বস্তিবাসীদের জন্য স্বস্তিকর সংবাদ
প্রকাশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৫
ঢাকা ওয়াসা বৈধভাবে বস্তিবাসীদের পানির সংযোগ দিতে শুরু করিয়াছে। ইতিমধ্যে রাজধানীর ৩ শত বস্তির ৬৩ হাজার ৬১৮টি পরিবারকে সংযোগ দেওয়া হইয়াছে। তন্মধ্যে শুধু করাইল বস্তির ১৫ সহস্রাধিক পরিবার এখন বৈধভাবে পানি পাইতেছে। ইউনিসেফসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় অন্যান্য বস্তিতেও এই সুবিধা সমপ্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হইয়াছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে নিম্ন আয়ের মানুষের নিকট পানি পৌঁছাইয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সাফল্যের জন্য এই বত্সর ‘ওয়াটার লিডার্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করিয়াছে ঢাকা ওয়াসা। গত এপ্রিলে স্পেনে অনুষ্ঠিত বিশ্ব পানি সম্মেলনে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কারের অর্থও এই কার্যক্রমে ব্যয় করিবার সিদ্ধান্ত নিয়াছে সংস্থাটি। সামগ্রিকভাবে ইহা যে বস্তিবাসীদের জন্য স্বস্তিকর একটি সংবাদ তাহাতে সন্দেহ নাই। পানি ও বিদ্যুতের জন্য বস্তিবাসীদের হাহাকার দীর্ঘদিনের। অবশ্য সরকারি এই সুবিধা হইতে তাহারা যে সম্পূর্ণ বঞ্চিত ছিল তাহাও বলা যাইবে না। অবৈধভাবে অনেকেই পানি-বিদ্যুত্ পাইলেও তাহার জন্য দরিদ্র ও স্বল্প আয়ের এই মানুষগুলিকে ব্যয় করিতে হইয়াছে দ্বিগুণেরও বেশি অর্থ। আবার দরিদ্র মানুষের রক্ত-পানি-করা সেই অর্থ যে সরকারি কোষাগারে পৌঁছায় নাই, তাহাও বলার অপেক্ষা রাখে না। অর্থাত্ সরকার ও বস্তিবাসী জনগণ উভয়ই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হইয়াছেন। আর তাহার ফায়দা লুটিয়াছে বিভিন্ন অসাধু চক্র।
সকল অর্থেই বস্তিবাসীরা হইলেন নিজভূমে পরবাসী। প্রায় সোয়া কোটি জনসংখ্যার এই রাজধানীর কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ মানুষই কোনো না কোনোভাবে বস্তিতে বসবাস করিতে বাধ্য হয়। তাহারা এই মহানগরীর অবিচ্ছেদ্য অংশ তো বটেই, তাহাদের সহায়তা ছাড়া এই নগরী কার্যত অচল। নির্মাণ, পরিবহন, পরিচ্ছন্নতা ও পোশাক শিল্প হইতে শুরু করিয়া গৃহস্থালি কর্ম পর্যন্ত নগর জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে বত্সরের পর বত্সর ধরিয়া অসামান্য অবদান রাখিয়া চলিয়াছে দরিদ্র এই মানুষগুলি। সেই তুলনায় তাহাদের আয় অতি নগণ্য। ফলে সময় ও অর্থসাশ্রয়ের জন্য কর্মস্থলের পাশে গড়িয়া উঠা বিভিন্ন বস্তিতে মানবেতরভাবে বসবাস করা ছাড়া তাহাদের গত্যন্তর থাকে না। সেইখানে এমনিতেই আলো-বাতাস ঢোকে না, তদুপরি পরিবেশও অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পানি-বিদ্যুত্সহ বিভিন্ন সরকারি পরিসেবায় সচ্ছল নাগরিকদের সহজ প্রবেশাধিকার থাকিলেও বস্তিবাসীরা এই ক্ষেত্রেও বঞ্চিত হইয়া আসিতেছে দীর্ঘদিন যাবত্। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলিয়াছেন যে, বস্তিবাসীদেরও ওয়াসার সরবরাহকৃত পানি পাইবার অধিকার রহিয়াছে। কথাটি সত্য। নাগরিক হিসাবে সকল সরকারি সেবা পাওয়া তাহাদের সাংবিধানিক অধিকার। এই ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নহে। সর্বোপরি, বস্তিবাসীদের অবদান ও অসহায়তার বিচারে সরকারি সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে তাহাদেরই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত বলিয়া আমরা মনে করি।
বিলম্বে হইলেও ঢাকা ওয়াসার গৃহীত উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রয়োজনীয় ও প্রশংসনীয়। তবে মনে রাখিতে হইবে যে শুধু রাজধানীতেই লক্ষ লক্ষ মানুষ বস্তিতে বসবাস করে। সেই তুলনায় ঢাকা ওয়াসার উদ্যোগটি যে খুবই অপ্রতুল তাহা বলার অপেক্ষা রাখে না। রাজধানীর বাহিরে অন্যান্য মহানগরেও বস্তিবাসীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। সরকারি সেবা সমপ্রসারণের মাধ্যমে যতদূর সম্ভব তাহাদের দুর্ভোগ লাঘব এবং জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় রাখিতে হইবে নীতিনির্ধারক মহলকে।