সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০১৩, ২২:০০
সমঝোতা না হলেও ওয়ান ইলেভেন কারো কাম্য নয়
সুষ্ঠু রাজনীতির মাধ্যমে দেশ পরিচালিত করতে একটি আদর্শ দেশের সরকার ও বিরোধী দলের উচিত নির্বাচনের পূর্বে সমঝোতায় আসা। সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের পর থেকেই দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিভিন্ন কোন্দল লেগেই আছে। নির্বাচন পূর্ব মৌসুমে এই অসমঝোতা দেশের ১৬ কোটি মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। আগামী ১০ম সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে উপরমহলের থিওরেটিক্যাল গবেষণা শুরু হয়েছে। ১/১১ সম্পর্কে দেশের সকল শ্রেণির মানুষের তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে। যারা দেশের জন্য সত্যিকারার্থে কাজ করতে ইচ্ছুক তারা কেউ চাইবে না আবার ১/১১-এর আবির্ভাব ঘটুক। নির্বাচন দলীয় সরকার নাকি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হবে তা নিয়ে দেশের গণমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সরকার কি পারে না তত্ত্বাবধায়ক মেনে নিয়ে নির্বাচনে যেতে? বিরোধী দলও কি পারে না উন্নত দেশের মত তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচনে যেতে? যারা আজ রাজনৈতিক অঙ্গনে ক্ষমতার স্বার্থে মঞ্চস্থ করছে বিভিন্ন দর্শনীয় নাটক, তাদের ভুলে গেলে চলবে না যে, সকল নাটকের দর্শক বর্তমান শিক্ষিত জনগণ। জনগণ বিরোধী কোন নাটক মঞ্চস্থ হলে তা কারো হূদয়ঙ্গম হবে না। সুতরাং, দেশের স্বার্থে জনগণের সাথে ১০ম সংসদ নির্বাচন কিভাবে হবে সেটি নিয়ে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া উচিত। ১/১১ কারো কাম্য নয়।
মো. মাসুদুর রহমান,
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ (৪র্থ সেমি.),
স্যার এ.এফ রহমান হল,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
===
সমঝোতাই
আমাদের
কামনা
দেশের শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ভদ্র-অভদ্র, দায়িত্বশীল-দায়িত্বহীন, ছোট-বড় প্রায় সবাই এখন সমঝোতা নিয়েই আলোচনা করছেন। তারা দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের নেত্রীকে পরস্পর মুখোমুখী হয়ে সমঝোতায় ফেরার আহ্বান করছেন। যেন দেশমাতৃকা একটি নিশ্চিত সংঘাতময়— বিপজ্জনক ও অকামনীয় ওয়ান ইলেভেন থেকে রেহাই পায়। আজ দেশের সর্বস্তরের জনগণ এই সমঝোতা কামনা করছে, কারণ তারা দেশকে ভালবাসে। ভালবাসে বলেই আজ তারা সংঘাত চায় না, অশান্তি চায় না, চায় না আবার ‘সেই ওয়ান ইলেভেন!’ ফিরে আসুক—আঘাত হানুক। চায় শুধু সমঝোতা। আর দুই নেত্রীর যদি দেশের প্রতি, জন্মভূমির প্রতি, এদেশের সাধারণ জনগণের প্রতি ভালবাসা থেকে থাকে, তবে তারাও মুখোমুখি হবেন, ফিরিয়ে আনবেন সমঝোতা। এটাই আমাদের কামনা!
মো. জোবায়ের আহমেদ,
টেকেরহাট পপুলার হাইস্কুল এন্ড কলেজ,
শ্রেণি: একাদশ, রাজৈর মাদারীপুর
===
সমাধানের পথ
এখনও খোলা
বর্তমান সময়ের ঘোলাটে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধান দুই দলের রাজনৈতিক অনাস্থা নির্বাচনের ভবিষ্যেক অনিশ্চিত করে তুলেছে। বিএনপির দেয়া ডেডলাইন ২৪ অক্টোবর-এর বিবেচনায় নির্বাচন কেন্দ্রিক ভবিষ্যত্ পরিস্থিতি সংঘাতময় ও সহিংস হবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। দাবি বাস্তবায়নে বিএনপি অবশ্যই আন্দোলন করবে এবং সরকার তা প্রতিহত করতে কর্মসূচি নিবে এবং নিশ্চিতরূপেই সেক্ষেত্রে “ওয়ান ইলেভেন” ঘটবে। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের জন্য উভয় দলই নানা বক্তব্য দিচ্ছে কিন্তু তা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অধিকন্তু সরকার ও বিরোধী দলের অনড় অবস্থান সংঘাত আশঙ্কাই বেগবান করছে। এবং বর্তমান ধোয়াটে পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশ অচিরেই সিরিয়া, মিশর, লিবিয়ার ন্যায় আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পড়বে। এক্ষেত্রে সমঝোতা না হলে সংঘাত অনিবার্য।
কাজী মাহপারা প্রীতম,
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
১ম বর্ষ, ২য় সেমিস্টার,
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
===
সমঝোতাই পারে
১/১১-এর অবসান
ঘটাতে
আমাদের দুর্ভাগ্য হলো, আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের কার্যকলাপ দেখে মনে হয় এরা আমাদের সাধারণ জনগণের জন্য চিন্তা করে না, এরা শুধু চিন্তা করে নিজের স্বার্থের জন্য, নিজের দলের জন্য এবং ক্ষমতায় থাকার জন্য। বর্তমানে দেশ একটি কঠিন অন্ধকারচ্ছন্ন অবস্থার মধ্যে চলছে। দেশের প্রতিটি মানুষ শঙ্কিত যে সামনের দিনগুলোতে কী হবে? কেননা কেউ বলতে পারে না আগামী নির্বাচন কোন পদ্ধতিতে হবে? এক্ষেত্রে সরকারি দল বলছে তারা সংবিধানের বাইরে চুল পরিমাণ নড়বে না, আর বিরোধী দল বলছে তারা তত্ত্বাবধায়ক ছাড়া নির্বাচনে যাবে না এবং নির্বাচন করতে দেবে না। এ অবিশ্বাসের মধ্যে ২০০৬ সালের মতো ১/১১ চলে আসতে পারে এজন্য দেশের প্রতিটি জনগণ শঙ্কিত। সুতরাং দেশকে ১/১১-এর ভয়ানক থাবা থেকে রক্ষা করা এবং গণতন্ত্র চালু রাখার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতাই পারে দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে এবং জনগণের মধ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে।
আ. মজিদ (সাবু),
১ম সেমিস্টার ১ম বর্ষ,
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ,
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়,
রংপুর