সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

সমঝোতাই কাঙ্ক্ষিত পথ, এটা দু’দলেরই বুঝতে হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যতটা ঘনিয়ে আসছে সংকট ততটা বাড়ছে। বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না। আর সরকার সংবিধান অনুসারেই নির্বাচন করবে। সরকার এবং বিরোধী দলের এ মতপার্থক্য নিরসনে নানামুখী চেষ্টা চলছে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে। রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ মহাচিন্তায়। সংবাদপত্র, সাংস্কৃতিক মঞ্চ, আড্ডা ও বৈঠকখানা, আলোচনা লেখালেখিতেও রাজনৈতিক নৈরাজ্য ও সংঘাতের কথা উঠে আসছে। উভয় দল দুটি বিষয়টিকে ভেবে দেখেছে বলে মনে হয় না। বিদ্যমান সংকট দেশের ভবিষ্যেক কন্টকিত করে তুলছে। বিঘ্নিত করছে জাতীয় ঐক্যের পরিবেশ। এ অবস্থায় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই পক্ষের মতপার্থক্যের অবসান ঘটানোই সংশ্লিষ্ট উভয় পক্ষের লক্ষ্য হওয়া উচিত। দেশ ও গণতন্ত্রকে এগিয়ে নিতে হলে গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিকল্প নেই। এমতাবস্থায় আশা থাকবে রাজপথে ক্ষমতা ও শক্তি প্রদর্শন নয়, আলোচনার টেবিলই হবে কাঙ্ক্ষিত পথ। সুমন আহমেদ বিবিএ, ফজলুর রহমান হল, সিটি ইউনিভার্সিটি, সাভার, ঢাকা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ওয়ান ইলেভেন ঘটলে তার দায়ভার সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে নিতে হবে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গন দিন দিন ভয়ংকর পরিস্থিতির দিকে পা বাড়াচ্ছে। তাই আমাদের দেশের দুই নেত্রীকে বলতে চাই তারা কি প্রত্যাশা করে “দেশ নাকি ক্ষমতা”, যদি দেশ চান তাহলে দেশ ও দেশের ভালোবাসা পাবেন।” আর যদি ক্ষমতা চান তাহলে দেশ পাবেন কিন্তু মানুষের ভালোবাসা পাবেন না। রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মসূচিতে দেশের শান্তিকামী মানুষের রাতের ঘুম, শিক্ষা কার্যক্রম, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দিন মজুরির দিনে আনা দিনে খাওয়া, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে চলছে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নানাবিধ জল্পনা-কল্পনা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে দিতে নারাজ। অপরদিকে বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়ে কর্মসূচি দিয়ে দেশকে অধঃপতনে নিচ্ছে। আর এইভাবে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে ১/১১’র মতো অশুভ শক্তি আবারো জাতির ঘাড়ে চেপে বসবে। সমঝোতায় না আসলে দেশে শুধু ওয়ান ইলেভেনই না তার চেয়ে বড় কিছু ঘটবে আশংকা রয়েছে। তাই প্রধান দুইটি রাজনৈতিক দলকে অনুরোধ জানাচ্ছি, দেশের স্বার্থে আপনারা সংঘাতময়, রেষারেষি, কোনঠাসার রাজনীতি পরিহার করে ক্ষমতার চিন্তায় বিভোর না হয়ে আলোচনার টেবিলে বসে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রেখে আরেকটি ওয়ান ইলেভেনে অগ্রযাত্রাকে অস্তমিত করুন। নইলে আবার ১/১১ তৃতীয় শক্তি বা এর চেয়ে ভয়াবহ কোন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে তার দায়ভার আমাদের দেশের রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদেরই নিতে হবে। এ. কে. এম. ফরহাদ উদ্দিন বি.টি, আই, এস, সম্মান (অনার্স) তৃতীয় বর্ষ, দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া নির্বাচন নিয়ে কি খেলা চলছে হরদম বাংলাদেশ বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থার দিকে এগুচ্ছে। বিশেষ করে আগামী ২৪ অক্টোবরের পর রাজনীতির ভাগ্যাকাশে ঠিক কি ঘটবে তা নিয়ে জনমনে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। সমঝোতার পথ প্রায় বন্ধ হওয়ায় বিএনপি তীব্র আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ২৪ অক্টোবরের পর প্রথম সাত দিনের কর্মসূচিতে রাজধানী ঢাকা বিচ্ছিন্ন করে ফেলার পাশাপাশি পুরো দেশ অচল করার বিকল্প করছে দলটি। এদিকে বসে নেই সরকারও। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানে তারাও সংকল্পবদ্ধ। প্রয়োজনে বিএনপি ছাড়াই নির্বাচন করার পথে এগোবে তারা। আন্দোলনের মাঠে বিএনপিকে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করে দমন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মোটকথা দু’দলই সংঘাতের পথ বেছে নিচ্ছে। আর সংঘাত শুধু সংঘাতেরই জন্ম দেয়। থামিয়ে দেয় অগ্রগতির সকল পথ। এমতাবস্থায়, দেশ ও জনগণের স্বার্থে সরকার ও প্রধান বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা দরকার। মো. নূরুল হুদা সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল, মিরপুর ১৪, ঢাকা ১২০৬ সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন হবে না, তবে সংঘাত অনিবার্য বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমঝোতা না হলে অনেকে মনে করেন যে, দেশে ওয়ান ইলেভেনের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। তাই সমঝোতা করা উচিত! আমি বলতে চাই, বহু কষ্টে ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন এই বাংলাদেশ কোন দলের নয়। এদেশ যেমন সকলে মিলে স্বাধীন করেছে তেমনি এদেশ ধনী-গরীব-উচ্চবিত্ত আর মধ্যবিত্ত সকলের। তাই সকলের স্বাধীন মতামত এবং নির্ভয়ে কাঙ্ক্ষিত সত্, যোগ্য এবং সুশিক্ষায় শিক্ষিত নেতাকে ভোটদানের অধিকার রয়েছে। তাই যেহেতু জনগণই গণতন্ত্র রাষ্ট্রে সকল ক্ষমতার উত্স সেহেতু বাংলার জনগণ ইচ্ছা করলে যে কোনো ন্যায় দাবি আদায় করতে পারে। দু’দলের উচিত হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে দেশের এবং জাতির কল্যাণের জন্য সুষ্ঠু অবাধ এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেয়া যেতে পারে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন বাংলাদেশের সঠিক উন্নয়ন ঘটবে অপরদিকে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের দু’টি প্রধান দলের সম্প্রীতি চোখে পড়ে বাংলাদেশ একটি সুষ্ঠু এবং উন্নত সংঘাতবিহীন রাজনীতির দেশ হিসাবে পরিচিতি লাভ করবে। মো. ফরহাদ হোসেন (রিমন), মাস্টার্স (ফাইনাল), ইতিহাস বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা