গার্মেন্টস পরিস্থিতি
প্রকাশ : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৮
শ্রমিক অসন্তোষের অবসান ঘটবে একটা মীমাংসার মধ্যে। এভাবে অসন্তোষ চলতে থাকলে এই খাত আরো সঙ্কটের মুখে পড়তে পারে। আমাদের দেশে গার্মেন্টস শ্রমিকের মজুরি খুব কম। এতো কম যে তাদের জীবনযাত্রা নানাভাবে বাধাগ্রস্ত। তাই আমি মনে করি তাদের বেতন কাঠামো ঠিক করে সমাধান হওয়া দরকার।
সানিজদা আক্তার শিলা
সিডনি, অষ্ট্রেলিয়া
পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের বেতন বাড়ানোর কোন বিকল্প নেই। অন্য শিল্পে শ্রমিকদের তুলনায় তাদের নিম্নতম মজুরি অনেক কম। তাই তাদের মজুরি নিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা ন্যায়সঙ্গত বটে কিন্তু সমাধান হওয়া দরকার।
শাহানারা ইয়াসমীন
মিরপুর-১, ঢাকা
শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কর্মস্থলে নিরাপত্তাহীনতার কারণে এই সঙ্কটগুলো আজ সৃষ্টি হয়েছে পোশাকশিল্পে। আমাদের দেশে এই শিল্পখাত এখন নানাভাবে অধিকার বঞ্চিত। তাদের যে বেতন তাতে করে বিশ্বে কোথাও এতো কম মজুরিতে জীবনযাপন করা বড়ই কঠিন। তাই এখন সরকারের উচিত শ্রমিক নেতা ও মালিক পক্ষের মধ্যে আলোচনা সাপেক্ষে বেতন নির্ধারণ করা।
নাসরিন সুলতানা
স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক
তৈরি পোশাকশিল্প খাতে আবার অস্থিরতা বিরাজ করছে। কয়েকদিন ধরেই রাজধানী ঢাকা, আশুলিয়া, সাভার, নারায়ণগঞ্জ প্রভৃতি এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল, সড়ক অবরোধ, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। তাই এখন দরকার সঠিক মালিক পক্ষের সিদ্ধান্ত।
হোসনে আরা করিম
এনায়েতগঞ্জ লেন, ঢাকা
গত কয়েক বছরে বাজারে কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশাজীবীদের আরও বেড়েছে। বাড়েনি কেবল গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি। তাই বর্তমান যে বেতন-ভাতা নিয়ে পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে তা এখনই মালিক ও সরকারের ভাবা দরকার।
মনির হোসেন
মনির বুক এন্ড সংবাদপত্র বিক্রয় কেন্দ্র,
মিরপুর-১, ঢাকা
গার্মেন্টসখাতের চলমান অস্থিরতা নিয়েও সরকারকে দ্রুত তত্পর হতে হবে। একটি দেশের ভবিষ্যত্ নিয়ে রাজনীতিবিদদের অবহেলা কিংবা উদাসিনতা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না।
আইরিন সুলতানা মনজু
ধুপপুর, মাইজপাড়া,
চট্টগ্রাম
দেশটা হঠাত্ করে থমকে যাচ্ছে। তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু বেতন-ভাতার জীবনমানে এই শিল্পের শ্রমিকরা পিছিয়ে পড়ছেন। সুতরাং তাদের এই দাবি-দাওয়ার এখনই সমাধান দেয়া দরকার।
হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী
কবিরহাট, নোয়াখালী
একজন শ্রমিক কাজ করতে গিয়ে যে পরিমাণ শক্তি ক্ষয় করে তা পূরণ করে উত্পাদন অব্যাহত রাখা ও পরিবারের কথা বিবেচনা করলে তার মজুরি হওয়া দরকার ১৭ হাজার ৮শ’ টাকা। সুতরাং কিভাবে এটা সুরাহা করা যায় সেই ব্যবস্থা করা দরকার।
নীলুফা আক্তার
টোলারবাগ, মিরপুর, ঢাকা
পোশাকশিল্পের বেতনভাতা বাড়ানোর জন্য শ্রমিকরা আন্দোলন করছে। নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, জিএসপি সুবিধা বহাল, ন্যূনতম মজুরি ৮০০০ টাকা। সেইসাথে শ্রমিকের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এ আন্দোলন। সত্য কথা বলতে কি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি যখন বিনষ্ট হতে থাকে অথবা হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, তখন পুলিশ-মালিক পক্ষ কেউই নীরব থাকতে পারে না, থাকা উচিতও নয়।
আমরা যখন আন্দোলনের নামে ভাংচুর, মানুষ হত্যা কিংবা প্রতিষ্ঠানে আগুন লাগানোর মত যখন জঘন্য কর্মকাণ্ড দেখি তখন অবশ্যই আমরা চিন্তিত হই এরা কারা? যারা এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে, তারা সেই প্রতিষ্ঠান কি করে নিজ হাতে ধ্বংস করে? এই ব্যাপারে শ্রমিক ভাইবোনদের প্রতি অনুরোধ থাকবে। ভাবাবেগে তাড়িত না হয়ে সুচিন্তিতভাবে কর্মসূচি হাতে নিন। মনে রাখবেন, দেশের স্বার্থ সবার উপরে। মালিক পক্ষ আয় করতে পারলে, আপনাদেরও কেন ভাতা বাড়বে না?
আমরা মনে করি, বর্তমান আন্দোলনের ফলে অনেক গার্মেন্টসে সঠিক সময় উত্পাদিত পণ্য রফতানি করা সম্ভব হবে না। সে কারণে আমাদের গার্মেন্টস শিল্পের অর্ডারসমূহ অন্য দেশে চলে যেতে পারে। সেটি কখনই কাম্য হতে পারে না। আমাদের আশংকা এই আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষের কেউ উস্কানি দিয়ে গার্মেন্টেসশিল্পের ব্যাপক ক্ষতি না করে বসে। সরকার ও মালিক পক্ষকে অনুরোধ জানাবো, শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া মেনে নেয়ার পাশাপাশি তৃতীয় পক্ষের কোন কারসাজি আছে কিনা তাও খতিয়ে দেবেন। আমাদের দেশে যে শিল্পটি মাথা উঁচু করে দাঁড়ায় তা ধ্বংস করার লোকের অভাব হয় না।
ওয়াহিদ মুরাদ
পিরোজপুর, স্বরূপকাঠি
গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন তাদের নয়। এটা বিরোধী দল ও যুদ্ধোপরাধীদের বিচার সঠিকভাবে যাতে সরকার করতে না পারে তার একটা রাজনীতির ষড়যন্ত্র। আজকে বিএনপি’র কথা শুনে বোঝা যাচ্ছে যে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায় না, বরং তারা আবার ক্ষমতায় আসার জন্য পাঁয়তারা চালাচ্ছে। এজন্য সরকারের গোয়েন্দা বিভাগের ব্যর্থতার জন্য দায়ী মনে করছি। তারা যদি সঠিকভাবে কাজ করে তাহলে প্রমাণ হয়ে যাবে যে শ্রমিকরা কখনই নিজের কল-কারখানা কোনদিন ক্ষতি করবে না। দেখা যাচ্ছে যারা গাজীপুরে গন্ডগোল করছে তারাই আবার নারায়ণগঞ্জে করছে। একই শ্রমিক ক’টি কারখানায় কাজ করে? নিশ্চয়ই তারা কোন দলের পক্ষ হয়ে এদেশকে ক্ষতি করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। যুদ্ধাপরাধীরা অনেক শক্তিশালী তাদের কাছে টাকার বল আছে। কিন্তু স্পষ্টভাবে বলতে চাই ১৯৭১ সালে তারা যেভাবে পরাজয় হয়েছিল। ইনশাল্লাহ এবারও তাদের পরাজয় হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের জয় হবে।
সৈয়দ হায়দার আলী
সভাপতি, মহাখালি যুব কল্যাণ সমিতি,
মহাখালি, ঢাকা
আমাদের বিশ্বাস সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি বেতন কাঠামো গঠনের মধ্য দিয়ে এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে।
বিপ্লব আলম
উর্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা
গার্মেন্টস শিল্পে শ্রমিকদের বেতনভাতা নিয়ে যে বিক্ষোভ, ভাংচুর, সংঘর্ষ অবরোধ শুরু হয়েছে তা শেষ হওয়া দরকার। মালিকপক্ষকে মনে রাখতে হবে উপযুক্ত পারিশ্রমিক কেবল শ্রমিকের আয় ও একটু ভালো থাকা নিশ্চিত করে না, তাদের কর্মদক্ষতাও বৃদ্ধি করে। মালিকদের জন্য শিল্প বিকাশের সম্ভাবনাও এনে দেবে।
মো. মোজাহারুল ইসলাম
চেয়ারম্যান,
ইডাফ, সাভার, ঢাকা
পোশাকশিল্প এদেশে অন্যতম শিল্প খ্যাত। আয়ের বিরাট অংশ এখান থেকে আসে। এই খাতকে টিকিয়ে রাখা ও বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্ব সকলের। কোনভাবেই এই খাতকে ধ্বংস হতে দেয়া যাবে না। তাই সম্প্রতি পোশাকশিল্প নিয়ে যে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে তার সমাধান হওয়া উচিত।
ফারুক আলম,
মালিবাগ
জীবনযাত্রার ব্যয় ক্রমাগত বাড়তে থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে বেতন বৃদ্ধির দাবি তীব্র হতেই পারে। তবে এমন হওয়া উচিত নয় যা এ শিল্পের ক্ষতি করে।
মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদউল্লাহ
সদর রোড, ফেনী
আমাদের দেশে পোশাকখাত এখন এক ধরনের সংকট অতিক্রম করছে। রানা প্লাজার ধস ও তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সম্প্রতি মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে অচিরেই তার মীমাংসা হওয়া দরকার।
মো. শহীদুল ইসলাম (রাসেল)
নিশিন্দারা মধ্যপাড়া, বগুড়া
আমরা আশা করবো উভয় পক্ষ আলোচনার ভিত্তিতে জীবন মান বিবেচনায় রেখে শ্রমিকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে।
আবদুল মালেক মিয়া
দলিল লেখক, মিরপুর, ঢাকা
পোশাকশিল্পে সম্প্রতি অপ্রীতিকর ঘটনা শুরু হয়েছে। তা মোটেই শুভ নয়। তাদের মজুরি ন্যূনতম ৮ হাজার টাকার দাবিতে যে আন্দোলন তা রোধের জন্য উচিত সঠিক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা।
জুয়েল
বনশ্রী, ঢাকা
বাংলাদেশের বেশির ভাগ আয়ের উত্স এই পোশাকশিল্প। এই শিল্পকে কোনভাবেই নষ্ট হতে দেয়া যাবে না। এদেশের শ্রমিকেরা বহু কষ্ট করে অথচ তারা ন্যায্য পাওনা পায় না। অত্যন্ত দুঃখজনক হলো- তাদের আমরা নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে থাকি। তাই বলবো শ্রমিকের ন্যায্য পাওনাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
সোহাগ
ভাগলপুর লেন,
নবাবগঞ্জ, ঢাকা
ন্যায্য পাওনা আদায়ের জন্য এদেশের নিরীহ পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা বিদ্রোহী হয়ে উঠেছে। এটা তাদের শ্রমের ন্যায্য পাওনা আদায়ের আন্দোলন। তাই তাদের ন্যায্য পাওনাকে সহজভাবে নেয়া দরকার মালিক পক্ষের।
রিফাত
ঝিনাইদহ
আমাদের মনে রাখা দরকার দায়িত্বহীন আচরণ, কিংবা হঠকারিতায় কোন কল্যাণ বয়ে আনে না। যেহেতু আমরা জানি, পোশাকখাত থেকেই আসে দেশের রফতানি আয়ের বড় অংশ। আমাদের লাখ লাখ দরিদ্র নারীর জন্য এ শিল্পখাত পরিণত হয়েছে অর্থনৈতিক মুক্তির কেন্দ্র। সুতরাং এ মুহূর্তে উচিত তাদের বেতন কাঠামোকে ঠিক করা।
লাড্লা
পিলখানা, ঢাকা
প্রতিটি শ্রমিকের ঘামের মূল্য অনেক। পোশাকশিল্প এদেশের অহংকার, এদেশের অলংকার। অথচ সে শ্রমিকের মূল্য আমরা কতটুকু দিতে পেরেছি? তাই পোশাকশিল্পকে দিয়ে বিরোধী দলের স্বপ্ন পূরণ হবে না। তাদের দিয়ে আন্দোলন করা ও যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর পাঁয়তারা আর হয়তো হবে না। সুতরাং শ্রমিকে পাওনা পাবে; কিন্তু বিরোধী দল এটাকে আন্দোলনের ইস্যু বানাবেন না।
মো. মেজবাহউদ্দিন সেলিম
শেওড়াপাড়া, মিরপুর,
ঢাকা
ন্যূনতম মজুরি আদায়ের লক্ষ্যে পোশাকশিল্পের শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে। ফলে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে যানজটসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। শ্রমিকের শ্রমে ঘাম ঝরে। তাদের কষ্টে উপার্জিত হয় দেশের আয়ের বিরাট অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি। অথচ আমাদের মালিক পক্ষরা তা দেখেন না। তাই মজুরি বিষয়টি নিয়ে এখন বিবেচনা করা দরকার।
আক্তার জাহান
মালিবাগ, ঢাকা
পোশাকশিল্প এদেশের আয়ের একটি অনন্য অংশ। পোশাকশিল্পের শ্রমিকের ন্যায্য পাওনার প্রতি মালিক পক্ষের নজর দেয়া দরকার।
জাহাঙ্গীর হোসেন
কাজীপাড়া, মিরপুর,
ঢাকা
ফুঁসে উঠেছে গার্মেন্টস সেক্টর। গত কয়েক দিন পোশাক শ্রমিকেরা যে শোডাউন করেছে, তা তাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে করেছে। তাই আমরা মনে করি, পোশাকশিল্পের মালিকেরা এ ব্যাপারে সচেতন হবেন।
পারভীন সুলতানা
মালিবাগ, ঢাকা
জাতীয় সংসদ বর্তমান অবস্থায় ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে। বৃহত্ দুইটি রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধ, আপনারা নির্বাচনে মনোনয়ন দেবার সময় সতর্ক ব্যবস্থা নিলে ভালো হয়। ছিন্নমূলে যারা রাজনীতি করে আসছে তাদের টাকা-পয়সা না থাকাই স্বাভাবিক; কিন্তু জনপ্রিয়তা রয়েছে। তাদেরকে নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়া দেশের জন্য অপরিহার্য। কোটিপতিদের মনোনয়ন দেয়া জাতির জন্য ক্ষতিকর। পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে তাদের ন্যূনতম বেতন স্কেল ধার্য করা গার্মেন্টস ও অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য। যাতে পোশাকশিল্পের শ্রমিকরা পরিবার-পরিজন নিয়ে সুস্থ ও সুন্দর জীবন-যাপন করতে পারে। মূল রাজনৈতিক ব্যক্তিদের হাতে জাতীয় কাউন্সিল, পোশাকশিল্পসহ সকল ক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে বলে আমার ধারণা।
মনজু খন্দকার
চুয়াডাঙ্গা
পোশাক শ্রমিকের বিক্ষোভের মূল কারণ হলো বেতন বৃদ্ধি। তবে তারা যেভাবে অরাজকতা সৃষ্টি করছে তা সঠিক হয়নি। জনগণের গাড়ি ভাংচুর কি ন্যায়সঙ্গত? এভাবে ভাংচুর করবে কেন? তাদের দাবির ব্যাপারে প্রত্যেকের মালিকের কাছে উত্থাপন করুক; কিন্তু তা না করে রাস্তায় এভাবে তাণ্ডব চালানো কি ঠিক।
হাবিবুর রহমান
পুরান থানা,
কিশোরগঞ্জ
আন্তর্জাতিক বাজারে তৈরি পোশাক রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে চীনের পরেই বাংলাদেশের স্থান রয়েছে। বাংলাদেশের এই সাফল্যের পেছনে গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবস্থান অবশ্যই অপরিসীম। তাই তাদের দিকে তাকিয়ে মজুরি বাড়ানোর ব্যবস্থা অচিরেই করা উচিত বলে আমি মনে করি।
মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল)
আরাপপুর, ঝিনাইদহ
ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর দাবিতে পোশাকশিল্পে শ্রমিক অসন্তোষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা ভাংচুর, অবরোধ, বিক্ষোভসহ নানা কর্মসূচি শুরু করে। তবে তাদের যে মজুরি সত্যিকার এটা দিয়ে জীবন-যাপন করা সম্ভব নয়। সুতরাং তাদের মজুরি বৃদ্ধির বিষয়টি দ্রুত সমাধান চাই।
মো. সেলিম
মহাখালী, ঢাকা
ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা করার দাবিতে টানা কয়েকদিনের মতো সড়ক-মহাসড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছেন গার্মেন্টেসের শ্রমিকরা। তাদের এখন ন্যায্য দাবিটি সহনীয়ভাবে মেনে নেয়াই উত্তম।
আবুল হোসেন
ইলেকট্রিক প্লাজা, মিরপুর-১
বাংলাদেশ পোশাকশিল্পের জন্য বর্তমানে বিশ্ব দরবারে সমাদিত। কিন্তু অন্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের বেতন-ভাতা সবচেয়ে কম। তাই এখন তাদের সঠিক মূল্যায়ন করে পরিস্থিতি শান্ত করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি।
নিঝুম
ব্যাংক কলোনি, সভার, ঢাকা
গত দু’দশকে পোশাকশিল্প সবচেয়ে লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়। আমাদের রফতানি আয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ আসে পোশাকশিল্প থেকে। এই শিল্পে বিনিয়োগকারীদের অবস্থা যথেষ্ট ভালো হলেও গার্মেন্টস শ্রমিকদের অবস্থা সন্তোষজনক নয়। অথচ এই খাতকে তারা যেমনি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, তেমনি অর্থনীতিকেও সমৃদ্ধ করছেন। সুতরাং, তাদের কথা ভেবে এখন ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
এইচ কে মো. রমিজউদ্দিন
প্রশিকা, প্রধান কার্যালয়,
মিরপুর-২, ঢাকা
পোশাক শ্রমিকরা গত কয়েকদিন ধরে আন্দোলন, বিক্ষোভ, সংঘাত, সংঘর্ষ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করছে তাদের ন্যূনতম বেতন ৮২০০/- টাকার দাবিতে। আর এজন্য শ্রমিকদের আশ্বস্ত করার কেউ নেই। করলেও করতে দেয়া হচ্ছে না ত্রাস সৃষ্টি করার জন্য। জিএসপি বন্ধ করার অখ্যাত নেতা আছেন; কিন্তু বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রী বিশ্বে বাজারজাত করার ক্ষমতা নেই। বর্তমান সরকার শ্রমিকদের বেতন বাড়িয়েছে। পোশাক শ্রমিকদের বেতন বাড়াবে কোথা থেকে। তৈরি পোশাক রফতানি হচ্ছে না। যুদ্ধাপরাধীদের গডফাদার খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করতে হবে। বিদেশি পত্রিকা নিবন্ধ লিখে জিএসপি প্রদানের জন্য বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে মার্কিন কংগ্রেস পিটার চিন সংগে আলোচনা করেছেন। তিনি জিএসপি সুবিধা দেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফারুক আহমেদ
বাগমারা, রাজশাহী
পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ যে হচ্ছে শুধু তাদের বেতনের জন্যই। তাদের মজুরি ৮২০০ টাকা যদি ধার্য করা হয় তাহলে তারা ডালভাত খেয়ে চলতে পারবে।
গেন্দু ভূইয়া
কৌলি, তাড়াইল,
কিশোরগঞ্জ
তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার ২শ’ টাকায় নির্ধারণের জন্য প্রস্তাব করেছে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তবে ১ম বার এর ৮০% ও পরবর্তী বছর বাকি ২০% শতাংশ বৃদ্ধি করা যেতে পারে বলে মনে করেন। আমরাও তাই মনে করি। যেহেতু শ্রমিক ও মালিক উভয়কে বুঝতে হবে এ বিষয়ে।
শিশির
পিলখানা, ঢাকা
পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর জন্য প্রতিবছর তাদের বেতন মূল্যায়নের একটি স্থায়ী কাঠামো গড়ে তোলা দরকার।
এম এস কে এ রাজা
মতিঝিল, ঢাকা
দেশের গার্মেন্টেস শিল্পের কাজ ১ দিনের জন্য বন্ধ রাখলে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় বিপুল পরিমাণ। পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিক পরস্পরের কাছাকাছি মানুষ। শ্রমিকদের পারিশ্রমিক যথাসম্ভব পরিশোধ করতে হবে। মালিকদের উদার মনের হতে হবে। খাদ্য-বস্ত্রের জন্যই শ্রমিকরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। পারিশ্রমিক যথেষ্ট না হলে পরিবার- পরিজন নিয়ে তারা কিভাবে চলবেন? শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ভাংচুর, অবরোধ এগুলো কোন সমাধান দেবে না। বরং এগুলো দেশের ক্ষতি বয়ে আনবে। সুতরাং বিক্ষোভ, ভাংচুর বন্ধ করতে হবে। সকল সংঘর্ষের অবসান ঘটিয়ে উভয় পক্ষকেই একটা সমাধানে আসতে হবে।
আশা এলিজাবেত গোমেজ
লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা ১১০০
এটা একটা যৌক্তিক আন্দোলন। ওদের বেতন অবশ্যই বাড়ানো উচিত। তবে তারা যে ভাংচুর করছে সেটা যৌক্তিক হয়নি।
আবদুর রহমান নাইম
ঢাকা কলেজ, ঢাকা
গত কদিন যাবত্ গার্মেন্টসের যে পরিস্থিতি চলছে তা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ দরকার। এই মুহূর্তে বেতন না বাড়ানোই ভাল হবে। কারণ আমার নিজ এলাকায় ফাতেমা, নিপা, আসমা নামক কয়েকজন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থী বেতন বৃদ্ধির কথা শুনে চাকরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাদের মতো এমন অনেকে আছে বাংলাদেশে। তাই আমি বেতন বৃদ্ধি করাকে সমর্থন করি না।
ইভান
কাওরাইদ, শ্রীপুর, গাজীপুর
বর্তমান পোশাকশিল্পে বিক্ষোভ, অসন্তোষ, ভাংচুর, অস্থিরতা আমাদের অর্থনীতি, রাজনীতি ও সামাজিক সর্বক্ষেত্রে একটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। এ অবস্থার হয়তো বিভিন্ন রকম উদ্দেশ্য থাকতে পারে। তবে এ অস্থিরতার ফলাফল নেতিবাচক না হয়ে ইতিবাচক হোক, দেশের মানুষ হিসেবে আমরা এমনটাই চাইবো। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গার্মেন্টস শিল্প ও পোশাক শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিজ্ঞ মহল এবং অর্থনীতিবিদরা এ কথা স্পষ্ট করে বলে থাকেন। আমরা সমাজের সাধারণ মানুষ হিসেবে এ কথার গুরুত্ব বুঝে থাকি। তাই সময় পরিস্থিতি বুঝে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। কোন বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থের জন্য নয়, দেশের মানুষের জন্য, দেশের কল্যাণের জন্য। পোশাকশিল্পের অস্থিরতা বন্ধ করা উচিত বলে মনে করছি।
মো. কাবিউল ইসলাম
সহকারী শিক্ষক, আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ,
মতিঝিল, ঢাকা
বড়ই পরিতাপের বিষয়, দাবি ন্যায্য-অন্যায্য যাই হোক না কেন আমাদের দেশে কোন দাবিই সহিংস আন্দোলন ছাড়া অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে আদায় করা যায় না। যদিও সহিংস আন্দোলন কোন সুস্থ বিবেকসম্পন্ন লোক সমর্থন করে না। পোশাক শ্রমিক যারা মানুষকে ছোট থেকে রক্ষা করার জন্য দিনরাত কর্মব্যস্ত থাকে তাদের পারিশ্রমিক অন্যান্য সেক্টরের থেকে খুবই কম। শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান, আপনারা ভাংচুর, রাস্তা অবরোধ না করে ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দুচার ঘণ্টা কারখানার ভেতরে প্রতিবাদ স্বরূপ কাজ করা বন্ধ রাখার মতো একটি পথ বেছে নিতে পারেন। এতে সাপও মরবে, লাঠিও ভাংবে না।
মো. লুত্ফুর রহমান
এলিফ্যান্ট রোড, ঢাকা
বাংলাদেশের পোশাকশিল্প এখন রাজনীতি ও দালালদের খপ্পরে পড়েছে। তাদের উস্কানিতেই শ্রমিকরা বিক্ষোভ, ভাংচুর আর অপরাধের মতো ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। একশ্রেণির দালাল ও রাজনীতিক শ্রমিকদের নিয়োগ ও বদলি বাণিজ্য করে থাকে। এক মিলের ভাল শ্রমিক আর এক মিলে চালান করে দেয় তারা। এতে করে মালিক-শ্রমিকের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। আর এই দূরত্বের সুযোগ নিয়ে ঐ মহলটি শ্রমিকদের ক্ষেপিয়ে তাদের দিয়ে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ, ভাংচুরসহ নানান অপরাধ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ থেকে উত্তরণ পেতে হলে মালিক-শ্রমিকদের একসঙ্গে বসে সব সমস্যার সমাধান করতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায় করাই হচ্ছে উত্তম ব্যবস্থা। সবার মনে রাখতে হবে ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যদিয়ে কখনোই সমাধান হয় না। সুতরাং রাজনীতিক মহল, মালিক মহল এবং শ্রমিক মহলের উচিত দালাল চক্রদের থেকে বেরিয়ে আসা। এতে শ্রমিকদের দাবি পূরণে সহায়ক হবে।
শাহ মো. হেলালউদ্দিন হিরু
কালিহাতী, টাঙ্গাইল
গত ক’দিন যাবত্ গার্মেন্টস শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির জন্য আন্দোলন করছে। ফলে এই আন্দোলন বিক্ষোভে রূপ পেয়েছে এবং অসংখ্য গাড়ি ভাংচুর করছে তারা। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভ যেকোনভাবেই হোক বন্ধ করা উচিত। তা না হলে দেশের সম্পদ নষ্ট করা কারোরই অধিকার নেই।
হামিদুল আলম
ভালুকা বাজার, ময়মনসিংহ
বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানিমুখী পণ্য তৈরি পোশাকশিল্পে কর্মরত শ্রমিকেরা তাদের ন্যূনতম মজুরি ৮১১৪ (আট হাজার একশ’ চৌদ্দ) টাকা করার দাবিতে লাগাতার হিংসাত্মক বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, নিরীহ জনগণ ও তাদের জান-মালের উপর যে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে তা ইতিমধ্যে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের উক্ত যৌক্তিক দাবির সপক্ষে বিভিন্ন সঙ্গত কারণ দেখিয়ে ইতিমধ্যে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) তাদের জন্য দাবি করেছে ন্যূনতম মজুরি ৮২০০ (আট হাজার দুইশ’) টাকা থেকে ১৭৮০০ (সতের হাজার আটশ’) টাকা। অথচ তার বিপরীতে গার্মেন্টস মালিকপক্ষ বর্তমান প্রদত্ত ন্যূনতম মজুরি ৩০০০ (তিন হাজার) টাকার সাথে আরও ৬০০ (ছয়শ’) টাকা যোগ করার প্রস্তাব দিয়েছে যা হাস্যকর ও শ্রমিকদের প্রতি উপহাস ছাড়া আর কিছুই নয়। আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন ও সাভারে রানা প্লাজা ধসের পর দেশিয় ও আন্তর্জাতিকভাবে শ্রমিকদের নিরাপত্তা, বেতন, জীবনমান বাড়ানোর জোরালো দাবির প্রেক্ষিতে ২৪ জানু ’১৩ তারিখে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করে। অথচ এখন পর্যন্ত তারা তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে সক্ষম হননি। খবরে প্রকাশ মজুরির ব্যাপারে আধুনিক ধারণা ও অধিকতর অভিজ্ঞতা অর্জনে মজুরি বোর্ড আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর ’১৩ তারিখ থেকে কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড সফর করবেন। আমাদের প্রশ্ন সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস মজুরি বোর্ডকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে কী অপারগ? এদিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর মতো বিষয়কে রাজনীতিমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। এমনকি রানা প্লাজা ধসের পর সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কর্মপরিবেশের উন্নয়নে দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলোর বাস্তবায়ন জার্মানিসহ ইউরোপের ক্রেতারা খতিয়ে দেখবেন বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইতিপূর্বে রানা প্লাজা ট্রাজেডিসহ অন্যান্য আনুসঙ্গিক কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক জেনারেল সিস্টেম অব প্রিফারেন্সেস (জিএসপি) সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে। যদিও আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সামপ্রতিক জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশনে যোগদানের প্রাক্কালে তার হোটেল কক্ষে কংগ্রেস ম্যান মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কমিটির চেয়ারম্যান পিটার কিংয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি গার্মেন্টস শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য তার পূর্ণ ও সক্রিয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এই সকল সর্বদিক বিবেচনা করে আমাদের দাবি গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্য সংশ্লিষ্ট পোশাকশিল্প কারখানাগুলো নিজ উদ্যোগে সুবিধাজনক আবাসস্থল নির্মাণ ও বরাদ্দ দেয়া, ভর্তুকি হারে ক্যান্টিন পরিচালনা করে সেখান থেকে নামমাত্র মূল্যে শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করা, বিজিএমইএ’র নিয়ন্ত্রণে রেখে চট্টগ্রাম পোর্টের আদলে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সন্তান ও নির্ভরশীলদের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও খেলার মাঠের স্থায়ী ব্যবস্থা করা আশু কর্তব্য। নতুবা পাট শিল্পের মত তৈরি পোশাকশিল্পের বাজার আমাদের যে কোন সময় হারাবার আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।
ভূঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জী
সাধারণ সম্পাদক,
ঢাকাস্থ বেগমগঞ্জ পেশাজীবী সমিতি
৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর,
ওয়ারী, ঢাকা ১২০৩
পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ভাংচুর ও অবরোধের প্রেক্ষিতে যে ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে সকল মহলের প্রথম ও প্রধান করণীয় হবে, দেশপ্রেমের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে, সৃষ্ট সমস্যার স্থায়ী সমাধানের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া। সস্তা জনপ্রিয়তা ও বিশেষ প্রাপ্তির আশায়, এমন কিছু বলা ও করা যাবে না, যার মাধ্যমে সবেধন নিলমণি এই আর্থিক খাতটা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। সকল মহলকে ধৈর্য ও সংযমের শেষ সীমা পর্যন্ত যেতে হবে, উভয় পক্ষের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য। গার্মেন্টস শ্রমিকদের স্বার্থের চেয়ে, দেশের অর্থনীতি ধ্বংসের চক্রান্ত কিনা, তা ভেবে দেখার জন্য উভয়পক্ষকে গভীর পর্যবেক্ষণী দৃষ্টি ও বিবেক-বিবেচনা দিয়ে অনুধাবন করতে হবে। গার্মেন্টস মালিকদের সাথে দফায় দফায় আলোচনা করে সামর্থ্য ও সক্ষমতা আছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করার পূর্বেই সিপিডি ও নৌ মন্ত্রীর ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের আগাম ঘোষণা, গার্মেন্টস শ্রমিকদের উস্কে দিয়ে নৈরাজ্যিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। ঝড়ের সময় তুলো উড়িয়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ারসেল ও রাবার বুলেটে শুধু লোকজনই আহত হয়নি, আহত হয়েছে পোশাকশিল্পও। চরম এই ক্রান্তিকালে সরকারকে উদ্যোগী ভূমিকা নিতে হবে। জাতীয় আয়ের এই সিংহ দুয়ারকে উন্মুক্ত রাখতে। সরকারের সব সংস্থা, সরকারি কর্মচারি-কর্মকর্তারা আইসিইউতে পাঠিয়ে দিয়েও বর্ধিত বেতন দাবি করতে পারে। সেখানে নিরলস পরিশ্রম করে সম্ভাবনাময় পোশাকশিল্পের শ্রমিকেরা ন্যায্য বেতন পাবার অবশ্যই দাবিদার।
মুরাদ হোসেন
মধুখালী, ঝিকরগাছা, যশোর