প্রশাসনের কি ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হওয়া উচিত
প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০১৩, ২১:৪১
প্রশাসনে দলীয়করণ দেশের জন্য অশনি সংকেত
প্রশাসনকে সরকারের আজ্ঞাবহ হওয়া উচিত নয়। কারণ প্রশাসন যদি দলীয়করণ করা হয় তাহলে জনগণের স্বার্থ উপেক্ষিত হবে। প্রশাসন হলো জনগণের সেবক। সকল প্রকার দলীয়করণের ঊর্ধ্বে এসে সত্, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক যোগ্য নাগরিককে প্রশাসনে নিয়োগ দিতে হবে। যদি সত্ দক্ষ নিয়োগ দেয়া যায় তাহলে দেশ যেমন সামনের দিকে এগিয়ে যাবে তেমনি কোন প্রকার দুর্নীতি ও অনিয়ম হবে না। নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের যারা বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরত আছেন। তাদের মনে রাখতে হবে জনগণের মৌলিক অধিকারকে রক্ষা করার জন্য সংবিধান নিয়োগ দিয়েছে। আমি প্রত্যেক দলকে বলব, যারা যে সময় ক্ষমতায় আসেন তারা এসে যাতে কোন প্রকার দলীয়করণ করার চেষ্টা না করে এবং তাদেরকে কাজ করার পূর্ণ স্বাধীনতা দেয়া হয় এবং তাঁরা যাতে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে জনগণের স্বার্থে।
আবদুর নাঈম
ইংরেজী বিভাগ,
ঢাকা কলেজ, অনার্স ৩য় বর্ষ
দক্ষিণায়ন হল, ৩০৩ রুম
০০০০০
প্রশাসন ক্ষমতাসীনদের দলীয় আজ্ঞাবহের কারণে পিছিয়ে যাচ্ছে দেশ
স্বাধীনতার ৪২ বছর পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনিক ভিত্তিকে সঠিক ও সুন্দর করতে পারেনি আমাদের রাষ্ট্র। আর সে জন্যই আমরা বার বার হোচট খেয়ে যাচ্ছি। আমাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার একটি রেওয়াজ হয়ে পড়েছে তা হচ্ছে সরকার পরিবর্তন হওয়ার সাথে সাথে প্রশাসনিক আমলাদের চামচামি করার হিড়িক লেগে যায়। একটি সরকার যে শেষ সরকার নয় তা আমলারা বেমালুম ভুলে যান। যার ফলে তারা তাদের বিবেককে চামচামিতে বিলিয়ে দেন। ক্ষমতার পালাবদলে সরকার পরিবর্তন হয় বটে কিন্তু দেশ পরিবর্তন হয় না। আমরা এও লক্ষ করেছি সরকার তার দলীয় এজেন্ডাকে বাস্তবায়ন করার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন নিয়োগে দলীয় লোকদেরকে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। যার ফলে আমরা দিন দিন সত্ যোগ্য ও কাংখিত মানের আমলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে প্রশাসনিক কাঠামোর ভিত্তি দিন দিন ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র গভীর খাদের কিনারে হাবুডুবু খাচ্ছে। গণতন্ত্রকে সুরক্ষার প্রয়াসে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দলীয়করণ করা বাদ দিলে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। জাতির প্রত্যাশা পূরণে সবচেয়ে বড় অন্তরায় সরকার ও রাজনীতি। সততার কষ্টিপাথরে উত্তীর্ণ আপসহীন ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন বাহিনী হিসেবে সরকারের আমলারা পরিচিত হতে পারছে না কার অভিষাপে। এটাই জাতির সামনে প্রশ্ন রয়ে গেল। আমরা সরকারের কাছে প্রত্যাশা করছি সরকার নিজের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার পরির্বতে দেশের উন্নয়নের স্বার্থে প্রশাসনে দলীয়করণ বন্ধ করে সুন্দর একটি বাংলাদেশ জাতিকে উপহার দিবে
মো. তোফাজ্জল বিন আমীন
এল এল এম অধ্যায়নরত
(ইউআইটিএস) কাকরাইল ক্যাম্পাস, ঢাকা
০০০০০০০
প্রশাসন প্রভাবিত
হবে না, বরং
নিয়ন্ত্রণ করবে
যদি প্রশ্ন করা হয়, ডাক্তারের নির্দেশ মত রোগী চলবে, না কি রোগীর নির্দেশ মত ডাক্তার চলবে? সহজেই উত্তর আসবে রোগী ডাক্তারের নির্দেশ মত চলাটাই স্বাভাবিক। কোন রোগী যদি ডাক্তারের নির্দেশ না মানে। বরং উল্টো আরও এ বায়না ধরে যে, আমি ডাক্তারকে ফি বাবদ টাকা দিচ্ছি। সুতরাং আমার কথামত ডাক্তারকে চলতে হবে। রোগী ও ডাক্তারের মধ্যকার এই আচরণ যতটা নিয়ম বহির্ভূত। তার চেয়েও অধিক অনিয়ম হল ক্ষমতাসীনদের নির্দেশ মত প্রশাসন চলা। কারণ, প্রশাসন যদি ক্ষমতাসীনদের কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত হয় তবে ক্ষমতাসীনরা বেপরোয়া হয়ে উঠে। যেমনটা আমাদের দেশে হচ্ছে। যারাই ক্ষমতায় আসে তারাই প্রশাসনকে নিজেদের ইচ্ছামত ব্যবহার করে। প্রশাসনের উপর ভর করে ক্ষমতাসীনরা আঙুল ফুলে কলা গাছ হচ্ছে। আর সাধারণ জনতা হচ্ছে বলির পাঠা। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবে। যা আমাদের কারও কাম্য নয়। তাই ক্ষমতাসীনদের মৌসুমের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে প্রশাসনিক যুগের সূচনা করা অপরিহার্য। যেখানে ক্ষমতাসীনরা প্রশাসনের উপর কোন রকম প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। বরং প্রশাসনই ক্ষমতাসীনদের প্রভাবিত করবে এবং নিয়ন্ত্রণ করবে।
মুহাম্মাদ হাবিবুর রহমান
অনার্স শেষ বর্ষ, ইংরেজি বিভাগ
ভোলা সরকারি কলেজ, ভোলা
০০০০০০
প্রশাসন থাকবে দল মত নির্বিশেষে নিরপেক্ষতার প্রতীক রূপে
আজ একটি রাজনৈতিক দল ক্ষমতা গ্রহণ করে। কাল আর একটিকে ক্ষমতাসীন হতে দেখা যায়। নানা কারণে যে কোন সময়ে পরিবর্তন হতে পারে এবং হচ্ছে। সরকারের পরিবর্তন, উত্থান-পতনের মধ্যে প্রশাসনকে নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখতে হয়। প্রশাসনকে হতে হয় ইস্পাতের ন্যায় কঠিন। পাথরের ন্যায় নিশ্চল। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এ দেশে যখনই কোন দল ক্ষমতায় আসে তখনই প্রশাসন আর প্রশাসনের আমলারা হয়ে যান তাদের পোষা কেউ। আমলাদের ভিতর কাজ করে প্রভূত্বের মানসিকতা, লাল ফিতার দৌরাত্ম্য, জিম্মিচর্চা, প্রমোশন, ভাল জায়গায় বদলী, ঘুষ, হয়রানি, স্বার্থসিদ্ধি, স্বজনপ্রীতির ইবাদত বন্দেগী নিয়ে সর্বতা ব্যস্ততা। প্রশাসনের কাজ কর্মের জন্য জবাবদিহিতার প্রয়োজন হয় না। যা গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি স্বরূপ। এর মূল কারণ রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক দল। নেতৃত্বের দুর্বলতায় প্রশাসন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায় যা গণতন্ত্রের জন্য সাপের ছোবলের মতো। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে সে দলের আজ্ঞাবহ পোশাক পরিধান করা প্রশাসনের কাজ নয়। প্রশাসন কোন দলের নয়। প্রশাসন থাকবে দল মত নির্বিশেষে সত্য ন্যায় নিষ্ঠার ধারক বাহক ও নিরপেক্ষতার প্রতীক রূপে।
মো. শফিকুল ইসলাম
এম এস এস (ফাইনাল)
সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়