অদম্য তারুণ্য
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০১৩, ২০:৫৭
দার্শনিক ও মনীষীব্যক্তিগণ বলিয়া থাকেন যে, কি ইহজাগতিক কি পারলৌকিক উভয় ক্ষেত্রেই সাফল্যের চাবিকাঠি হইতেছে ইচ্ছা ও বিশ্বাস। পারলৌকিক ক্ষেত্রে সাফল্য বলিতে যাহা বোঝায় উহা নানান ধর্মমতে এবং এই বিষয়ক ব্যাপক ব্যাখ্যা বিশ্লেষণের মধ্যে ছড়াইয়া ছিটাইয়া রহিয়াছে। তবে ইহজাগতিক সাফল্যের ক্ষেত্রে যে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর আত্মবিশ্বাসেরই প্রধান ভূমিকা রহিয়াছে উহার ভুরি ভুরি নজির খুঁজিয়া পাওয়া দুষ্কর নহে। ইহজগতে সাফল্য বলিতে যাহা বোঝায় উহা দৃশ্যমান বিধায় সেই সাফল্য অর্জনকল্পে কি পন্থা অবলম্বন করা উচিত উহার নানান নিদর্শনই আমাদের চারিপাশে বিদ্যমান। গত রবিবার দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত ‘১১ তরুণের চেষ্টায় পাম চাষিদের দুঃখ ঘুচেছে’ শীর্ষক খবরটিতে আত্মবিশ্বাস এবং সদিচ্ছা কিরূপে সাফল্য বহিয়া আনে উহারই উত্কৃষ্ট উদাহরণ তুলিয়া ধরা হইয়াছে। মেহেরপুরে পামচাষ চাষিদের জন্য গলার ফাঁস হইয়া দেখা দিয়াছিল। পামচাষ করিতে গিয়া তখন অনেককেই সর্বস্বান্ত হইবার উপক্রম হইতে হইয়াছে। কিন্তু গুটিকয় তরুণ এইক্ষেত্রে একত্রে সদিচ্ছা ও আত্মপ্রত্যয়ের উপর ভর করিয়া আগাইয়া আসায় সেইখানে পামচাষ লাভজনক বিষয়ে পরিণত হইয়াছে। এই ঘটনার মধ্যদিয়া বাংলাদেশের তরুণদের দৃঢ় প্রত্যয়বোধ ও নিজেদেরকে স্বাবলম্বী করিয়া তোলার সদিচ্ছারই প্রকাশ ঘটিতে দেখা যায়। ইহা যে শুধু মেহেরপুরের পামচাষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য তাহা নহে, বরং দেশের সর্বত্রই তরুণদের এইরূপ মেধা-মনন ও অদম্য ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তরুণ উদ্যোক্তাদের ভূমিকা সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ। উদ্যোক্তা তৈরি না হইলে দেশের অর্থনৈতিক বিকাশ ত্বরান্বিত হইতে পারে না। শুধুমাত্র সরকারের মুখাপেক্ষী হইয়া শিল্প-কারখানা গড়িয়া তোলা বা কোন প্রকার শিল্পোদ্যোগ গ্রহণ করা সমীচীন যেমন নহে তেমনি সরকারের একার পক্ষেও সকল ভার বহনও সম্ভব নহে।
এইক্ষেত্রে তাই নবীন ও নিষ্ঠাবান তরুণ উদ্যোক্তাদের আগাইয়া আসাটা অত্যন্ত জরুরি।
বাংলাদেশের তরুণেরা দেশে-বিদেশে তাহাদের মেধার স্বাক্ষর রাখিতেছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করিয়া দেশকেও গৌরবান্বিত করিতেছে। নানান প্রতিকূল পরিবেশকে অদম্য সাহস ও দৃঢ়বিশ্বাসের বলে অতিক্রম করিয়া সাফল্যকে ছিনাইয়া আনাই সত্যিকারের উদ্যোক্তার পরিচায়ক। আমাদের তরুণদের মধ্যে এই শক্তি ও মনোবলের কোন অভাব নাই। তবে নানান স্বার্থান্ধ গোষ্ঠীর যূপকাষ্ঠে অধিকাংশ সময়ই এই বিপুল সম্ভাবনাময় তরুণদের মনোবল ভাঙ্গিয়া পড়ে। ফলে বহু মহতী প্রতিভার অকাল বিনষ্টিই দেখিতে পাওয়া যায়। একটি দেশের অমূল্য সম্পদ তাহার মেধাবী তরুণ জনগোষ্ঠী। ইহাদেরকে স্বাধীনভাবে ও বাধাবিঘ্নহীন পরিবেশে মেধামননের চর্চা করিবার সুযোগ দিলে এই দেশ পিছাইয়া থাকিবে না। কেননা, আমাদের তরুণেরা মেধাবীই শুধু নহে, তাহারা পরিশ্রমী, নিষ্ঠাবান, আন্তরিক এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্লোভ ও নিরহংকারী। বিশ্বের যে সকল দেশে আমাদের তরুণেরা কাজকর্মে নিয়োজিত রহিয়াছে তাহারা এইসব ব্যাপারে প্রভূত সুনামের সহিতই কাজ করিয়া চলিয়াছে।
তরুণ সম্প্রদায়কে কোন প্রকার হঠকারী ও বিভ্রান্তসূচক পন্থা অবলম্বনে যাহারা উত্সাহ যোগায় তাহারা প্রকৃত প্রস্তাবে দেশ ও জাতির দুশমন। আমাদের দেশে ব্যক্তি ও গোষ্ঠী স্বার্থে তারুণ্যের শক্তির অপপ্রয়োগ ঘটাইয়া অনেকেই বিত্তবৈভব গড়িয়া তোলে আর ইহার ফলে দেশ পিছাইয়া পড়ে বৈকি। তারুণ্য শক্তির উদ্বোধন যেইদিন সত্যিকার অর্থে সমাজে ঘটিবে সেইদিন এই দেশের নব উত্থান কেহই ঠেকাইয়া রাখিতে পারিবে না। এই সত্যোপলব্ধি আমাদের মাঝে যত শীঘ্র উদয় হয় ততই মঙ্গল।