[ রা জ নী তি ]

নির্বাচনী উত্সব বনাম সহিংসতার উত্কণ্ঠা

দেশের কিংবদন্তিতে রয়েছে রাজা গোপাল ও সুলতান হোসেন শাহ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে দুটি স্বর্ণযুগের সূত্রপাত করেন। প্রায় সব আদিম জনগোষ্ঠীর মধ্যেই কোনো এক ধরনের নির্বাচন ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল। গ্রামের লোকেরা নিজ নিজ গ্রামের মোকাদ্দম বা গ্রামপ্রধান, পাটোয়ারী বা কর আদায়কারী নির্বাচন করত। গ্রাম মোকাদ্দমের পরামর্শক্রমে পরগনা কাজি ও থানাদার নিযুক্ত হতেন। ১৭৯৩ সালে লর্ড কর্নওয়ালিস গ্রামপঞ্চায়েত ব্যবস্থা বিলোপ করলেন। উনিশ শতকের সত্তর ও আশির দশকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবার্তনের পূর্ব পর্যন্ত তা অনানুষ্ঠানিকভাবে টিকে ছিল। আমাদের ঐতিহ্যে গণতন্ত্রের শেকড় খোঁজার কাজ চিত্তাকর্ষণীয় সন্দেহ নেই। বাস্তবে আমরা এখন দেখছি, জাতি-রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা লাভের উদ্দেশ্যে গঠিত রাজনৈতিক দলের উদ্ভবের ফলে ঐতিহ্যগত নির্বাচন পদ্ধতির রূপান্তর ঘটেছে। নির্বাচন এখন গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ—রাজনৈতিক দলের ক্ষমতা গ্রহণ ও সরকার গঠনের সর্বজনস্বীকৃত বৈধ পন্থা। আমাদের দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই গ্রামে-গঞ্জে, পাড়ায়-মহল্লায়, পথে-প্রান্তরে নির্বাচনী প্রচার নিয়ে উত্সবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, প্রার্থীর সমর্থকদের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা, হোটেল- রেস্তোরাঁ, অফিস-আদালতে, বাসা-বাড়ীতে আড্ডায়, আলাপ-আলোচনায় সাধারণ ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নির্বাচনী আমেজে ভিন্ন মাত্রা যোগ করে। বয়স্কদের পাশাপাশি দূরন্ত কিশোরেরাও বুঝে হোক, না বুঝে হোক প্রার্থী-দল-মার্কার সমর্থনে মিছিল ও শ্লোগানে মেতে ওঠে। যেকোনো একটি সরকারের মেয়াদের শেষলগ্নেই বইতে থাকে নির্বাচনী হাওয়া; কারণ সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে থাকতে এবং তফসিল ঘোষণার আগেই নির্বাচনী প্রচারাভিযানে নেমে পড়েন। গত ঈদুল ফিতর থেকেই স্বল্পমাত্রায় হলেও সারা দেশে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনকেন্দ্রিক পোস্টারিং ও গণসংযোগ। তবে এটা ঠিক যে, মহাজোট সরকারের শেষ সময়ে এসে নির্বাচনকেন্দ্রিক উত্সবমুখরতা প্রত্যাশিত থাকলেও নির্বাচন নিয়ে চাপা উত্তেজনা ও নানা আশঙ্কাও বিরাজ করছে দেশবাসীর মধ্যে। কারণ ভোটাররা এখনো নিশ্চিত হতে পারছেন না যে, আগামী নির্বাচন সময়মতো হবে কি-না; নির্বাচন হলে সুষ্ঠুভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যাবে কি-না; নির্বাচনটি সব দলের অংশগ্রহণে গ্রহণযোগ্য হবে কি-না। এসব প্রশ্ন আর অনিশ্চয়তার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে সংঘাত-সহিংতার শঙ্কা। একদিকে সরকারি দল নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করে দিয়েছে, পুনরায় নির্বাচিত করার জন্য জনগণের কাছে ভোট চাইছেন প্রধানমন্ত্রী। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতা ভোট চাওয়ার পরিবর্তে ভোট রুখতে আহ্বান জানাচ্ছেন জনগণের প্রতি। চারদলীয় জোট সরকার ক্ষমতা ছাড়ার পর ২০০৮ সালের শুরুতেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নিয়ে বিরোধের জের ধরে দেশে যে হানাহানি হয়েছিল, তা ছিল ভয়ঙ্কর দুঃস্বপ্নের মতো। মনে পড়ে, ওইসময়ে এক রাতে সিএনজিতে চড়ে সপরিবারে এক আত্মীয়ের বাসা থেকে নিজেদের বাসায় ফিরছিলাম। তখন রাস্তায় রাস্তায় ছিল আগুন আর লাঠিসোঁটা নিয়ে নেতাকর্মীদের অবস্থান। সর্বত্র পরিবেশ-পরিস্থিতি এতটাই ভীতিকর ছিল যে, আমার সাত বছরের ছোট্ট ভাগ্নে ভয়ে কেঁদে ফেলেছিল। লগি-বৈঠার ওই সহিংসতার অনিবার্য পরিণতি ছিল জরুরি অবস্থা ঘোষণা। নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান নিয়ে এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সরকারের মেয়াদ শেষে কী ঘটতে পারে, তা নিয়ে অজানা আতংকে উদ্বিগ্ন-উত্কণ্ঠিত সবাই। ঠিক কী ঘটবে তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারলেও স্বস্তিকর কোনো কিছু যে দেশে হবে না, তা দিবালোকের মত পরিষ্কার হয়ে গেছে। তাই নির্বাচনী আমেজও ঠিক জমে উঠছে না। তাই আগামী নির্বাচনের সুষ্ঠু আয়োজন ও অনুমিত সংঘাতের আশঙ্কা নিয়ে পুনঃপুনঃ আশা-নিরাশার দোলাচলে দোল খাচ্ছে দেশবাসী। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার পর থেকেই দেশে এ অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নেতানেত্রীরা কখনো তাদের অবস্থান থেকে একটু নমনীয় ভাব দেখালেই শান্তিপূর্ণ সমাধান—সমঝোতার সম্ভাবনায় আশাবাদী হয়ে উঠি সবাই। আবার বক্তৃতা-বিবৃতিতে যার যার অবস্থানে একগুঁয়েমি ভাব দেখালে কপালে ভাঁজ পড়ে আমাদের। ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে এ কলাম লেখার সময় খবর হচ্ছে, খুলনায় যথারীতি কড়া কথা বলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সরকারকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি মেনে নেয়ার জন্য চূড়ান্ত সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছেন, “তারপর চট্টগ্রাম ও ঢাকা সমাবেশ শেষে নতুন কর্মসূচি দেব। আন্দোলনের মুখে সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে তারা জনগণের দাবি মানবে নাকি সংঘাতের পথে যাবে।” তিনি আরও বলেছেন, “হাসিনার অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। নির্বাচন হতে দেয়া হবে না। নির্বাচন প্রতিহত করবো।” অন্যদিকে স্থানীয় সময় শনিবার বিকালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংবিধানের পথে হাঁটার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, “সংবিধান অনুযায়ী আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো সুযোগ নেই।” দুই নেত্রীসহ জাতীয় নেতাদের কাছ থেকে নৈরাশ্যকর এসব বক্তব্যের পাশাপাশি মাঝেমধ্যে কিছুটা স্বস্তিদায়ক সংবাদও আমাদের কপালে জুটে। এরকম একটি খবর হচ্ছে, আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম একদিনের ব্যবধানে তার সুর নরম করেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে কেন্দ্রীয় যুবলীগ আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, “স্পিকার ডেকেছে এটাই শেষ সুযোগ। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কীভাবে চান সংসদে এসে আলোচনা করুন। কিন্তু আপনারা (বিএনপি) যদি নির্বাচনে না আসেন তাহলে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় বলতে বাধ্য হচ্ছি—যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। আমরাও জনগণকে সঙ্গে নিয়ে একাই নির্বাচন করবো।” এমন বক্তব্যের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই পরদিন দলীয় সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের এক বৈঠক শেষে বললেন আরেক কথা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা একতরফা নির্বাচন করতে চাই না। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করতে। সবাইকে নিয়ে অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হোক, এটাই আমাদের কাম্য। বিরোধী দল সংসদে এসে আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রস্তাব দিতে পারে।” শুধু নেতানেত্রীদের বক্তব্যই নয়, বরং বিভিন্ন উপলক্ষ ঘিরেও আশা-নিরাশা তৈরি হয় মানুষের মধ্যে। যেমন, জাতিসংঘ অধিবেশনকে ঘিরে নতুন সম্ভাবনা উঁকি দিলেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য শুনে এখন মনে হচ্ছে, সে আশায় গুড়ে বালি হবে। আবার সংসদের চলতি ও শেষ অধিবেশনকে ঘিরে প্রত্যাশার আলো দেখা গেলেও বাস্তবতা হচ্ছে, এখনো বিরোধী দল সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয়নি। কিন্তু সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের আহবান অনুযায়ী বিরোধী দল সংসদে প্রস্তাব না দিলেও সরকারি দল নিজেই প্রস্তান উত্থাপন করতে পারে। এক্ষেত্রে ২৯ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই বেশিরভাগ আইন পাস’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি বিবেচ্য হতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘গত সাড়ে চার বছরে নবম জাতীয় সংসদে ২৩৯টি আইন পাস হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৮টি আইন পাস হয়েছে সংসদে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির অনুপস্থিতিতে, বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই। ফলে এসব বিল পাস হয়েছে দ্রুততার সঙ্গে।’ সরকারের সদিচ্ছা থাকলে বিরোধী দল ছাড়াই যদি তারা বিল উত্থাপন করে; কিংবা উচ্চ আদালতের রায় অনুযায়ী আগামী দুটি নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে অন্তত এই মুহূর্তে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট যেমন দূর হবে, তেমনি জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়া আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিও বাড়বে। সেক্ষেত্রে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো ভরাডুবির হাত থেকেও সরকারি দলের রেহাই পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। যদিও এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, আওয়ামী লীগ এসব চিন্তা থেকে যোজন-যোজন দূরে অবস্থান করছে। তারপরও জনগণ আশাবাদী হয়, সমঝোতার স্বপ্ন দেখে। সম্প্রতি দেশে এসে শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এক প্রশ্নের জবাবে বললেন, “আগামী তিনদিন একটু খেয়াল রাখুন, কিছুটা চমক দেখতে পাবেন।” (দৈনিক ইত্তেফাক, ১৩ সেপ্টেম্বর) জয়ের এ ঘোষণায় যে- কেউ সাত-সতের যাই কল্পনা করুক না কেন, সত্যিকারের চমক হতো যদি তিনদিনের মধ্যে সরকারের তরফে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার ঘোষণা কিংবা সংলাপে বসতে বিরোধী দলের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি আসতো। গত প্রায় এক বছর ধরে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সংকট ও সহিংসতার কারণে থমকে গেছে অর্থনীতির চাকা, আটকে গেছে বিনিয়োগ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা, গণমাধ্যম এবং দেশের অর্থনীতিবিদরা উদ্বিগ্ন দেশের এই ভঙ্গুর অর্থনীতি নিয়ে। রাজনৈতিক অস্থিরতা আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে বলে সম্প্রতি বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে। অস্থির রাজনীতি দেশের বর্তমান এবং ভবিষ্যেক চরমভাবে বিপন্ন করে তুলেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রায় একই রকম স্থবির রাজনীতির গর্ভে ২০০৮ সালে উদ্ভূত হয়েছিল এক-এগার সরকারের। সে সময় মাইনাস টুসহ নানা তত্ত্বের কথা শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত কোনো মাইনাস ছাড়াই স্থবির রাজনীতিকদের প্রত্যাবর্তনের মধ্যদিয়ে অচলাবস্থার অবসান ঘটে অর্থনীতির চাকা ঘুরতে শুরু করে। অর্থনীতির সেই চাকা ঘুরতে ঘুরতে আবার এসে আটকে গেছে একই সংকটে। দেশের গার্মেন্টগুলোতে গত কয়েক দিনের লাগাতার অসন্তোষের ঘটনায় সবাই নিদারুণ উদ্বেগ এবং উত্কণ্ঠায় কাল যাপন করছেন। অনেকেই এ কথা ভেবে আতংকিত যে, দেশের পাট খাতকে যেমন ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে, তেমনই নানামুখী চক্রান্ত শুরু হয়েছে গার্মেন্ট শিল্পকে ধ্বংস করে দেয়ার লক্ষ্যে। মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজপথ এখনো উত্তাল। পুলিশের কঠোর মনোভাব-মালিকদের হুমকি-ধমকিও আন্দোলন থেকে ফেরাতে পারছে না শ্রমিকদের। রামপাল বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ নিয়েও আন্দোলন দানা বেঁধে উঠছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে পাশে বিএনপিকে না পেলেও জামায়াত ইসলাম একা একাই সহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে দেশে ইস্যুতে অস্থিরতা চলতে থাকলে তা রাজনৈতিক সহিংস পরিস্থিতিকে আরো উস্কে দিবে বৈকি! সংলাপের কথা বলতে বলতে ও শুনতে শুনতে সবাই বিরক্ত হয়ে উঠলেও বাস্তবতা হচ্ছে সংলাপ, সমঝোতা, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন—এ তিনের ওপরই নির্ভর করছে দেশের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যত্। বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অপরিহার্য। অন্যথায় এক-এগার’র মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে আবারও বিপন্ন হতে পারে গণতন্ত্র, যা রাজনীতিকদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না। ভুলে গেলে চলবে না লগি-বৈঠার আন্দোলনের পরিণাম, সেনাশাসনের পরিণতি। অনির্বাচিত সরকার অনিবার্য হয়ে উঠলে আমরা কীভাবে নিশ্চিত হবো যে, দুই নেত্রীকে আবার কারাবন্দী করা হবে না; রাজনীতি থেকে তাদেরকে মাইনাস করার প্রচেষ্টা চালানো হবে না; তারেক রহমানের মতো কারো ওপর অমানুষিক নির্যাতনের খড়গ নেমে আসবে না; রাজনৈতিক নেতাদের নামে মামলার পর মামলা দিয়ে গড়পরতায় তাদেরকে জেলে ঢুকানো হবে না। এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হলে উভয়পক্ষকে একগুঁয়েমি পরিহার করতে হবে, ভাঙতে হবে অযৌক্তিক অনমনীয়তা। আর এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর অনমনীয়তা ভাঙার বিষয়টি। তিনি সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন করতে চান—আইনগতভাবে এতে দোষের কিছু নেই। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা যা, তাতে তার অবস্থান পরিবর্তন করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। দেশের সুশীল সমাজ, বিদেশী কূটনীতিকসহ সাধারণ মানুষ একটি সংঘাতময় ভবিষ্যতের আশংকায় এখন উত্কণ্ঠিত। এই উদ্বিগ্নতা দূর করতে হবে প্রধানমন্ত্রীকেই। সংবিধানের প্রশ্ন তুলে দেশের রাজনীতি, স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতি তথা ১৬ কোটি মানুষের জীবন সংকটাপন্ন করার পথ পরিহার করতে হবে তাকে। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে একজন রাষ্ট্রনায়কের প্রধান লক্ষ্যই হওয়া উচিত দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা; কিন্তু, আমাদের কপালে তা জুটবে কি? লেখক : সহকারী অধ্যাপক, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়