প্রবীণদের প্রতি উপেক্ষা বাড়ছে

যাদের বাবা-মা আছে তাদের বুঝতে হবে যতই অভাব-অনটন থাকুক না সবার উপরে বাবা-মা। তাদেরকে বুঝতে হবে যে, আমরাও এক সময় বৃদ্ধ হবো। কাজেই তাদেরকে কোনভাবে উপেক্ষা করা যাবে না, কখনই বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর কথা ভাববো না। এজন্য সকল পেশাজীবীর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের সুশীল সমাজ সুষ্ঠু রাজনীতি নিয়ে কথা বলেন। তারা কোথাও প্রবীণ বিষয় নিয়ে কথা বলে না। গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে ভূমিকা রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি। আমাদের সীমিত আয় ও অর্থের মধ্য দিয়ে আমাদের বৃদ্ধ বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে সুন্দরভাবে দিন কাটাতে চাই। আসাদুজ্জামান আসাদ লেখক- গবেষক, ৩৩, তোপখানা, ঢাকা আমাদের সমাজে একটি প্রবাদবাক্য প্রচলিত আছে যদি কিছু শিখতে চাও- তিন মাথার কাছে যাও। আর এই তিন মাথা হচ্ছে আমাদের প্রবীণ সমাজ, আমাদের শেকড়। অথচ অত্যন্ত দুঃখজনক, এখন সমাজের উন্নতির সাথে সাথে আমরা সে শেকড়টি যেন উপড়ে ফেলছি। আমাদের প্রবীণ জনগোষ্ঠী আজ চরম দুঃখ-দুর্দশায়। অসহায় ও বঞ্চনার মধ্যে তাদের শেষ দিনগুলো পার করে দিচ্ছে। আদমশুমারির তথ্যানুসারে দেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠী ছিল ১৯৯০ সালে ৪০ লাখ ৯০ হাজার। এরপর ১৯৯১ সালে দাঁড়ায় ৬০ লাখে। এখন ১ কোটি ২৫ লাখেরও বেশী। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা ১ কোটি ৮০ লাখ। ২০২৬ সালে এই সংখ্যা হবে এখানকার ৭ ভাগ বেড়ে ১০ ভাগে। অথচ ১৯৭৫ সালে ছিল ৩৫ কোটি সারা বিশ্বে। মনে রাখতে হবে তাদের প্রতি দয়া নয়। অধিকারের ভিত্তিতে প্রবীণদের স্বার্থ সংরক্ষণ বিষয়টিতে নজর দিতে হবে। বিষয়টি গণমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে প্রচার করা দরকার। লাড্লা, পিলখানা, ঢাকা প্রবীণদের চেয়ে দুর্ভাগা এবং অসহায় আর কে আছে? আমরা যাদের প্রজন্ম তাদেরকে সুন্দর কোন ব্যবস্থা আমরা করে দিতে পারিনি। অসহায় বৃদ্ধ, বৃদ্ধাদের জন্য আশ্রয়, আবাসন নির্মাণ, সমাজ সেবা প্রদান, বিনোদনের ব্যবস্থা রাখা ইত্যাদি জরুরী ছিল। দুঃখজনক হলেও সত্য, আমরা প্রবীণদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারিনি বলে তারা বড় অসহায় এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে। আমাদের জীবন ছোট হলেও সবাইকে বৃদ্ধদের জন্য কিছু একটা করতে হবে। সমাজে, দায় হিসাবে প্রবীণদের দেখলে হবে না, সেজন্য আমরা মনে করি সরকারের পাশাপাশি ধনাঢ্য ব্যক্তি ও শিল্পপতিরা কাজ করতে পারে। শহরে যেমন প্রবীণদের জন্য সুযোগ-সুবিধা আছে ; গ্রামে সেটা নেই। তাই শহরের পাশাপাশি গ্রামের জন্যও এ ব্যাপারে কাজ করা একান্ত প্রয়োজন। আমরা মনে করি আজকে আমরা যুবক আগামীতে আমরাই প্রবীণ হবো। সুতরাং আমাদের আগামী দিনগুলোর কথা ভেবে প্রবীণদের জন্য বিভিন্ন কল্যাণধর্মী কাজ এখনই করা উচিত। বয়স্কদের অবহেলা করার মানসিকতা ত্যাগ করে মানবিক হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত। সমগ্র উন্নত বিশ্বে প্রবীণদের জন্য নানা রকমের কল্যাণধর্মী কাজ হচ্ছে। বাংলাদেশেও যেসব মডেলের ভিত্তিতে বিভিন্ন রকমের কর্মসূচী হাতে নিয়ে প্রবীণদের কল্যাণ সাধন করতে হবে। ওয়াহিদ মুরাদ স্বরূপকাঠি, পিরোজপুর সময়ের সাথে সাথে বদলায় সব। বদলায় মানুষের জীবন। বদলায় বয়স। আমরা আসলেই এখন প্রবীণের কাছাকাছি। আমার বয়স ৫৫ বছর। এখনকার সময়ে অনেক পরিবারের সন্তানেরা বাবা-মাকে ঘরের বারান্দায় স্থান দেন। পরিবারের মধ্যে নানান রকম আলোচনা হয় অথচ যেখানে তাদের সম্পৃক্ত করে না। আমরা একদিন আগে বা পরে প্রবীণ হবো। এই প্রবীণকে ছোট করে দেখার কোন অর্থ নেই। তাই সবার প্রতি আহ্বান থাকবে যাতে আমরা প্রত্যেকে যার যার স্থান থেকে ঐ শ্রদ্ধাভাজন বাবা- মাকে যেন সম্মান জানাই ও মর্যাদা দেই। প্রবীণ হবার সাথে সাথে তার খাদ্য তালিকারও পরিবর্তন হয়, তার খোঁজ-খবর নেয়া, যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা এগুলো যেন আমরা ভুলে না যাই। ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত Helth Complex -এ প্রবীণরা স্বাস্থ্যসেবা পায় না বললেই চলে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালু করেছে কিন্তু সেখানে এই প্রবীণ জনগোষ্ঠীরা ধুকে ধুকে মার খাচ্ছে। বিভিন্ন বাসে ৯টি সিট বরাদ্দ থাকে মহিলা, শিশু, প্রতিবন্ধীদের; কিন্তু যারা প্রবীণ তাদের কোন আলাদা সিট থাকে না। অথচ প্রতিটি বাসে প্রবীণদের জন্য সিটের নির্দেশ থাকা দরকার। একজন মানুষের বয়স ৭০ পার হলেই তার শরীরের মজ্জা ধরে। সে সময় একা চলা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ থাকবে তাদের জন্য সিনিয়র সিটিজেনের বিষয়টি খুব তাড়াতাড়ি ঘোষণা দেয়া, ইউনিয়ন থেকে উপজেলা পর্যন্ত স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা দরকার। মনে রাখতে হবে আমরা সবাই প্রবীণ হবো, এ জায়গা থেকে এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। দীনবন্ধু দত্ত ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, রিসোর্স ইন্ট্রিগেশন সেন্টার (রিক) ধানমন্ডি, ঢাকা দুর্যোগকালে শিশুদের মতো প্রবীণদের অসহায়ত্ব অপেক্ষাকৃত বেশী। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী সমগ্র বিশ্বে প্রবীণ সংখ্যা ১৯৭৫ সালে ছিল ৩৫ কোটি। ২০০০ সালে সেটা বৃদ্ধি পেয়ে হয় ৬০ কোটি। ২০২৬ সালে এ সংখ্যা হবে বর্তমান জনসখ্যার চেয়ে ১০ ভাগ। সুতরাং প্রবীণদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গণমাধ্যমে বার্ধক্য ও প্রবীণ ইসুতে স্বতন্ত্র একট স্থান চালু করা একান্ত দরকার। হোসনে আরা করিম এনাযেত গঞ্জ লেন, ঢাকা প্রবীণদের জন্য সর্বাগ্রে দরকার একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা, যার মাধ্যমে দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠী উপকৃত হয়ে। সকল এনজিওকে প্রবীণ কল্যাণ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মুন্সী মোহাম্মদ ওয়াহীদ উল্লাহ প্রধান সড়ক, ফেনী আগামী ১০-১৫ বছর পরে দেশের আর্থ-সামাজিক ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে বার্ধক্যই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সকলেই আজ প্রবীণ। এদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেত্রী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী বিভিন্ন লোক প্রবীণদের অবদানে অত্যন্ত সরব। এ সমস্ত আলোকিত প্রবীণের ব্যক্তিগত স্বস্তি, আত্মতৃপ্তি, সেবাযত্নের বিষয়টি আজ মারাত্মক ঝুঁকির সম্মুখীন। মো. খায়রুল ইসলাম (ফুল) আরাপপুর, ঝিনাইদহ, ঢাকা প্রবীণদের মর্যাদা রক্ষা করলে এবং নতুন প্রজন্মের তা প্রদান করলে এ সমাজ গড়ে উঠবে একটি আদর্শ ও সুন্দর সমাজে। তখন আর বৃদ্ধাশ্রম নয়, পরিবারই হবে তার মর্যাদাপূর্ণ স্থান। মাসুম আহম্মেদ সাপ্তাহিক শিকড়ের সন্ধানে, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা জাতিসংঘের আহ্বানে ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিবছর ১ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ প্রবীণ। আগামী ২০২৫ সাল নাগাদ এই প্রবীণদের সংখ্যা হবে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ এবং ২০৫০ সালে প্রায় ৪ কোটি হবে। তবে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে তাদের যথাসময়ে অবহিত, সচেতন আর প্রস্তুত করায় দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এবং গণমাধ্যমের বলিষ্ঠ ভূমিকা ও পদক্ষেপ গ্রহণের কোন বিকল্প নেই। এস কে মোহাম্মদ রমিজউদ্দিন প্রশিকা প্রধান কার্যালয়, মিরপুর-২, ঢাকা প্রবীণ নিবাসে সবাই মিলে নতুন একটি পরিবার গড়ে তোলে। এর পরেও এদের সুখ-শান্তি নেই। শেষ বয়সে মানুষ চায় তার সন্তান, নাতি-নাতনিদের সংগে একসাথে বসবাস করতে। কিন্তু তাদের তা অনেকেরই হয় না। মো. মোজাহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান, ইডাফ, সাভার ঢাকাতে বৃদ্ধা আবাসের হাতে গোনা কয়েকটি। ৪০টির মতো বৃদ্ধ-বৃদ্ধার সম্মিলিত আবাস আগারগাঁও প্রবীণ হিতৈষীতে। কোনভাবে এখানে থাকছেন এই বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা। পিতা-মাতা এখন অনেকেরই বোঝা। ছেলে-মেয়ে পুত্রবধূদের নানারকম কটূ কথা, বকা অনেক সময় নির্যাতন সইতে না পেরে চলে এসেছেন এই প্রবীণ নিবাসে। কিন্তু কতটুকু ভালো আছে? মনে রাখতে হবে আমরা সবাই প্রবীণ হবো একদিন। এখান থেকে কোনভাবেই ছাড়া নেই। তাই নবীনদের বলবো, প্রবীণদের প্রতি মর্যাদা ও সম্মান জানাও। আবদুল মালেক মিয়া, দলিল লেখক, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, মিরপুর, ঢাকা প্রবীণ নাগরিকদের যদি বিশ্বের এই সম্পদশালী ও ক্রমবর্ধমান জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু একটা না করতে পারি এবং এদেরকে বঞ্চিত করে যেতে থাকি তাহলে বিশ্বের দারিদ্র্য মুক্তির লক্ষ্যে সার্বিক অগ্রগতি মারাত্মক আকারে হ্রাস পাবে। মো. হানিফ মিয়া, হাজারীবাগ, ঢাকা প্রবীণ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এই মর্মে যে, প্রবীণ নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারীদের উত্থাপিত ইস্যুগুলো তাদের জন্যই প্রযোজ্য এবং তাদের নিজ নিজ দেশের জন্য সুনির্দিষ্ট। যেমন উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে, প্রবীণরা তাদের ন্যায্য মজুরি কিংবা স্বাস্থ্য পরিচর্যা সহায়তা পাচ্ছেন না। জাহাঙ্গীর খান বাবু দৈনিক জনতা, মতিঝিল, ঢাকা এক সময়ের নবীন। আজকের প্রবীণেরা তারা তাদের কর্মের মাধ্যমে অনেক অবদান রেখে যাচ্ছেন। তাদের এই অবদান রাখার ব্যাপারে তাদেরকে সহায়তা করা দরকার। খায়রুল, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা প্রবীণদের জন্য সর্বাগ্রে দরকার একটি সুষ্ঠু পরিকল্পনা। যার মাধ্যমে দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠী উপকৃত হতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা। যার মাধ্যমে তাদের বয়স উপযোগী কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। জাতি গঠন এবং দেশ উন্নয়নের সকল পর্যায়ে প্রবীণদের শরীক হবার সুযোগ দিতে হবে। নতুবা একই ধারায় তারা চলবে। ফেরদৌসী বেগম গীতালী, রিসোর্স ইন্ট্রিগ্রেশন সেন্টার (রিক) ধানমন্ডি, ঢাকা প্রবীণদের কাছ থেকে শেখা ইতিহাসের কাছ থেকে শেখাও বটে। তারা হচ্ছে জ্ঞানের ভাণ্ডার। সুতরাং, তারা আমাদের দিক-নির্দেশক, আমাদের ঠিকানা। মো. সেলিম, মহাখালী, ঢাকা প্রবীণদের জন্য তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে হবে। যেহেতু শিশু অধিকার রক্ষায় বা প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় দীর্ঘদিন আগেই জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক কনভেনশন ঘোষণা করেছে। তাহলে বিশ্বে এই প্রবীণ জনগোষ্ঠীর জন্য কেন একটি পৃথক আন্তর্জাতিক দলিল হবে না? সৈয়দা নাসরিন সুলতানা স্যানি সাইড, নিউইয়র্ক তারা যাতে ছোটখাট কাজ করতে পারে তার ব্যবস্থা করতে হবে। এই জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ কর্মসূচি চালু করতে হবে। হাসান মোহাম্মদ হোসাইন চৌধুরী, কবির হাট, নোয়াখালী অনেক পরিবারে এই বৃদ্ধটি একা। কোন ছেলে বিদেশে, কোনটি দেশে থেকেও ব্যস্ত। বাড়িতে যাওয়ার সময় হয় না। ঈদের ছুটি বা অন্য কোন উত্সবে এক ফাঁকে যান গ্রামের বাড়িতে। পথ চেয়ে বসে থাকেন আর বলেন— “আমার বাজান আয়, কবে তোগো একবার দেখবো?” সন্তানকে দেখার জন্য তার মন সর্বদা ব্যাকুল হয়ে থাকে। নীলুফা আক্তার, টোলার বাগ, মিরপুর-১, ঢাকা বর্তমানে যারা নবীন, তারাই একদিন প্রবীণ হবে। আমাদের দেশে প্রবীণদের প্রতি অবহেলা, অযত্ন, বেড়েই চলেছে। মানুষের গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যেক পরিবারেই প্রবীণ বয়স্কদের দেখা যায়। তাদের বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, মন-মানসিকতা, নবীনদের চেয়ে বেশি হলেও তাদের মতামতের গুরুত্ব নবীনরা দিতে চায় না। বাংলাদেশ স্বল্পআয়ের দেশ। এখানে পরিবারের অর্থনৈতিক টানা-পোড়েন থাকায় প্রবীণদের যথেষ্ট সেবা করা যায় না। তবে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা প্রদানে পয়সা খরচ হয় না। এটাও অনেক প্রবীণের ভাগ্যে জোটে না। উন্নত দেশে বৃদ্ধাশ্রম থাকায় প্রবীণদের যেখানে সুযোগ-সুবিধা আছে। বর্তমানে আমাদের দেশেও কিছু বৃদ্ধাশ্রম তৈরি হয়েছে এবং ধনাঢ্য ব্যক্তিরা সেখানে রাখতে পারছে। গ্রাম-গঞ্জে অভাবের সংসারে প্রবীণদের কষ্টে দিন কাটছে। সরকারের এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া উচিত। বৃদ্ধাশ্রম, বয়স্ক ভাতা বৃদ্ধি করে প্রবীণদের শান্তিপূর্ণ জীবন-যাপন করতে সহায়তা করা। আমাদের দেশে বয়স্ক ও অবসর ভাতা খুবই কম। প্রবীণদের অবসর ভাতা, চিকিত্সা সেবার ভাতা আরো বাড়ানো উচিত বলে মনে করি। স্বেচ্ছাসেবক, প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে পারেন ও তাদের বৃদ্ধাশ্রম তৈরি করা একান্ত দরকার। এতে করে তাদের অনেক সুবিধা হবে। এই প্রবীণরাই এক সময়ে পরিবার, সমাজকে এগিয়ে এনেছে। আজ শুধু আন্তর্জাতিক মা দিবস, বাবা দিবস, প্রবীণ দিবস এগুলো উদযাপন করলেই চলবে না। তাদের জন্য সারাজীবন সুষ্ঠু-সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য দায়িত্ব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের। একজন প্রবীণই পরিবারের শিকড়। প্রবীণদের মূল্যায়ন করতে শিক্ষা দিতে হবে। আশা এলিজাবেথ গোমেজ, লক্ষ্মীবাজার, ঢাকা- ১১০০ আমরা সবাই একদিন প্রবীণ হবো। সকলের প্রচেষ্টায় আমরা আমাদের বার্ধক্যকে সহনীয়, শান্তিময় এবং সক্রিয় করে তুলি। এদেশ হোক বয়স্ক মানুষের বসবাসের জন্য সমান উপযোগী একটি সুন্দর দেশ। এম এস কে এ রাজা, মতিঝিল, ঢাকা বর্তমানে পরিবারে প্রবীণদের উপেক্ষা বাড়ছে। তাদেরকে উপেক্ষা করে পরিবারের অন্য সদস্যরা। প্রবীণরা অসহায়তার স্বীকার হচ্ছেন। আর গণসচেতনতা বাড়িয়ে চলমান এ প্রথা নির্মূল করা জরুরি বলে মনে করি। ইভান, কাওরাইড, শ্রীপুর, গাজীপুর প্রবীণদের বয়সসীমা নাকি তিনভাগে ভাগ করা যায়। এর মধ্যে ‘ইয়ং বয়স ৫৮ থেকে ৬৮, মধ্যম বৃদ্ধ ৭০ থেকে ৭৯, আর বৃদ্ধ বা প্রবীণ বয়স হচ্ছে ৮০। আমাদের দেশে প্রতিমাসে ৩০০ টাকা করে প্রায় ২৭ লাখ প্রবীণের বয়স্ক ভাতা দেয়া হয়। সুযোগ পায় আরো কয়েক লাখ। তবে তাদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো দরকার। জাহাঙ্গীর হোসাইন, কাজীপাড়া,মিরপুর শুধু প্রবীণ দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বরং এই সময়টাকে প্রবীণের কল্যাণে একটি চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। অতুল, হাজারীবাগ পার্ক, ঢাকা অধিকাংশ পরিবারের দিকে লক্ষ্য করলেই দেখা যায় প্রবীণদের প্রতি অবজ্ঞা কি হারে বাড়ছে। আধুনিক এই যুগে এসে এ অবস্থা কমার কথা ছিল কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য প্রবীণদের সম্মান দেখানোটা এখন আশংকাজনক হারে কমে গেছে। এ শিক্ষাটা আমাদের পরিবার থেকে শেখার কথা কিন্তু অনেক পরিবারেই এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। বাবা মা তাদের গুরুজনদের সম্মান করবে তা থেকে বাচ্চারা শিখবে। পরিবারেই প্রবীণদের অসম্মান করা দেখতে দেখতে আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। যার কারণে রাস্তাঘাট এমনকি রাজনীতিতেও আমরা প্রবীণদের সম্মান দিতে ভুলে যাই। আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে আমাদের পরিবারকে এক একটি ফুলের বাগান তৈরি করে দিতে পারি তাহলে এ থেকে গোটা সমাজ তথা পুরো রাষ্ট্রই উপকৃত হতে পারে। মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বাঁশগাড়ী, নারচী, সারিয়াকান্দী, বগুড়া ইতোমধ্যে সমাজের অনেক কিছুতেই অসংগতি দেখা দিয়েছে। প্রবীণদের প্রতি উপেক্ষা, সব অসংগতিকে ছাড়িয়ে মানবেতর এক করুণ দৃশ্যের বাতাবরণ সৃষ্টি হয়েছে। মিহি সুতোয় বাঁধা পরিবারের সেই সোহাগী আদর ভালবাসাও ধীরে ধীরে তিরহিত হচ্ছে। নাতির প্রতি দাদু’র শ্যালক সম্ভাষণে আদর সোহাগের মধুময় অনুরণন সৃষ্টি হয় না। বৌমা’ও এই সম্মোধন পছন্দ করেন না। ইট-কাঠ পাথরের পরিবেশ অতীতের সবকিছুই লণ্ডভণ্ড করে দিচ্ছে। “বন্যেরা এখন চিড়িয়া খানায়, শিশুরা বুয়ার কোলে” এই উদ্ভট সমাজ যাত্রার সর্বশেষ বলি এখন পরিবারের প্রবীণরা। শ্রদ্ধাবোধ হারিয়েছে, হারিয়েছে প্রবীণদের প্রতি কর্তব্যবোধও। তাই আমরা এক চিমটে পরিবার নিয়ে থাকতে বড্ড বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। তন্ময় হয়ে শিশু সন্তানটি টিভি’র পর্দায় দৃষ্টি বিনিময় করছে, বাবা বললো “তোমার দাদু মারা গেছে” চোখ না ফিরিয়েই সন্তানটি বলছে, দাদুকে কি গুলি করলো? এই হলো আমাদের প্রবীণদের প্রতি তাছিল্লের দৃষ্টি ভঙ্গি। সব কিছুতেই আমরা মেকি হয়ে যাচ্ছি। স্ত্রী-সন্তানদের খুশি করতে গিয়ে, গর্ভধারিণী মা’কে বিসর্জন দিচ্ছি, বাবাকে করছি পর। আর সুবচন তো আগেই বিদায় নিয়েছে। ধর্মীয় অনুশীলন এখন বয়সের এক বিশেষ সময়ের জন্য বরাদ্দ রেখেছি বিধায়, বাবা-মা’র প্রতি দায়িত্ব কর্তব্য ও হকের প্রতি খেয়াল রাখি না। অথচ “আল্লাহপাক তাঁর বন্দেগী, আর পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছেন” সুরা বনী ইসরাইলে। হাদিসে বলা হয়েছে, “ পিতা-মাতার প্রতি সদ্ব্যবহার করা, সাধ্যমত তাঁদের খেদমত করা, নামাজ-রোজা, হজ্ব-ওমরা জিহাদ প্রভৃতি ইবাদত অপেক্ষা উত্তম (মুসলিম)। অথচ হেলায়, অবহেলার মাধ্যমে দায়িত্ব শেষ করছি। যার জন্য অতি আদরে গড়া সংসার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে, প্রবীণরা শেষাবধি বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিচ্ছে। অনেকেই হয়তো এই সুযোগটাও পাচ্ছেন না। লাঞ্ছনা,গঞ্জনার মধ্য দিয়ে পরপারে চলে যাচ্ছেন। মানুষের মনুষ্যত্ববোধের অপমৃত্যু দেখে, এক পশু, আর এক পশুকে “মানুষ” বলে গালি দিচ্ছে। অতীতের নবীনরা বর্তমানেরই “প্রবীণ”। তাদের প্রতি সামান্যতম করুণার দৃষ্টিতেও তাকায় না। হায়রে মা’দিবস, হায়রে বাবা’ দিবস, তুমি শুধু বছরান্তে বিশেষ দিবসে একচিলতে ভন্ডামি নিয়ে উদয় হও। মুরাদ হোসেন মধুখালী, ঝিকর গাছা, যশোর প্রবীণদের প্রতি উপেক্ষার হার বর্তমানে বাংলাদেশে বিশ্বের যে কোন দেশের হার থেকে নানাবিধ কারণে সর্বাধিক বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করছেন। তম্মধ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক দৈন্যতাই অন্যতম কারণ বলে অনেকেই মনে করেন। উন্নত বিশ্বে প্রাপ্ত বয়স্ক থেকে শুরু করে সকল নাগরিকের মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিত্সা ও বাসস্থান) পূরণের দায়িত্ব আমৃত্যু কল্যাণমুখি সংশ্লিষ্ট সরকার ও রাষ্ট্রই বহন করে থাকে। উপরন্তু সিনিয়র সিটিজেনখ্যাত (প্রবীণ) নাগরিকদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্মলিত প্রবীণ নিবাস সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু আমাদের দেশে প্রবীণদের দায়-দায়িত্ব্ব নেয়া তো দূরের কথা বরং শিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার যুবক শ্রেণির দায়িত্ব্ব নিতেও সরকার অনেকাংশে অপারগ। ফলে আর্থ-সামাজিক অবস্থা খুবই সঙ্গিন পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। এই সঙ্গিনতা কাটিয়ে তুলতে রাষ্ট্রের সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট পরিবার, বিত্তবান শ্রেণি এবং সরকারি-বেসরকারি এনজিওসহ সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের দেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রবীণদের দুঃখ-দুর্দশা শুরু হয় তাদেরই পরবর্তী জেনারেশনের উপার্জনক্ষম সন্তান-সন্ততি কিংবা নির্ভরশীল যুবকের বিবাহ পরবর্তী আখ্যান ভাগ থেকে। ভিন্ন বা অপরিচিত কিংবা পরিচিত পরিবেশ থেকে আগত বধূবেশে গৃহিণীদের অনেকেই নিজ নিজ ভবিষ্যত্ চিন্তায় বিভোর হয়ে প্রবীণদের (শ্বশুর, শাশুড়ি, নির্ভরশীল বয়োজ্যেষ্ঠ) অবহেলা এবং ক্ষেত্র বিশেষে আর্থিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। গীতিকার নচিকেতার বর্ণিত গানের কলিতে“ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার। নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী, সবচেয়ে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি। ছেলের আমার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম, আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম” তা সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। অথচ উক্ত বধূ বা গৃহিণী একবারও ভেবে দেখেন না যে, ঐ প্রবীণরাই কিন্তু তার এই উপার্জনক্ষম স্বামী বা সাথীকে নিজের শ্রম, ঘাম, রক্ত ও অর্থের বিনিময়ে চরম আত্মত্যাগ স্বীকার করে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন। এই উপার্জনক্ষম যুবকদের অনেকে নিজেরাও একবার পিছন ফিরে তাকাতে চান না বলে প্রবীণদের বিড়ম্বনা উত্তরোক্তর বেড়েই চলছে। তাই সময় এসেছে প্রবীণদের যথোপযুক্ত সম্মান দেখিয়ে কবির ভাষায় আমাদেরকে বলতে হবে, “দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর”। ভুঁইয়া কিসলু বেগমগঞ্জ ৫-বিসিসি রোড, নবাবপুর, ওয়ারী, ঢাকা-১২০৩ অগ্রসর হচ্ছি, আজ অনেক প্রবীণরা অসহায়,উপেক্ষিত নিজ পরিবারেই, এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রেখে আরো এক ধাপ অগ্রসর হয়ে হয়ত একদিন প্রবীণরা আরো নিষ্ঠুর সময়ের মধ্যে দিয়ে জীবনকে দেখতে পাবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কেহ যদি নিজেকে না দেখে, রবীন্দ্রনাথকে দেখে, তাহলে বুঝতে হবে তার মস্তিষ্কের সমস্যা চলছে/আমাদের ছবিই আমাদের আয়নায় দেখা যাবে.......!!!! নীতি-নৈতিকতাহীন শিক্ষা আজ আমাদের শিখিয়েছে প্রবীণদের অপ্রয়োজনীয় ভাবতে; জানি না এই শিক্ষা আমাদের আরো কত কি দেখাবে? আমিরুল হক রিবন যৌথ পরিবার ভেঙ্গে পড়া, মানুষের অর্থনৈতিক উন্নতির সাথে সাথে মানবিক উন্নতির অনুপস্থিতি। পারিবারিক ব্যবস্থার সহিত বসবাসের সক্ষমতা হ্রাস। আবদুল জলিল, ৭৭, মৌলভীবাজার, ঢাকা প্রবীণ জনগোষ্ঠীরা সত্যি আজ নানাভাবে উপেক্ষিত। এজন্য আমাদের করণীয় অনেক। প্রবীণেরা পরিবারের মধ্যে থেকে অনেকে একা। তাদের সঙ্গ ছাড়া জীবন যেন সত্যি শূন্যতা বিরাজ করে। তাই আমাদের কথা হচ্ছে, আমরা যারা আজ নবীন এই প্রবীণদের মর্যাদা ও সম্মান দেখানো, তাদের প্রতি কোন রকম কটূক্তি আচরণ করা ঠিক নয়। মনে রাখতে হবে আমরা একদিন প্রবীণ হবো, এটাকে মনে ধারণ করেই চলা দরকার। তুষার, আরমানিটোলা, ঢাকা শিশু ও কিশোর বয়সে সন্তান-সন্ততিদের সততা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় শিক্ষা দানের ঘাটতি থেকেই বর্তমানে প্রবীণদের এমন অবস্থা। প্রবীণ নাগরিকদের মৌলিক প্রয়োজন মিটানোর দায়িত্ব অবশ্যই রাষ্ট্রের। এমন পরিস্থিতি নিরসনকল্পে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে উপযুক্ত শিক্ষায় ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। মো. ফকরুল ইসলাম টিপু সেনবাগ, নোয়াখালী প্রবীণদের আত্মীয়-স্বজন থাকার পরও সুযোগ-সুবিধা থেকে উপেক্ষিত হচ্ছেন। তাই তো তারা প্রবীণতার যন্ত্রণায় কাতর হয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন কোন না কোন হিতৈশী ব্যক্তির বৃদ্ধাশ্রমে। সেখানে প্রবীণরা ভাল থাকলেও মনের যন্ত্রণায় লাঘব হয় না। প্রবীণরা তো অন্য কারো নয়, আমাদের পরিবারই সদস্য। তাই প্রবীণদের অবহেলা করা ঠিক নয়। প্রবীণদের সম্মান দেখালে আগামীতে সম্মান পাওয়া যাবে। আসুন আমরা প্রবীণদের সহায়তার হাত বাড়াই। ফারুক আহমেদ, বাঘমারা, রাজশাহী বাংলাদেশে এমন কোন পরিবার নেই, যে পরিবারে প্রবীণরা শুধুমাত্র উপেক্ষিতই নয় বরং চরম অসহায় এবং অবহেলিত। অসহায় আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা প্রবীণদের বাস্তব চিত্র তাই প্রমাণ করে। সবচেয়ে করুণ বিষয়টি হচ্ছে হতদরিদ্র থেকে ধনাঢ্য প্রবীণদের এই উপেক্ষা অসহায় অবহেলিত ঘটনার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। এর নিরসনের জন্য এখন পর্যন্ত সামাজিক কোন ব্যবস্থা শক্তভাবে গড়ে ওঠেনি। অন্যদেশে প্রবীণদের জন্য জীবন-যাপনের অনেক সুখময় আনন্দদায়ক নিশ্চিত করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এটা সত্য যে, আমাদের দেশে প্রবীণদের জীবন দারুণ কষ্ট ও বেদনাদায়ক। এই অসহায়তার মাত্রা দিন দিন সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এখন পিতা-মাতা সন্তানের কাছে নিগৃহীত এবং বুঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ যুগের সন্তানরা এখন পিতা-মাতাকে শুধু উপেক্ষাই করে না, মারপিটসহ হত্যাকাণ্ডের মতো অপরাধ ঘটিয়ে যাচ্ছে। প্রবীণদের অবহেলার বিষয়টি মানবাধিকার লংঘনের মতো অপরাধ। জাতীয়ভাবে প্রবীণদের অধিকার সংরক্ষণ করা আবশ্যক। যাতে প্রবীণরা নিগৃহীতের মতো নয়, একজন মানুষ হিসাবে বেঁচে থাকতে পারে। শাহ মো. হেলালউদ্দিন হিরু কালিহাতী, টাঙ্গাইল বর্তমান ডিজিটাল যুগে কথাটি সত্য ও বেদনাদায়ক। আগেও কমবেশি প্রবীণরা সমাজ ও পরিবারে উপেক্ষিত হয়েছে। অসহায়ত্বে ভুগেছে। আধুনিক এবং শিক্ষিত সমাজের এই যুগে না কমে বরং বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মূল কারণ হয়তো সত্ বা অসত্ পথে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মানুষ নিজেকে ব্যস্ত রাখতে কিংবা যৌথ পরিবার ভেঙ্গে যাবার কারণে। যৌথ পরিবার সাধারণত ভাঙ্গে শাশুড়ি, বধূ আর ননদের আপন আপন স্বার্থ আছে যেখানে। তবে আজকে যে নবীন তাকে ভাবতে হবে একদিন সেও হবে প্রবীণ। পরিশেষে বলবো, প্রবীণদের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে এবং তারা উপেক্ষিত হচ্ছে, অসহায়তায় ভুগছে। শেষে মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি কি আশীর্বাদ না হয়ে ভবিষ্যতে অভিশাপ হয়ে দেখা দিবে না তো। মোহাম্মদ লুত্ফর রহমান এলিফেন্ট রোড, ঢাকা বর্তমানে প্রবীণদের প্রতি উপেক্ষা বাড়ছে। এ বিষয়টি লক্ষ্যণীয়। তবে এর একটি পটভূমিও রয়েছে। আগের যুগের পরিবার পরিকল্পনার তেমন প্রসার ঘটেনি বলে মায়েরা ঘন ঘন সন্তান জন্ম দিয়েছে এবং বাবারা স্বল্প আয় দিয়ে সংসার চালিয়েছে তাই বাবা-মারা সন্তানের ভালমন্দের দিকে তেমন নজর দিতে পারেননি। ফলে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা বঞ্চিত পরিবারগুলোর সন্তানদের মধ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী আক্ষেপ বিরাজ করছে। যা তাদের বাবা-মার প্রতি উদাসীন রেখেছে। আবার অনেক বাবা-মায়ের সন্তান স্নেহে অন্ধ হয়ে সব ঠেলে দিয়েছেন নিজের শেষ জীবনের জন্য কিছু না রেখে। তাই দুই শ্রেণীর প্রবীণরা আজ উপেক্ষিত। এ ছাড়া সমাজে ইদুর দৌড় বেড়ে যাওয়ায় পেছন দিয়ে তাকাবার সময় কারো নেই। তাই আজকে যারা নবীন তাদের প্রবীণদেরকে দেখে শিক্ষা নেয়া উচিত এবং তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। সেলিনা রাহাতআরা হাউস-৫, রোড-১২৬, গুলশান-১ প্রবীণদের প্রতি আশি পার্সেন্ট লোকই অবহেলার চোখে দেখে। যার কারণে তারা দিন দিন উপেক্ষিতই হচ্ছে। সার্জেন্ট মো. শফিউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট, মানিকদি আগে প্রবীণরা যৌথ পরিবারের কাছ থেকে সেবা ও সহায়তার মধ্যে তাদের শেষ জীবনটা সুখে কাটাতেন। কিন্তু বর্তমানে সে অবস্থা আর নেই। কিন্তু উন্নত দেশে লোকেরা প্রবীণ বয়সকে সূচনা হিসাবে ধরে। সুতরাং প্রবীণ সম্পর্কে তথ্যবহুল লেখা বা সকল পর্যায়ের শিক্ষা পাঠ্যক্রমে বার্ধক্য ও প্রবীণ সেবা বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। সানজিদা আক্তার শিলা, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া আমাদের সবার ইচ্ছে হোক—জীবনের শেষে এসে প্রবীণরা আমাদের সবার মাঝেই থাকুক। এখানে সবার আনন্দ-বেদনার সাথী হয়ে তাদের শেষ আশা পূরণ করুক। নার্গিস, নতুন পল্টন লাইন, ঢাকা দেশে প্রবীণদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও তাদের অবহেলা অনেক রয়েছে। তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আজ তাদের অধিকার নিয়ে নীতিমালা দরকার ও তা বাস্তবায়ন করা একান্ত প্রয়োজন। দেশের জ্যেষ্ঠ নাগরিক হিসাবে স্বীকৃতি ও তাদের সুরক্ষা বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। শহীদুল ইসলাম (রয়েল) নিশিন্দারা, মধ্যপাড়া, বগুড়া আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস ২০১৩’র এবারের শ্লোগান ছিল “প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার বিষয়ে জাতিসংঘ কনভেনশনের জন্য রাষ্ট্রীয় সমর্থন”। নানা কারণে আজ প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে না। নারী ও পুরুষ উভয়েই বৃদ্ধ বয়সে নানা কারণে বঞ্চিত ও নিপীড়িত হন। তাই প্রবীণ বিষয়ক জাতীয় অনুমোদন ও তা বাস্তবায়ন করতে হবে। পারভীন সুলতানা, মালিবাগ, ঢাকা প্রবীণদের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রবীণদের যদি আমরা এভাবে বঞ্চিত করে যেতে থাকি তাহলে সমাজই একদিন দরিদ্র হয়ে পড়বে। মাসুদ আলম , উর্দু রোড, লালবাগ, ঢাকা পৃথিবীতে দ্রুত প্রবীণের সংখ্যা বাড়ছে। প্রবীণদের প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য হ্রাস ও তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিধান করা পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে একান্ত জরুরি। সোহাগ ভাগলপুর লেন, নবাবগঞ্জ, ঢাকা কবি বলেছেন “মরিতে চাহি না আমি এই সুন্দর ভূবনে”। তা বেঁচে থাকলে আমাদের সবাইকে বার্ধক্যের স্বাদ নিতে হবে। সুতরাং নিজেদের বার্ধক্যের প্রস্তুতি গ্রহণ এবং সম্মানিত প্রবীণদের কল্যাণ বিধানে সকলকে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। শিশির, আজিমপুর, ঢাকা আমাদের সমাজে অনেক পরিবারে ঐ প্রবীণ মানুষটি যখন ৬০-৭০ বা ৮০’র কোঠায় তখন অনেকে বোঝা মনে করে। অথচ তার আর্থিক সামর্থ্য থাকার পরেও ঐ বৃদ্ধ মানুষটিকে রেখে আসেন বৃদ্ধ নিবাসে। অনেক কষ্ট প্রবীণদের। দেখার কেউ থাকে না। আমরা আশা করবো এ নিয়মগুলো দূর করে আমাদের মন-মানসিকতাকে আরো দৃঢ় ও বড় করি। আইরিন সুলতানা সন্জু ধুপপুর, মাইজপাড়া, চট্টগ্রাম জীবনের শেষলগ্নে এসে আত্মীয়-স্বজন কেউ থাকে না তাদের সংগে। প্রবীণদের তখন শেষ ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম। সঙ্গে শুধু তাদের দীর্ঘশ্ব্বাস। ফারুক আলম মালিবাগ, ঢাকা প্রবীণের অবদান যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের অধিকার সুরক্ষা যে কতটা জরুরি সে বিষয়টি সরকারকে বুঝতে হবে। যদিও সরকার বিগত ২ বছর যাবত্ বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় হেল্প এইজ নেটওয়ার্কের সাথে যৌথভাবে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপন করছে। মো. মেজবাহ উদ্দিন সেলিম শেওড়াপাড়া, মিরপুর, ঢাকা