সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪২
সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন হবে, এ কথার যুক্তি নেই
উইলিয়াম ওয়াটসনের মতে,“মানুষের কল্যাণের জন্য করা প্রতিটি কাজই সম্মানজনক।” উক্ত কথাটির আলোকে বলা যায়, সরকারি দল, বিরোধী দল ও অন্য দলগুলোর কাজ হলো দেশের ও দেশের মানুষের কল্যাণ করা। আর এই কল্যাণ করা যদি হয় সকল দলের কাজ, তাহলে যে কোন এক দলের স্বার্থে আঘাত পড়লে তা কেন মানুষ ও মানুষের জিনিসের উপর দিয়ে গড়ায়। এখন কথা হলো সমঝোতা। কেউ মনে করে সমঝোতা না হলে দেশে ওয়ান ইলেভেনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। আমার মতে এই কথার কোন যুক্তি নেই। কারণ কোন কিছু পাওয়ার জন্য যদি সবসময় ওয়ান ইলেভেন আসে তাহলে মানুষের মধ্যে প্রীতি থাকবে না। তাই আমি মনে করি ওয়ান ইলেভেনের আবির্ভাব আর ঘটবে না। আর কেনইবা ঘটবে? কারণ বিগত সিটি নির্বাচনগুলোতে বিরোধী দল যাবে না। কিন্তু নির্বাচন করেছে। আর নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না দাবি। কিন্তু নির্বাচন সুন্দর ও নিরপেক্ষ হয়েছে এবং বিরোধী দলের লোকজন তা মেনে নিয়ে সিটিগুলোকে পরিচালনা করছে। তাই ভয় দেখিয়ে কোন কাজ আদায়ের গর্ব নেই। তাই আমি গর্বের সাথে বলতে পারি ওয়ান ইলেভেন কালবৈশাখী ঝড় নয় যে, প্রতিবছর বার বার ফিরে আসবে।
নূর মোহাম্মদ ইদ্রিস
বি.বি.এস. (সম্মান), এম.বি.এস (ফাইনাল)
ব্যবস্থাপনা বিভাগ
নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা
===
কয়েকটি অপশন
দিয়ে গণভোট
দেয়া উচিত
আসন্ন দশম নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। দেশের এমন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রধান দু’দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোভাব পরির্তন করে দেশ এবং দেশের মানুষের কথা চিন্তা করে সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা উচিত। বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশ এবং দেশের বাইরের জনগণের মনে হতাশার চিহ্ন লক্ষ্য করা যায়। প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের নিজেদের অবস্থানকে মজবুত করতে ব্যস্ত। তারা জনগণের কথা চিন্তাও করে না। যদি চিন্তা করত তা হলে হরতাল, অবরোধের মতো কর্মসূচি দিতো না। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক দেশ। গণতন্ত্রের মূল হোতা হচ্ছে জনগণ। সুতরাং আগামী দশম নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে সেই বিষয় ঠিক করার জন্য কয়েকটি অপশন দিয়ে গণভোট দেয়া যেতে পারে। এতে নির্বাচন নিয়ে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে তা দূর হবে। শান্তিপূর্ণভাবে সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে। দেশে হানা-হানি, রক্তপাত বন্ধ হবে। যদি তা না হয় তা হলে আবারও ওয়ান ইলেভেনের মতো অবস্থা হতে পারে। কেননা আমাদের দেশের রাজনীতি এখন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে সুস্থ করতে হলে সবার আগে রাজনীতির পরিবেশ সুন্দর করতে হবে। তারপর ভাল ডাক্তার দিয়ে চিকিত্সা করতে হবে। সেক্ষেত্রে গণভোটই হতে পারে আসন্ন নির্বাচনের জন্য ভাল একজন ডাক্তার।
সংঘাত নিরসনের জন্য যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে সমাধান বের করে নির্বাচনের পথ অনুসরণ করা উচিত। সেইসাথে যারা নির্বাচনে পরাজিত হবে তারা যেন তা মেনে নিতে পারে সেই মনোভাব তৈরি করা উচিত। কেননা আমাদের দেশের কোন দলই পরাজয়কে মেনে নিতে পারে না। পরাজয় হলেই শুরু হয় বিভিন্ন রকম সংঘাত। যার ফল সাধারণ মানুষকে ভোগ করতে হয়। সুতরাং আমরা অশান্তি নয়, শান্তি চাই।
মো. আব্দুর রহমান সুমন
সরকারি তোলারাম কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়
বি.এস.এস, নারায়ণগঞ্জ
সারাদেশ ফোরাম, সদস্য নং-২৪৩
===
দেশ ও জনগণের কথা ভেবে সমঝোতায় আসুন
দুই নেত্রী যদি একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ না রাখে ও সমঝোতার মাধ্যমে সংঘাত দূর করতে পারে তাহলে সোনার বাংলা সত্যিকার সোনার বাংলায় পরিণত হবে— এতে সন্দেহ বা সংশয় নেই। সরকারি-বিরোধীসহ অন্য দলগুলো যদি আলোচনায় বসে আপন স্বার্থ বিসর্জন দেয় এবং জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে সকলের অভিলাষপ্রিয় ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠা করে, তবে বর্তমান যে কোন্দল বিদ্যমান তা অচিরেই হবে নিক্ষিপ্ত পারাবার মাঝে। জনগণ চায় না আর কোন্দল, চায় শান্তিপূর্ণ একটা চিত্তভিলাষী স্বদেশ— যেখানে একজন আর একজনকে হত্যা, অপহরণ, অমর্যাদা, অন্যায়, ঘুষখোর, পাপিষ্ঠ, মিথ্যে মামলায় হয়রান, ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করবে না, জীবন-জীবিকা যেন হয় মধুময়, চায় উমর (রা.)-এর মতন শাসক। পরিশেষে বলি- দেশ ও জনগণের কথা ভেবে আপন অহমিকা ও সংঘাত ভুলে সকলে (দল) সমঝোতায় এসে স্বদেশ ও জনগণের রক্ষাকবচ’ হিসেবে দায়িত্বভার অর্জন করেন, নইলে শিগগিরই প্রশান্ত বারিধারায় বা হাবিয়া দোজখের অনলে হারিয়ে যেতে পারে দেশ অর্থাত্ ১/১১’র মত কঠিন কন্ডিশন হতে পারে।
মো. শায়াখুল ইসলাম পলাশ
নৃবিজ্ঞান বিভাগ, ১ম বর্ষ
১ম সেমি. কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
==
দেশপ্রেমের ঘাটতি হলে ওয়ান ইলেভেন নয়, অন্যকিছু আসতে পারে
দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। সুতরাং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ ও দশের কল্যাণে পরস্পর ফলপ্রসূ আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসুন। নইলে আমাদেরকে আবার ফিরে যেতে হবে সেই ওয়ান-ইলেভেনে। যা জাতির জন্য একটি অভিশাপ ও কলংক। যা জাতি কখনও প্রত্যাশা করে না। রাজনৈতিক নেতাদের উদ্দেশ্যে বলবো, আপনারা একে অপরের ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে একটি উত্তম সিদ্ধান্তে আসুন। যা স্বাধীন বাংলার জনগণ সবসময় প্রত্যাশা করে থাকে। বর্তমান সংকটাপন্ন অবস্থা নিরসনের একমাত্র উপায় হচ্ছে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা। তাই রাজনৈতিক নেতাদের উচিত প্রত্যেকের ব্যক্তিস্বার্থের দিকে খেয়াল না রেখে দেশ ও জনগণের স্বার্থের দিকে খেয়াল রেখে, দ্বিধাদ্বন্দ্ব ভুলে একসাথে মিলে-মিশে কাজ করুন। তাহলে এদেশের জনগণকে ওয়ান ইলেভেনের মত অভিশপ্ত পরিস্থিতির কথা অদূর ভবিষ্যতে আর ভাবতে হবে না।
মো. কামরুল হক
অনার্স ৪র্থ বর্ষ
হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ
ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা