দিবস

প্রবীণদের জন্য এগিয়ে আসা দরকার

আজ ১লা অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। বাংলাদেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বেশিরভাগ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করছে। নানা গঞ্জনা আর বঞ্চনার মধ্যে থাকার কারণে এই প্রবীণ মানুষেরা পরিবারের ও সমাজের বোঝা। গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় প্রবীণ জনসংখ্যা বৃদ্ধি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বার্ধক্যকে অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। তাদের চিন্তা, চেতনা, মানসিকতা, স্বাস্থ্য, কর্মজীবন সবই অন্যান্য সব বয়সের মানুষের চেয়ে আলাদা বলা হয়ে থাকে। প্রবীণরা অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার ও আমাদের শেকড়। এবারের প্রবীণ দিবসের শ্লোগান হচ্ছে, ‘প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার বিষয়ে জাতিসংঘ কনভেনশনের জন্য প্রয়োজন রাষ্ট্রীয় সমর্থন।’ বাংলাদেশ হচ্ছে একটি দুর্যোগপ্রবণ দেশ। এ দেশের কোথাও না কোথাও দুর্যোগ সৃষ্টি করছে। এ দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর ৭৭% বাস করছে গ্রামে। এরা দারিদ্র্য, নিঃস্ব, অসহায়, সামর্থ্যহীন। পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে উপেক্ষিত ও বিচ্ছিন্ন। অর্থনীতি এবং বিভিন্ন কারণে যৌথ পরিবার আজ নেই, ভেঙ্গে গেছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুসারে বাংলাদেশে প্রবীণ জনসংখ্যা হচ্ছে ১ কোটিরও উপর । বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ০৭ ভাগ প্রবীণ, ২০২৬ সালে এ সংখ্যা হবে ১০ ভাগ এবং ২০৫০ সালে দাঁড়াবে প্রায় ১৬.২ মিলিয়ন এবং ২০৫০ সালে তা হবে ৪২.৮ মিলিয়ন যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০%। চায়নাতে ২০২২ সালে গড় আয়ু হবে ৫০% থেকে ৬০%। আমেরিকাতে ৫৩% ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রবীণেরা। অষ্ট্রেলিয়াতে ৬৫-৭৪% কাজ করে থাকে। জানা গেছে, ২০১২ সালে জাপানে ১০৬ বছর বয়সে পৃথিবী ঘুরেছেন একজন প্রবীণ। ৪০% অর্থনীতি দেশগুলোতে ৪৭% প্রবীণ পুরুষ ও ২৫% মহিলা পুরুষ কাজ করে থাকে। ২০২৫ সালে ইউরোপ ও আমেরিকার চেয়ে বেশি হবে এশিয়াতে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী ১৯৭৫ সালে প্রবীণদের সংখ্যা ছিল ৩৫ কোটি। ২০০০ সালে ছিল এ জনসংখ্যা বেড়ে গিয়ে ৬০ কোটিতে দাঁড়িয়েছিল। পৃথিবীতে প্রত্যেক সেকেন্ডে ০২ জন এবং প্রতি বছর ৬০ বছরে পা রাখছে। ২০০২ সালের এপ্রিল মাসে স্পেনের মাদ্রিদে জাতিসংঘ দ্বিতীয় প্রবীণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করে। এর লক্ষ্য ছিল— প্রবীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন ও তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি গ্রহণ এবং প্রবীণদের প্রতি বৈষম্যহীন আইন প্রণয়ন করা। এই সম্মেলনে প্রবীণ বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয় যা “মাদ্রিদ ইন্টারন্যাশনাল প্যাটার্ন অব এ্যাকশন অন এইজিং” বা সংক্ষেপে ‘মিপা’ নামে পরিচিত। এই সম্মেলনে উপস্থিত ১৬০টি দেশের সরকার প্রধানগণ এ ব্যাপারে ঐক্যমত হন যে, প্রবীণদের প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য হ্রাস ও তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধান করা যাতে করে প্রবীণ জনগোষ্ঠী তাদের নিজ নিজ সমাজের আর্থ-সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তাদের জীবনকে উপভোগ করতে পারে। প্রবীণদের জ্যেষ্ঠ নাগরিকত্ব ঘোষণা জরুরি হয়ে পড়েছে। প্রবীণদের নিয়ে বেশ কয়েকটি সংস্থা কাজ করে আসছে। তার মধ্যে হেল্প এইজ নেটওয়ার্কের এফিলিয়েট সংস্থা হিসেবে রিসোর্স ইন্টপ্রেশন সেন্টার (রিক) ২০০৭ সালে ‘এইজ ডিম্যান্ডস এ্যাকশন’ প্রচারণায় অংশ নেয়। পরবর্তী বছরগুলোতে ১লা অক্টোবর তারিখে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার সাথে একযোগে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালনের মধ্যদিয়ে বিশ্বব্যাপী ‘এইজ ডিম্যান্ডস এ্যাকশন’ শীর্ষক একটি মহাকর্মোদ্যোগ বাস্তবায়নের ব্যাপারে সর্বজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আজকের নবীন আগামীতে প্রবীণ। তাই তাদের জীবনযাত্রা ও বেঁচে থাকার জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রবীণ নিবাস স্থাপন করতে হবে। আমাদের সবার অঙ্গীকার হোক প্রবীণরা তাদের শেষ জীবনে এসে আমাদের সবার মাঝেই থাকবে। লেখক :সাংবাদিক