সমঝোতা না হলে ওয়ান ইলেভেন (!)

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রীর রুদ্ধদ্বার বৈঠকই সংকট সমাধানের একমাত্র পথ বর্তমান রাজনৈতিক অদ্ভুত ভূতুড়ে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতিতে জনগণকে গণতন্ত্রের গ্যাঁড়াকলে ফেলে ক্ষমতাসীন সরকার ও বিরোধীদল অগ্নিপরীক্ষায় উপস্থিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইচ্ছে করলেই এক মুহূর্তে নির্বাণ করতে পারেন গণতন্ত্রের অগ্নিবিস্ফোরণ। কারণ রাষ্ট্র, জনগণ ও গণতন্ত্রের উপর বিন্দু পরিমাণ বিশ্বাস এবং শ্রদ্ধাবোধ থেকে গণতন্ত্রের নৈতিক মূল্যবোধ ধারণ করে গণভবন লনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী উভয়ে সংকট সমাধানে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বসুন এবং কফি খান। রাষ্ট্রের উন্নয়ন, জনগণের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সৃষ্টি, সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, মানসিক সংকট, নির্বাচন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, অন্তর্বর্তী সরকার ও গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা করুন। নারীর ক্ষমতায়ন, দরিদ্র উচ্ছেদ, সমাজ রাষ্ট্র ও জনগণের ঐক্যের শ্বেতপাথরের ভাস্কর্য বিনির্মাণে পথ দেখান। নিভিয়ে ফেলুন রাজনৈতিক ক্রোধ, হিংসা, হানাহানি, মারামারি, বিশৃংখলতা, সহিংসতা, দাবানলের চোরাবালির আগ্রাসী মনোভাব। মনে রাখবেন গণতন্ত্রের মূল মন্ত্রই হলো সমঝোতা। গণতন্ত্রের বিজয় মুকুট পরে নিজেদের ঊর্ধ্বে তুলে ধরুন সর্বশ্রেষ্ঠ নেতার সর্বশ্রেষ্ঠ গুণাবলি। মো. শফিকুল ইসলাম এমএসএস (ফাইনাল) সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সবার একটাই চাওয়া—বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীনরা চায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, অন্যদিকে প্রধান বিরোধীরা চায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। নেত্রীদ্বয় নিজ নিজ অবস্থানে অটল থাকায় দেখা যাচ্ছে যে, এ জটিলতা নিরসনের জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এবং ঢাকায় অবস্থানরত কূটনৈতিক মিশনের প্রধানরাও সক্রিয়ভাবে সমাধানের পথ খোঁজার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। সবার একটাই চাওয়া— বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করা। এর জন্য প্রয়োজন সংলাপ। সরকারি দলকে এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে । কিন্তু রক্ষকদের মনোভাবে এখন সেটি দেখা যাচ্ছে না । সংলাপ শুরু হলে সমাধান আসবে। মির্জা ফখরুল বিবিসির এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন,“সরকার নীতিগতভাবে একমত হলে বর্তমান সংবিধানের কাঠামোর ভেতরে সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন, সরকারকে কথা বলতে হবে। আব্দুর রহমান ফুয়াদ ৩য় বর্ষ,আরবী বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ জনগণের কল্যাণের জন্য দু’দলের সমঝোতা চাই এ মহাবিশ্বের প্রত্যেক দেশ মায়ের মতো সকল জনগণকে লালন করেছেন। আর যুগে যুগে মানুষ নিজের জন্মভূমি বা দেশকে ভালোবেসে মানুষের কল্যাণে কাজ করে অমর হয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও হবেন, এখানে কোনো সন্দেহ নেই। আমরা জানি, নারীরা হলো মায়ের জাত। আমাদের বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল হচ্ছে নারীদের হাতে। নারীরা অর্থাত্ মায়েরা দেশ চালাবেন শাসন এবং সোহাগের মাধ্যমে। কিন্তু বর্তমানে তা দেখি উল্টোপথে। যে রাষ্ট্রের স্বপ্ন বেগম রোকেয়া দেখছিলেন ‘সুলতানার স্বপ্ন’-এ, সে স্বপ্নের বাস্তব প্রয়োগের ক্ষমতা এখন নারীদের হাতে। তাঁরা এ ক্ষমতাকে কাজে না লাগিয়ে অপব্যবহার করেছেন। সুলতানাদের স্বপ্নে রানির দরদে রাজ্যের গ্লানি মুছে যাবে কিন্তু তা-না। অতএব, বর্তমানে যে রাজনৈতিক সংকট বিরাজ করছে তার জন্য সরকারি এবং বিরোধী দলের দুই নেত্রীই দায়ী। তাঁদের উচিত মায়ের চোখে দেশটাকে ভালোবাসা এবং দেশের জনগণের জন্য কাজ করা। আর জনগণের কথা বিবেচনা করে এবং আগামী নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে অবশ্য অবশ্যই দু’দলের মধ্যে সমঝোতা অচিরেই হওয়া উচিত। তা না হলে তৃতীয় শক্তির উত্থান ও ১/১১’র মত কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে তাহলে গণতন্ত্র আবারও হুমকির মুখে পড়বে। যা সাধারণ জনগণের জন্য স্বপ্নের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে কোনকালেও সম্ভব হবে না। খাজা মাহদী ফটো সাংবাদিক (DUPS) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কোনো দলই ছাড় দিতে চাইবে না বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থা এমন আগামীতে ওয়ান ইলেভেন হোক আর না হোক একটা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে সেটা নিশ্চিত। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল চাইবে না ক্ষমতা ছাড়তে। কারণ তারা বিএনপি-জামায়ার নেতাদের যুদ্ধাপরাধের দায়ে বিচার করছে। আর তাই তারা নিজেদের ভবিষ্যত্ পরিস্থিতি বিবেচনা করেই ছাড় দেয়ার প্রশ্নে আসবে না। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত তাদের নেতাদের মুক্তির জন্য ক্ষমতায় আসার প্রাণপণ চেষ্টা চালাবে। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া নির্বাচনে আসবে বলে মনে হয় না। তত্ত্বাবধাযক সরকার ছাড়া তারা নির্বাচন মেনে নেবে তারও সম্ভাবনা নেই। সমঝোতার প্রশ্নে দু’দল যদি ছাড় দেয়ার মানসিকতা নিয়ে আলোচনায় বসতে পারে তাহলে হয়তো ইতিবাচক ফল পাওয়া যেতে পারে। অন্যথায় সংঘাত অনিবার্য। প্রদীপ দাস বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ইচ্ছুক