সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৩৭
সমঝোতায় পৌঁছতে না পারলে সামনে রয়েছে বিভীষিকাময় অন্ধকার
১/১১ বাংলাদেশের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। সে দিনের সেই ভয়াল দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি কেউ অবলোকন করতে চায় না। এ জাতি দেখতে চায় না লাশের উপর নৃত্যের সেই লোমহর্ষক দৃশ্য। ২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারির সে পরিস্থিতির জন্য তত্কালীন সরকারি দল অর্থাত্ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান নিয়ে নানা টালবাহানা এবং তত্কালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার উগ্র আন্দোলন সমানভাবে দায়ী। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের মাঝে যদি সমঝোতা না হয় তাহলে এ জাতির জন্য অপেক্ষা করছে ১/১১ এর চেয়েও তমসাচ্ছন্ন যামিনী। যা কারো জন্যই সুখকর হবে না। ঐ দূরাকাশে ভাসতে থাকা মেঘের কালো ভেলা যদি এ জাতির ললাটে বর্ষিত হয় তখন এদেশের রাজনীতির কর্ণধাররা জাতির কাছে কি জবাব দেবেন? হূদয় কপাটে নিরাশা সর্বদা দোল খেলে ও মাঝে মাঝে প্রত্যুষের হিমেল হাওয়ার মতো দোল খায় “শেষ সময়ে হলেও অতীতের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের রাজনীতিবিদরা সমঝোতায় পৌঁছবেনই।”
মো. আশরাফুল আলম
১ম বর্ষ, সমাজকর্ম বিভাগ,
আনন্দমোহন কলেজ, ময়মনসিংহ
ওয়ান ইলেভেন
দেশ ও জাতির
কলঙ্ক
বর্তমান সময়ে প্রধান বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে অবস্থান নিলেও সরকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকারি দল বলছে সংবিধান মতে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে ফিরে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। সংবিধান মতে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে এবং সেই নির্বাচনে বিরোধী দলও অংশ নিবে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী দল বি.এন.পি বলছে কোন অবস্থাতেই বর্তমান সরকারের অধীনে বি.এন.পি আগামী নির্বাচনে অংশ নিবে না। এটাও লক্ষ্যণীয় যে, সরকারি দল বলছে সংবিধান থেকে একচুলও নড়ব না অন্যদিকে বিরোধী দল বলছে নড়তে বাধ্য করা হবে। আমরা আরো লক্ষ্য করেছি যে, সরকারি দলের পক্ষে বলা হচ্ছে আগামী নির্বাচন অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হবে এবং সেই সরকারের প্রধান হবেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিন্তু এখানেও প্রধান বিরোধী দলের জবাব না। না— বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর অধীনেও তারা কোন নির্বাচন করবে না। শুধুমাত্র তাই নয় বিরোধী দল ইতোমধ্যে বলেছে যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার আদায়ের লক্ষ্যে তাদের পক্ষ থেকে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। এখানে এটা স্পষ্ট যে আগামী জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে সরকার ও বিরোধী দল পরস্পর বিপরীত পথে হাঁটছে। তবে একথা অনস্বীকার্য বর্তমান বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার ও বিরোধী দলের সমঝোতা না হলে দেশে আবারো ওয়ান ইলেভেন সৃষ্টি হতে পারে যা— দেশ ও জাতির জন্য কলঙ্ক মাত্র।
তারেক রহমান
স্নাতক সম্মান (বাংলা), জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ
গণতন্ত্রের সহজ কথা সমঝোতা, নচেত্ চরম জটিলতা
গণতন্ত্রের সরল অর্থ হলো জনস্বার্থে সমঝোতা, বোঝাপড়া, আলোচনা ও সর্বাত্মক ছাড় দেয়া। যখন এগুলো গণতন্ত্রের প্রতিটি স্তরে স্তরে পালন করা হচ্ছে তখন বুঝতে হবে গণতন্ত্র আপন পথে নিয়মনীতিতে চলছে। রাজনীতিতে সমঝোতা অতি সম্ভব যদি রাজনীতিবিদরা জনগণের কথা মাথায় রেখে রাজনীতি করে। সর্বাত্মক ছাড় দেয়া আরো সহজ যদি বিষয়টিতে জনস্বার্থ লুকিয়ে থাকে। বর্তমান রাজনীতিবিদরা কেমন গণতন্ত্রের চর্চা করেন যে, গণতন্ত্রের একটি বিষয় সমাধান করতে পাঁচটি বছর পার করলেও সমঝোতার আকাশে অনৈক্যের মেঘ দূর করে জাতিকে আলোর ফোয়ারা দেখাতে পারল না। জনগণের বুঝতে বাকি নেই যে, দেশ চলছে ওষ্ঠচর্চার গণতন্ত্রে। ফলে দেশের গতি চরম জটিলতার দিকে মোড় নিচ্ছে। জনগণ নিরাশায় হাবুডুবু খাচ্ছে। তাই কালক্ষেপণ না করে রাজনীতিবিদদের এখনই প্রকৃত গণতন্ত্রীমনা হয়ে সমঝোতায় বসে চলমান সমস্যা দূর করে ওয়ান ইলেভেনের মতো গণতন্ত্র বিধ্বংসী সুনামির মরণদশা থেকে দেশকে রক্ষা করুন।
মুছা বিন মোহাম্মদ
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
(৪র্থ বর্ষ),
শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী হল,
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
রাজনৈতিক সমঝোতা হওয়া
উচিত তা না হলে দেশের
অবস্থা আরও খারাপ হবে
বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি রাজনৈতিক কোন সমঝোতা না হয় তাহলে ১/১১ এর চাটুকারদের মত বাংলাদেশে আরো যেসব চাটুকার আছে তারা আবার ক্ষমতায় আসবে। এইসব ধুরন্দর প্রকৃতির লোকদের থেকে যত সম্ভব দেশের দুই রাজনৈতিক শক্তিকেই সাবধান হতে হবে। না হলে দুই নেত্রী যেভাবে ওয়ান ইলেভেনের সময় কারাবরণ করেছিলেন সেভাবে কারাবরণ করতে হবে। ওয়ান ইলেভেন-এর সেই তিক্ত অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের বড় দুই দলের দুই বিচক্ষণ নেত্রীর উচিত এবার একটা সমঝোতায় এসে কিভাবে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় সেদিকে মনোযোগ দেয়া। ক্ষমতার জন্য নয় দেশের জন্য একটু ভাবলে সবার জন্যই ভালো। গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে হলে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচন অত্যাবশ্যকীয়। গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর দেশের মানুষ আশা করে। বুদ্ধিজীবীদের উচিত দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকে সুষ্ঠু পথে ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়াস চালানো। তা না করে যদি ক্ষমতার জন্য তারাই ওত পেতে বসে থাকেন তখন দেশ কোন দিকে যাবে সেটাকি কারো বোঝার বাকি থাকে।
এস এম হূদয় রহমান
এলএলবি ১ম বর্ষ,
ইস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা