নির্বাচন অবাধই হবে, কারচুপি সম্ভব নয়
প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০১৩, ২১:২৯
মিডিয়াগুলোর টকশো ও কলামে বেশির ভাগ আলোচক এবং লেখক আগামী নির্বাচন নিয়ে যখন নানা ধরনের আশংকা, হতাশা ও সন্দেহের কথা বলেন বা লেখালেখি করেন তখন এ ধরনের শিরোনামের লেখা দেখে পাঠক আশাবাদী হবেন, নাকি লেখক হিসেবে আমাকে নিয়ে সন্দেহ করবেন সেটি তাদের যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে রাজনীতি নিয়ে দলগুলোর নেতারা বেশিরভাগই বাদানুবাদ করেন। টকশোগুলোতেও এর প্রতিফলন দেখি, লেখালেখিতেও অনেকটাই তাই ঘটছে। বাদানুবাদ হচ্ছে ঝগড়াঝাটির ভদ্র শব্দ। ঝগড়া এবং বাদানুবাদে যুক্তি ও বাস্তবতার গ্রহণযোগ্যতা থাকে না। কথায় প্রতিপক্ষকে দাবিয়ে রাখাই জয়ের মাপকাঠি হিসেবে ধরা হয়। দুঃখজনক অভিজ্ঞতা হচ্ছে আমাদের রাজনীতি এবং মিডিয়ার জায়গাগুলো সেই সংস্কৃতি থেকে বের হতে পারে না। পারেনি বলেই আগামী নির্বাচন নিয়ে গত ২ বছর ধরে সেখানে একই কথা শুনি। নতুন কোনো চিন্তা নেই, যুক্তি নেই। যদি রাজনীতিতে বা মিডিয়াগুলোতে আগামী নির্বাচন নিয়ে এ পর্যন্ত যতো কথা উচ্চারিত হয়েছে তা পুরোপুরি সংরক্ষণ করা যেতো তাহলে এর জন্য পৃথিবীর তাবত্ জায়গাতেও এর জায়গা হতো কিনা সন্দেহ আছে। একই বিষয় নিয়ে একই কথা বলতে বা শুনতে কার ভালো লাগে জানি না। তবে আমাদের বোধহয় সহ্য হয়ে গেছে।
মূল প্রসঙ্গে ফিরে আসি। বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দল এবং সরকারি দলের অবস্থান এবং বক্তব্য সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। সরকারি দল সংবিধান সম্মতভাবে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের ধারা চালুর কথা বলছে, বিরোধী দল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচন হতে দেবে না, নিজেরাও অংশ নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবরের পর তারা অবরোধ, হরতালসহ নানা ধরনের কর্মসূচি দেবে বলেও প্রচার করছে। ১৮টি বিরোধী দল সে ধরনের কর্মসূচি দিতে চাইলে দেশে সংঘাত সংঘর্ষ হবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, কেন এ সংঘর্ষের প্রয়োজন বিরোধী দলের? উত্তরে তারা বা তাদের সমর্থকদের বক্তব্য হচ্ছে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু এবং গ্রহণযোগ্য করতে হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার লাগবেই। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো সরকার নির্বাচনের সময় থাকলে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ হবে, প্রশাসনকে ব্যবহার করা হবে, নির্বাচনে কারচুপি হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। সবই কিন্তু হবে এমন ধারণাপ্রসূত কথা কোনো বাস্তব অভিজ্ঞতালব্ধ বক্তব্য নয়। বলা হয়ে থাকে ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য শেখ হাসিনা আন্দোলন করেছিলেন এখন তিনি তার সুবিধার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গলাটিপে হত্যা করেছেন ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে যে বিষয়টি দেখা হয় না, তা হচ্ছে তত্কালীন বাস্তবতা কেমন ছিল, আরো দেখা হচ্ছে না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা কী, যেটি একেবারেই উপেক্ষা করা হচ্ছে তা হলো অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্তসমূহ কী কী? ১৯৯৬ সালের আগে নির্বাচনের বাস্তবতা কী ছিল তা আর নতুন করে স্মরণ করিয়া দেয়ার প্রয়োজন নেই। তবে তখন আন্দোলনকারী দলগুলো যে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি তা হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, আচরণবিধি, নির্বাচনী ব্যবস্থার বিষয়টি। তখন দেখা হয়েছিল সরকার ব্যবস্থার ভূমিকাকেই। কেননা, তখন পর্যন্ত সরকার যে কোনো নির্বাচন চাইলেই হস্তক্ষেপ করতে পারতো। যার নজির বরিশাল, ঢাকা, মিরপুর, মাগুরা ইত্যাদি। ফলে শেখ হাসিনার আন্দোলন মানুষের কাছেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির প্রতি জনসমর্থন ক্রমেই নিরঙ্কুশ হয়েছিল। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর দেখা গেল ১৯৯৬-এর নির্বাচনেই মস্তবড় সংকট তৈরি হয়, এর ফলাফল পরাজিত দল মেনে নেয়নি। আবার ২০০১ সালে বিদায়ী সরকার ক্ষমতা হস্তান্তর করতে না করতে দলটির অবস্থান ‘নো হয়ার’ হয়ে পড়ে। তত্ত্বাবধায়কের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট জায়গা তৈরি হয়। ভোটারদের ভোট দানে বাধা, গণনায় বাধা, ফলাফলে বিপর্যয়, দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন, পরাজিত আওয়ামী লীগের ওপর চড়াও হওয়াটা ইত্যাদি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্বলতা তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়। ২০০৬ সালে ৪ দলীয় জোট সরকার এমন তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছিল—যে সরকার তার আজ্ঞাবহ হবে, ২২ জানুয়ারি একটি নির্বাচন দেখিয়ে তাকে বিজয়ী ঘোষণা দিয়ে ক্ষমতায় আবার বসিয়ে দেবে। সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্বলতার কথা বুঝতে পেরেই ৪ জন উপদেষ্টা সরকার থেকে পদত্যাগ করলেন। এরপরও অসীম ক্ষমতাধর তত্ত্বাবধায়ক সরকার নতুন ৪ জন উপদেষ্টা জোগাড় করলেন কার পরামর্শে? তত্কালীন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার কথা কী ভুলে যাওয়া সম্ভব? ৩ জন নতুন কমিশনারকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, যাদের সবাই ছিলেন বিএনপি ও জামায়াত ঘরানার কর্মকর্তা। আমি ভাবতে পারি না, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের এমন ন্যক্কারজনক ভূমিকা দেখার পর আমাদের সুশীল সমাজের কোনো কোনো ব্যক্তি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকেই মহৌষধ বলে কিভাবে মনে করেন? আসলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পারেনি আমাদেরকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে। পারার কথাও নয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে নির্বাচন কমিশনকেই ঢেলে সাজাতে হয়, নির্বাচন ব্যবস্থাতেই আমূল পরিবর্তন আনতে হয়। বিষয়গুলো আমাদের দেশে ২০০৭ সালের পর ভিন্নতর একটি পরিস্থিতিতে শুরু হয় যা রাজনৈতিক দলগুলো তাদের শাসনকালে করতে পারেনি। হাত দেয়নি। ২০০৭ সালে পুনর্গঠিত নির্বাচন কমিশন প্রথম যে কাজটি করেছে তা হলো ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা প্রণয়ন করা। এর ফলে জালভোট দেয়া ও দ্বৈত ভোটার হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেল। ভোটদানে স্বচ্ছতার সম্ভাবনা তৈরি হলো। দ্বিতীয় যে কাজটি তখন নির্বাচন কমিশন করে তা হচ্ছে নির্বাচনী আচরণ বিধির ওপর জোর দেয়া। নির্বাচন কমিশন বেশ কড়াকড়িভাবেই তখন তা করেছে।
আমরা জানি, এসব কথা অনেকেরই পছন্দ হচ্ছে না। তবে বাস্তবতাকে অস্বীকার করে পা দিলে ডুবেই মরতে হতে পারে। যারা বাদানুবাদ করেন তা বাস্তবতাকে যুক্তি দিয়ে দেখেন না, মানেন না। রাজনীতিতে পথ পরিক্রমায় সব সময় অতীত অভিজ্ঞতা সম্মুখে নিয়ে বসতে হয়, সেভাবে কথা বলতে হয়, প্রয়োজনে গতিপথ পরিবর্তন করতে হয়। পরীক্ষা নিরীক্ষায় যা সফল হবে না তাকে পরিত্যাগ করাই উত্তম। বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পরিণতি ক্রমশ অবনতিশীল হতে হতে বিপর্যয়কর অবস্থার দিকেই চলে গেছে। এক এগারের পর যে সরকার ক্ষমতা নিয়েছিল তা সংবিধান সম্মত নয়, তত্ত্বাবধায়কও নয়। তা ছিল পরিস্থিতির বাস্তবতা , রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় যাকে ডকট্রিনা অব নেসেসিটি বলে মর্যাদা দেয়ার চেষ্টা করে। শেখ হাসিনা তখন একে আন্দোলনের ফসল বলেছিলেন। কোনোটিই অস্বীকার করার উপায় নেই। কেননা ঐ তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে তখন দেশব্যাপী যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল তা বঙ্গভবন অবরোধ পর্যন্ত গড়িয়েছিল।
কথা হচ্ছে এক এগারোর সরকারকে আমাদের সমর্থন করার বিষয় নয় মোটেও। কিন্তু সেই সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থায় এমন কিছু পরিবর্তন এসেছে যা দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। এখান থেকে পিছিয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সুযোগ ছিল না যে তার প্রমাণ গত পাঁচ বছর ধরে দেশে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে সেগুলোতে সরকারি হস্তক্ষেপ না করার মধ্যেই পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে কিছু একটা করার চিন্তা কারো কারো মাথায় ছিল বলে ধারণা পাওয়া যায়। কিন্তু সরকার এর পরিণতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল। সরকার তাতে সায় দেয়নি। যদি সরকার হস্তক্ষেপ করতো তাহলে শেখ হাসিনার সরকারের ভাবমূর্তি অনেক আগেই নষ্ট হয়ে যেতো। হয়তো সরকার পতনের জন্য জনগণই রাস্তায় নেমে আসতো।
তা হলে, বাস্তবতার দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় যে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে বাংলাদেশ অনেক আগেই প্রবেশ করেছে। নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে পৃথিবীর সব উন্নত দেশের মতোই আমাদের একটি অবস্থানে যেতে হবে। নির্বাচন কমিশনকে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করার জন্য যা যা করণীয় দরকার তার আইনগত প্রশাসনিক ও আর্থিক সকল ব্যবস্থা করে দেয়া, একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকারের কর্মপরিধি ঠিক করে দেয়া আবশ্যক। এটি শুধু আগামী ১০ম সংসদ নির্বাচনের জন্যই প্রযোজ্য হলে চলবে না, ভবিষ্যত্ সকল নির্বাচনও সরকারের জন্যেই প্রযোজ্য হতে হবে। বাংলাদেশের জনগণকে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্যে যেন আর নতুন করে আন্দোলন করতে না হয়, বিভ্রান্তি ছড়িয়ে মানুষকে যেন উত্তেজিত করে না রাখতে হয়। একটি কথা প্রায়ই বলা হচ্ছে যে, শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার তুলে দিয়ে একদলীয় নির্বাচন করে জিতে আসতে চাচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য যারা দেন, তারা কি মনে করেন যে, জনগণের ভোট কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা এককভাবে শেখ হাসিনা রাখেন? ভোট কেড়ে নেয়ার ক্ষমতা এখন বাংলাদেশে শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়া কারোই আর নেই। ১৯৯৬-এর ১৫ বা ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারিতে যারা একদলীয় নির্বাচন করতে চেয়েছিলেন তারা কেউই সফল হননি। এখন ২০১৪ সালে একেবারেই তাতে সফল হওয়ার কোনো কারণ নেই। শেখ হাসিনার কথাবার্তা শুনে মনে হয় এ সম্পর্কে সচেতন। সে কারণেই তিনি বলছেন যে, জনগণ যদি তাকে ভোট দেন তা হলে তিনি ক্ষমতায় ফিরে আসবেন। না দিলে ফিরবেন না। বিরোধী দলে যাবেন। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্যমে কোনো দল বিরোধী দলে যেতে রাজি আছে এমন কথা বলার পর নির্বাচন নিয়ে এতো সংশয়, সন্দেহ, আশঙ্কার কোনো কারণ থাকতে পারে কি? বাংলাদেশে সকল দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন সম্প্রতি দুই নেত্রীকে টেলিফোন করেছিলেন। শেখ হাসিনা জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিয়ে বান কি মুনকে বলেছেন যে, অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করতে জাতিসংঘ যেন পর্যবেক্ষণ টিম বাংলাদেশে প্রেরণ করে। শেখ হাসিনার এ কথার মধ্যেও বোঝা যায় যে, তিনি কোনো কারচুপির নির্বাচনের চিন্তা মাথায় পোষণ করেন না। যদি তা করতেন, তা হলে এমন আমন্ত্রণ জানাতেন না। বাস্তবে বাংলাদেশে কারচুপির নির্বাচন করার কোনো সুযোগ এখন আর নেই। ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা যেমন রয়েছে, অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন করার অভিজ্ঞতাও কমিশনের কিছু হয়েছে, জনগণ ভোটের ব্যাপারে অতিমাত্রায় সচেতন। মিডিয়া, মোবাইল ফোন এবং আন্তর্জাতিক মহলও রয়েছে। এতো সব শক্তির চাইতে শেখ হাসিনা বা নির্বাচনকালীন সরকার মোটেও শক্তিশালী নয়। তা ছাড়া শেখ হাসিনার বেশ কিছু ব্যাপারেই কারো কারো সমালোচনা থাকলেও যেটি তার বিশেষ গুণ তা হচ্ছে, তিনি স্পষ্টবাদী এবং রাজনীতিতে কিছু আদর্শকে ধারণ ও বাহন করেন। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক্সপেরিমেন্ট করেই এগুতে চাচ্ছেন। তত্ত্বাবধায়ক ছিল তার একটি এক্সপেরিমেন্ট। সেটি ব্যর্থ হওয়ায় তিনি সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করতে চাচ্ছেন। তিনি খুব ভালো করেই জানেন যে, তার সম্মুখে তিনটি অপশান রয়েছে। এক, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন দিয়ে পরাজিত হওয়া, দুই. ঐ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া এবং তিন. একদলীয় যেনতেন মার্কা নির্বাচন করা। তার কথা-বার্তা ও আচরণ দেখে মনে হয়, তিনি প্রথম দুটো অপশানেই বিশ্বাস করেন, তৃতীয় অপশান তার এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির অপমৃত্যু নিয়ে আসবে। সুতরাং এটি তিনি মনে মনেও চাইবেন এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই। যদি তিনি ভুল করেও তাতে পা রাখেন তাহলে তার রাজনীতির পরিণতির কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। অথচ প্রথম অপশানে গিয়ে তিনি পরাজিত হলেও তাতে তার বা আওয়ামী লীগের রাজনীতির শেষ হওয়ার সামান্যতমও সম্ভাবনা থাকবে না। বরং আওয়ামী লীগ অদূর ভবিষ্যতে বিজয়ী দল হিসেবে আবার ক্ষমতায় আসতে পারবে এটি প্রায় নিশ্চিত। আগামী নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিলে ক্ষমতায় শুধু বিএনপি এককভাবে আসবে না, জামায়াত-হেফাজতসহ উগ্র ডানপন্থিদের যে উত্থান ঘটবে তা ২০০১ সালের চাইতেও ভয়াবহ হতে পারে। এমন আশঙ্কা সুধী মহল এখনই করছেন। সে ক্ষেত্রে বিএনপির প্রতি এখন যে মোহ বা সহানুভূতি দেখা যাচ্ছে তার কতোটা টিকে থাকবে বলা কঠিন। সুতরাং রাজনীতির আদর্শলিপি বাদানুবাদের শিক্ষা দেয় না, দেয় রাজনীতির নীতি-আদর্শের ধারার শিক্ষাও। সে কথাগুলো ভাবতেই সকলকে অনুরোধ করবো।
লেখক: অধ্যাপক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক