সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সমঝোতা দ্রুত প্রয়োজন নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এখনও প্রধান দুটি দলের মধ্যে সমঝোতা হয়নি। এদিকে দিন দিন দেশের পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে উঠছে। সংলাপ না হলে আসন্ন নির্বাচনের আগে আরও খুন ও হতাহতের ঘটনা বাড়তে পারে। সমঝোতার মাধ্যমে আমরা বাঁচাতে পারব অনেক জীবন। অন্যথায় সৃষ্টি হবে সামাজিক সমস্যার। উন্নত দেশগুলোতে বিরোধী দলের সাথে সরকারের খোলাখুলি আলোচনা হয় যে কারণে তারা যে কোন কঠিন সমস্যা সমাধান করতে পারে। তাদের নির্বাচনও হয় ঝঞ্ঝাটহীন। ১/১১ সম্বন্ধে আমরা কমবেশি সবাই ওয়াকিফহাল। এই দিন দেশে সকল প্রকার সাহায্য-সহযোগিতা বন্ধ ছিল। এরকম একটা দিন কখনোই কাম্য নয়। মিলিত আলোচনাই পারে নির্বাচন পূর্ববর্তী সহিংসতা রোধ করতে। দুটি দল যেভাবে নিজেদের সিদ্ধান্তে অনড় হয়ে রয়েছে তাতে পরিস্থিতি ১/১১ এর দিকেই যাচ্ছে। এ অবস্থায় ১/১১-পরিস্থিতি এড়াতে হলে দ্রুত সমঝোতায় আসতেই হবে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতির ও জনগণের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে ছোট-খাট ছাড় দিতে হবে। সুষ্ঠু একটা নির্বাচন যা সবদলই মেনে নিবে তা করতে হলে সমঝোতা অবশ্যই প্রয়োজন। খন্দকার আরাফাত আহমেদ, বিএসএস ২য় বর্ষ, সরকারি বাংলা কলেজ ০০০০০০০০০০ জনগণের স্বার্থে সমঝোতা করা উচিত মানুষ সামাজিক জীব তাই সে একা বসবাস করতে পারে না। একে অন্যের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে থাকি। এই কথা একেবারে সত্যি সমঝোতা না হলে সংঘাত অনিবার্য। আমরা সাধারণ মানুষ কি চাই এটা? যাদের নির্ণয় করার ক্ষমতা থাকে না তাদের রাজনীতি থেকে অপসারণ করা উচিত। রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে দেশের সাধারণ মানুষ মরবে এটাতো হতে পারে না। আমরা জনগণ শান্তি চাই, দু’বেলা দু’মুঠো ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই, কোন দল ক্ষমতায় গেলে আমাদের ঘরে ভাত এনে দিবে না বরং আমরা কাজ করি, পারিশ্রমিক পাই কিন্তু কাজ করতে গিয়ে যদি নির্মমভাবে মরতে হয় তাহলে আমরা ক্ষমতা দিয়ে কি করবো? সামনে নির্বাচন। দীর্ঘদিন দুই দলের দুই কথা এই নিয়ে এখন জনগণের মাথা ব্যথা। যারা রাষ্ট্রপ্রধান হবেন তাঁর সেই সমস্যাগুলো মোকাবেলা করার ক্ষমতা থাকতে হবে, শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে হবে । আমি অবশেষে বলতে চাই আপনারা সংঘাতের রাজনীতি ছেড়ে শান্তিপূর্ণ সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি করেন। এতে দেশ ও জাতির কল্যাণ হবে। মো. দেলোয়ার হোসাইন, শেষ বর্ষ, অর্থনীতি বিভাগ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, মহাখালী, ঢাকা ০০০০০০০০০০০০০০০ দেশ ও জনগণের স্বার্থে সংলাপ অনিবার্য বিরোধীদল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সংবিধানে পুনঃস্থাপনের দাবিতে অনবরত হুমকি-ধামকি ও মাঠ গরম রাখছে আর ক্ষমতাসীন দলের পাল্টা হুংকার দেশে আর কোন অসাংবিধানিক, অনির্বাচিত সরকার আসবে না। অথচ সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, দেশের ৯০ ভাগ জনগণ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য হিসাবে সমর্থন দিয়েছে। তাই একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে রুলিং পার্টির উচিত জনগণের আশা, আকাঙ্ক্ষা ও মতামতের প্রতিফলন ঘটানো। আর এর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন সংলাপ ও সমঝোতা। কিন্তু বিভিন্ন মিটিং-মিছিল ও সমাবেশে দুই নেত্রীর পরস্পর বিরোধী বক্তব্য শুনে মনে হয় সংলাপ তো দূরের কথা তারা একে অপরের মুখ দেখাকে অভিশাপ মনে করে। যতই দিন ঘনিয়ে আসছে, ততই এই সংলাপের সময় সংকুচিত হয়ে সংঘাতের সময় তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশি-বিদেশি নানা মহল আসন্ন অশুভ সংকেত থেকে উত্তোরণের জন্য সংলাপসমেত উদ্বেগ-উত্কণ্ঠা দেখিয়েছে। তারপরও নেতৃস্থানীয় দু’দলের টনক নড়ছে না। বরং তারা জনগণের জীবনকে বিপন্ন করে, তাদের খেয়াল খুশিমত জঘন্য খেলায় মত্ত হয়েছে। যার ফল বিগত বছরগুলোর বিপর্যয়ের তুলনায় ভয়াবহ হবে বলে জনমনে আশংকা সৃষ্টি হচ্ছে। মো. দিদার হোসেন, আইন বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ০০০০০০০ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা চাই বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর। সংবিধান অনুযায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দেয়ার কথা থাকলেও আসন্ন ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে কিনা তা নিয়ে রয়েছে নানা শঙ্কা। এছাড়া প্রধান বিরোধী দল বিএনপি থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে যে, সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল না আনলে তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। অন্যদিকে সরকার বা আওয়ামী লীগ থেকে বলা হচ্ছে যে, সংবিধান অনুযায়ীই তারা নির্বাচন করবে, কে নির্বাচনে আসলো আর কে আসলো না সেটা তাদের দেখার বিষয় নয়। কিন্তু বিএনপি যদি আসন্ন নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে এবং বর্তমান দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাহলে আসন্ন নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাও নিয়ে তৈরি হবে নানা শঙ্কা। এবং নির্বাচনও হবে প্রশ্নবিদ্ধ। এই নানা সমস্যাকে সামনে রেখে মনে করি, অনতিবিলম্বে শুধুমাত্র বিএনপি এবং আওয়ামী লীগ নয় অন্যান্য সব রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা দরকার। মো. মিরাজ হোসেন , বিএসএস (সম্মান), ১ম বর্ষ, লোক প্রশাসন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়