কোনো একদিন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হবে না। ছোট আকার নিয়ে বর্তমান সরকারই অন্তর্বর্তী দায়িত্ব পালন করবে। প্রধানমন্ত্রীর এ কথার সঙ্গে বিএনপি দ্বিমত পোষণ করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নিজ দলীয় অবস্থান ও ভাষায় তাদের যুদ্ধংদেহী মনোভাব তারা তুলে ধরেছেন। বস্তুত এটিকেই এখন পরিণত করা হয়েছে জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে সরগরম বিষয়ে। এমন হওয়াটা কিছুটা স্বাভাবিক। কারণ, ২৪ জানুয়ারি সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নির্বাচন করতেই হবে। অন্যথায় নতুন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা সম্ভব হবে না। দেশে তাহলে বিপজ্জনক সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হবে। এমতাবস্থায়, নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে অনিশ্চয়তা মারাত্মক বিপজ্জনক একটি ঘটনা। বর্তমান অবস্থা তাই ‘গণতন্ত্রের’ জন্য মোটেও মসৃণ ও টেকসই নয়। সরকার অবশ্য বার বারই বলছে, তারা যা করতে চাইছে তা সংবিধানের আলোকেই। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান এখন সংবিধান থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। সংবিধানের সেই পথ থেকে ‘চুল পরিমাণও’ সরে আসবে না আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে সরকারের প্রধান যুক্তি হলো, সংবিধান থেকে সরে গেলেই আবার ‘তারা’ চলে আসবে। ‘তারা’ মানে তৃতীয় শক্তি। আর এই তৃতীয় শক্তি যাতে ক্ষমতায় না আসতে পারে, তার জন্যই সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দেয়া হয়েছে। সুতরাং, নির্বাচন হবে পরিবর্তিত সংবিধান মতে, দলীয় সরকারের অধীনে। অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও আইনজ্ঞরা বলেছেন, সরকার সংবিধানের দোহাই দিয়ে আম-জনতাকে আসলে ‘হাইকোর্ট’ দেখানোর চেষ্টা করছে। বলা হয়ে থাকে যে, হাইকোর্টের রায়ের আলোকে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে উল্লিখিত এই সংশোধনীটি আনা হয়েছে। সরকার আসলে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের একটি চাতুর্যপূর্ণ অপব্যাখ্যা করছে। কারণ সেখানে ‘প্রয়োজনে’ আরো দুই মেয়াদ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে বলা হয়েছে। সংসদ সে রকম বিধান সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করলে তা আদালতের রায়ের বরখেলাপ হবে না বলে আগাম জানিয়ে দেয়া হয়েছে। রায়ের সেই অংশটিকে সরকার কৌশলে পাশ কাটিয়ে গিয়েছে। রায়ের ‘প্রয়োজনের’ অংশটুকুর প্রয়োজনীয়তা সরকার বুঝতে চায়নি। কারণ তা না বুঝাটাই তাদের ‘বিজয়’ মঞ্চায়নের জন্য সুবিধাজনক। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর নির্বাচন নিয়ে জটিলতা আরো বাড়লো। অনিশ্চয়তা আরো গভীর হলো। সরকারের এ অবস্থানের কারণে, অনিশ্চয়তা তৈরি করে যারা ফায়দা লুটতে চায় তাদের সেই সুযোগ আরো বেড়ে গেল। এসব কোন অবস্থাই গণতন্ত্রের সুস্বাস্থ্যের জন্য কোন ভাল কথা না। প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হবে। সেই কথা থেকে তিনি পিছিয়ে এসেছেন। এখন তিনি বলছেন, সংসদ ভাঙ্গবেন না। ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এ সরকারের মেয়াদ আছে। নির্ধারিত সময় শেষে এ সংসদ আপসেআপ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে— সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে একথাও বলা আছে যে, মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অন্য কোনো কারণে সংসদ ভেঙ্গে গেলে, ভেঙ্গে যাওয়ার দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। আগে-ভাগে সংসদ ভেঙ্গে দিয়ে সে পথে নির্বাচন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু, যেহেতু সংসদ ভেঙ্গে দেয়া হচ্ছে না, তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী সময়েই নির্বাচন হবে। এতে সাংসদ ও মন্ত্রীরা তাদের পদে বহাল থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা সকল সরকারি সুবিধা ভোগ করবেন। অর্থাত্ নির্বাচনের শুরু থেকেই একটি অসম প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। এতে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ হল না। অন্যরাতো বটেই, এমনকি সেক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অনেক কর্মকর্তাও মনে করেন, সংসদ ভেঙ্গে দেয়ার পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন হলে সরকার বহির্ভূত দলগুলো অপেক্ষাকৃত কম বৈষম্যের শিকার হতো। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, ছোট আকারের মন্ত্রিসভাও বহাল থাকবে। সরকারি ক্ষমতার পাশাপাশি যদি নির্বাচনের সময় মন্ত্রী-এমপির বাড়তি সুবিধাও যোগ হয়, তাহলে সেটা যে কতোটা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ হবে তা যেকোন আহাম্মকও বুঝবে। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, সংসদ বহাল থাকলেও তার অধিবেশন ডাকা হবে না। কিন্তু তাতে একতরফা সুযোগ-সুবিধা ভোগের ক্ষেত্রে কোন হেরফের হয় না। নির্বাচনকালে নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা নিয়ে যে অচলাবস্থা ও নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে তার কোন মীমাংসা এখনো হয়নি। সংলাপ-সংলাপ বলা হলো খুব, কিন্তু তা নিয়ে কাজের কাজ বেশিদূর এগোলো না। সংলাপের প্রশ্নে একবার একপক্ষ আগায়, তো অন্যপক্ষ তখন পিছিয়ে যায়। এরকমই চলেছে অনবরত। একসময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিএনপি’র কাছে চিঠি যাবে। কিন্তু সে তত্পরতা বন্ধ হয়ে গেল। এমন অনিশ্চিত ও অচলাবস্থার মাঝে ‘সিরিয়া পরিস্থিতির’ মধ্যেও সময় বের করে জাতিসংঘের মহাসচিব দুই নেত্রীকে ফোন করেছিলেন। জাতিসংঘের কর্মকর্তারা খুবই দূরদৃষ্টিসম্পন্ন। ২০০৭ সালেও তারা পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরেছিলেন। তখন ঢাকায় জাতিসংঘের একটি অফিস উদ্যোগ নিয়ে দুই বছরের জন্য সামরিক বাহিনী সমর্থিত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ডেকে নিয়ে এসেছিল। তারা এর নাম দিয়েছিল ‘ওয়ান ইলেভেন’। নাম দেখেই বোঝা যায়, এটা আসলে পশ্চিমা ও ইউরোপীয় সাম্রাজ্যবাদের অনুকরণে তৈরি। এখানে যারা অভিনয় করেছেন, তারা আদতে তাদেরই প্রতিনিধি। যাই হোক, এই ইতিহাস মাথায় থাকার পরেও জাতিসংঘ মহাসচিবের আশঙ্কা নিয়ে কোনো পক্ষই দায়িত্বশীল আচরণ করলো না। ফলে জাতিসংঘের মহাসচিবের ফোনের পর এ নাটকের সমাপ্তি ঘটেছে। ফলে সমস্যা সমস্যার জায়গায় রয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই একতরফা ঘোষণা আসলে ‘মড়ার উপরে খাঁড়ার ঘায়ের’ মতোই। একেবারে ‘ডেডলক’ মুখী। কোথায় আগের জট থেকে বেরিয়ে এসে একটি গ্রহণযোগ্য-অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে যাবে দেশ, তা না করে আরো জটিলতার মধ্যে প্রবেশ করল রাজনীতি। সংলাপ বা সমঝোতার সব ধরনের পথ প্রায় রুদ্ধ হওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি হলো। ২০০৭ সালেও বিএনপি একই পথ নিয়েছিল। তার ফল হয়েছিল ওয়ান-ইলেভেন। সরকার হয়তো ভাবছে যে, একতরফা নির্বাচন করে এবার পার পেয়ে যাবে। কিন্তু তা কি টেকসই সমাধান এনে দিতে সক্ষম হবে? না কি, তার ফলে ওয়ান-ইলেভেনের মতো ঘটনা কেবল সেই একতরফা নির্বাচন-পরবর্তী নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি পর্যন্ত পেন্ডিং হয়ে থাকবে মাত্র। সরকারের বর্তমান পদক্ষেপ বা উস্কানি কি সেরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিপজ্জনক পরিণতিকে উসকে দিচ্ছে না? হয়তো তাই। কিম্বা ঘটনা এমনও হতে পারে যে, শেষ পর্যন্ত সমঝোতার ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে। এখন যে হম্বি-তম্বি ও তলোয়ার ঘোরানোর মহড়া চলছে তা সবই হলো সমঝোতায় দরকষাকষির প্রাণান্ত খেলা মাত্র। কিন্তু সে খেলাও বিপজ্জনক কম নয়। লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি E-mail : selimcpb@yahoo.com