[ রা জ নী তি ]

প্রধানমন্ত্রী কি চুল পরিমাণ সরে এসেছেন?

অনেকে ধারণা করেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী একটি গতানুগতিক ভাষণ দেবেন—যাতে থাকবে তার সরকারের ইতিবাচক কার্যক্রমের বিবরণ আর ‘সংবিধান অনুযায়ী’ বিরোধী দলের প্রতি জাতীয় নির্বাচনে আসার আহ্বান। শুক্রবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে এসব ছিল বটে, তবে নতুন একটি উপাদান একে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। সেটি হলো, আগামী নির্বাচনকালে দলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বদলে ‘সর্বদলীয়’ সরকার রাখার প্রস্তাব। ওই সরকার তার নেতৃত্বেই গঠিত হবে কিনা, সে বিষয়ে অবশ্য কিছু বলেননি তিনি। বিরোধী দলের দিক থেকে এটিই কিন্তু সবচেয়ে বেশি করে জানবার বিষয়। এ নিবন্ধ লেখার সময় পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামীর প্রতিক্রিয়াই স্পষ্ট করে পাওয়া গেল প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবের বিষয়ে। জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রতিক্রিয়া সম্পূর্ণ নয়। আর খালেদা জিয়া ছাড়া বিএনপির নেতারা কিছু প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, যেখানে তাদের মনোভাব অস্পষ্ট। আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা কিছুটা সময় নিচ্ছেন বলে ধরে নেয়া যায়, খুব নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানাবেন না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে প্রধানমন্ত্রীর সরে যাওয়ার ওপর তারা নতুন করে জোর দেবেন বলেই মনে হচ্ছে। বিএনপি কিন্তু জামায়াতের মতো সনাতনী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণা নিয়ে বসে নেই। তারা এখন চাইছেন ‘নির্দলীয় সরকার’। সেটি সংবিধানের আওতায়ও প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মনে করেন বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকে। তাদের মধ্যে সংবিধান বিশেষজ্ঞও রয়েছেন। এখন কথা হলো, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে এ প্রশ্নে মোটামুটি একমত হতে হবে। তাহলে সংকট নিরসনে অগ্রগতি হবে দ্রুতই। জনগণ এটা খুব করে চাইছে প্রথমত রাজপথে সংঘাত এড়াতে, দ্বিতীয়ত একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে ভোট দেয়ার জন্য। কে না জানে, ২৫ অক্টোবর সামনে রেখে এরই মধ্যে একটা গভীর উত্কণ্ঠা বিরাজ করছে জনমনে। মাঝে বিএনপির এক সিনিয়র নেতার দায়িত্বহীন বক্তব্যে উত্কণ্ঠা আরও বেড়েছে। বিএনপির উচিত ছিল এ বক্তব্য দলের নয় বলে বিষয়টি স্পষ্ট করা। নাকি তারা চান সরকারের ওপর চাপ হিসেবে একটা ‘টেনশন’ বজায় রাখতে? যাহোক, এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তার গতানুগতিক ভাষণে নতুন উপাদান যুক্ত করে সংলাপের পথ কিছুটা হলেও প্রশস্ত করেছেন। তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এটি স্পষ্ট করে বলেছেন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি। তার বক্তব্যকে অবশ্য সংগঠনটির বক্তব্য বলা যায় না। তাদের মধ্যে ভিন্নমত বা ভিন্ন মাত্রার মত থাকতে পারে। তবে দেশের উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীরা খুশি হবেন সংঘাতের বদলে সত্যি সত্যিই সংলাপ অনুষ্ঠানের পথ সুগম হলে। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে এদেশে সংলাপের অভিজ্ঞতা অবশ্য ভালো নয়। আমাদের মনে আছে, আবদুল মান্নান ভুঁইয়া ও আবদুল জলিলের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার কথা। তারপর কী ঘটেছিল, সেটিও কারও অজানা নয়। তেমন সংলাপের পুনরাবৃত্তি কেউ চাইবে না। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, সংলাপ হলে দু’পক্ষের মহাসচিবসহ তিনজন করে তাতে অংশ নেবেন। সেটিতে যাওয়ার আগে অবশ্য সংলাপের এজেন্ডা স্থির করতে হবে। অনেকে বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। একটি ভাষণে তিনি সবকিছু স্পষ্ট করে দেবেন, এটি কিন্তু আশা করা যায় না। কৌশল হিসেবেও তিনি সবকিছু খোলাসা করবেন না একবারে। আমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, প্রধানমন্ত্রী মাঝে একটু রাগান্বিত হয়েই বলেছিলেন— ‘এক চুলও’ নড়বেন না সংবিধান থেকে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কি তার অবস্থান থেকে এক চুলও সরে এসেছেন শুক্রবার দেয়া ভাষণে? নির্বাচনকালে তার নেতৃত্বে একটি ছোট মন্ত্রিসভা থাকলেও এতে বিরোধী দলীয় এমপিদের ভেতর থেকে একাধিক ব্যক্তিকে নিতে চেয়েছেন। সুস্পষ্টভাবেই তাদের নাম চেয়েছেন তিনি। এখন কথা হলো—তারা কতজন হবেন, কোন্ কোন্ মন্ত্রণালয় পরিচালনা করবেন ইত্যাদি প্রশ্ন রয়ে গেছে। মন্ত্রিসভায় সরকারি ও বিরোধী দলের অনুপাত নিয়েও প্রশ্ন উঠতেই পারে। সংসদে বিরোধী দলের যে উপস্থিতি, সে অনুযায়ী সদস্য নেয়া হলে তাতে কোনো ফায়দা হবে না। সরকার পক্ষ এ নিয়ে গোঁ ধরলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সর্বদলীয় সরকার গঠনের বিষয়টিও ঝুলে যাবে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বিবিসিকে বলেছেন, তারা ওই মন্ত্রিসভায় জামায়াতকে নেয়ার পক্ষপাতী নন। বিএনপি কি ওই দলটিকে রাখার ব্যাপারে গোঁ ধরবে—দেশে এতকিছু হয়ে যাওয়ার পরও? জামায়াতে ইসলামী নামের কোনো দল নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে কিনা, সে প্রশ্নও তো উঠেছে এর মধ্যে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের প্রশ্নেও সমস্যা রয়েছে। শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক ধারায় থাকার বিষয়ে সদিচ্ছা থাকলে অবশ্য কোনো সমস্যাই সমস্যা নয়। শুক্রবারের ভাষণের পর প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীনরা দাবি করতে পারেন, তারা ওই প্রশ্নে একটা সদিচ্ছার পরিচয় দিয়েছেন। আবার বিএনপি বলতে পারে, এ ধরনের সরকার গঠনের ধারণা প্রধানমন্ত্রী ব্যক্ত করেছিলেন আগেই; অর্থাত্ এতে নতুন কিছু নেই। প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে নতুন কিছু রয়েছে কিনা, সেটি কিন্তু দেশের সুশীল সমাজও বিবেচনা করছে। তাদের মধ্যে অনেকেই দেখছি প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব নিয়ে উত্সাহিত। অন্তত এটুকু মনে করছেন যে, ২৫ অক্টোবর সামনে রেখে সংঘাতের যে আশংকা ছিল বা রয়েছে, তা এখন এড়ানো যাবে। তাদের ধারণা, ওই প্রস্তাব ঘিরে সংলাপের একটা বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল সেটা ফুটো করে না দিলেই হয়! তারা আওয়ামী লীগের মতো করে রাজপথ উত্তপ্ত করতে সক্ষম নন বলেও কিন্তু মনে করা হচ্ছে। আর সেটি করতে হলে জামায়াত ও হেফাজতে ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে এগোতে হবে বিএনপিকে। এতে ঝুঁকিও রয়েছে। আন্দোলন তখন বিএনপি নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে নাও থাকতে পারে এবং এর পরিণতিতে দেশে ঘটে যেতে পারে একটি ভিন্নধর্মী পরিবর্তন। ব্যবসা-বাণিজ্যের দিক দিয়ে সম্ভাবনাময় বলে শুধু নয়, বিশেষ ভৌগোলিক অবস্থানে একটি ভিন্নধর্মী মুসলিম দেশ বলেও বাংলাদেশের প্রতি আলাদা দৃষ্টি রয়েছে পশ্চিমাদের। পছন্দ করি আর না করি, যোগ্যতাবলেই বিশ্বে তারা প্রভাবশালী। তারাও চাইছে পুরনো ধরনের সংঘাতের বদলে একটি নতুন ধরনের সমঝোতা হোক বাংলাদেশে। সম্প্রতি আমরা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছি, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের প্রশ্নে ঐকমত্যে পৌঁছার জোর আহ্বান জানিয়েছেন। চীন সাধারণত এমন সক্রিয় ভূমিকায় নামে না নিজ দেশের স্বার্থ না থাকলে। তারা জাতীয়তাবাদী এবং ব্যবসার বিষয়ে টনটনে। মনে রাখতে হবে, ভারতের পাশাপাশি চীন হয়ে উঠেছে আমাদের এক বিরাট বাণিজ্যিক অংশীদার। দেশটি থেকে চামড়াজাত পণ্যসামগ্রী তৈরিসহ নানা ধরনের উত্পাদনমূলক কারবার বাংলাদেশে চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন এসব সম্ভাবনা বাস্তবায়নের জন্যও। এতে উভয় দেশেরই স্বার্থ নিহিত। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেশে কী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তা নিয়ে সবচেয়ে বেশি উত্কণ্ঠায় আছেন ব্যবসায়ীরা। তারাই কিন্তু আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি। স্পষ্টতই তারা নতুন বিনিয়োগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। বিদেশি বিনিয়োগ তো আরও স্পর্শকাতর। এরই মধ্যে দাতাগোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারব না আমরা। সত্যি সত্যিই রাজনৈতিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটলে দীর্ঘমেয়াদী জটিলতায় পড়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। এতে কেউ লাভবান হবে না। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে সংকট উত্তরণে ন্যূনতম উপাদান বা শর্ত থাকলেও সেটি ধরে এগোনোর প্রয়োজনীয়তা রয়েই গেছে। এ নিবন্ধ তৈরির সময় খবর পাওয়া গেল, গোলযোগের আশংকায় আজ (২০ অক্টোবর) সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে রাজধানীতে। আইনবলে সরকার এটা করতেই পারে; তবে ‘অনির্দিষ্টকাল’টা বেশিদিন যেন স্থায়ী না হয়। ২৫ অক্টোবর রাজধানীতে একটি বড় সমাবেশ করতে চাইছে বিএনপি। সরকারের দিক থেকে তাতে বাধা সৃষ্টি করা সঙ্গত হবে না। শান্তিপূর্ণ সমাবেশ অনুষ্ঠানের অধিকার তাদের রয়েছে বৈকি। অবশ্য তাদের স্পষ্টভাবে বলতে হবে যে, সমাবেশটি শান্তিপূর্ণ হবে। প্রধানমন্ত্রী তাঁর অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসার পর তারা সংঘাতের পথে গেলে দলনিরপেক্ষ মানুষ সেটিকে ভালোভাবে নেবে না। তার প্রস্তাব ঘিরে সংলাপে বসে বাকিটা অর্জনে সচেষ্ট হলে জনসাধারণ তাদের প্রশংসাই করবে। বর্তমান মেয়াদে আমরা কিন্তু দেখেছি, কোনো পর্বেই দলটি লাগাতার সংঘাতপূর্ণ কর্মসূচিতে থাকেনি। বার বারই তারা এখান থেকে নিজেদের সরিয়ে এনেছেন। মেয়াদের আগে সরকারের পতন ঘটানোর চিন্তা তারা সচেতনভাবে কখনো করেছে বলে মনে হয় না। এখনও করছে না নিশ্চয়ই। সংবিধান অনুযায়ী ২৫ অক্টোবরের পরও এ সরকার বহাল থাকছে; জাতীয় সংসদ ভেঙে দেয়া না হলে সেটিও থাকছে বহাল। লক্ষণীয় যে, নির্বাচনের দিনক্ষণ ও সংসদ থাকা-না থাকার বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে তিনি কী সুপারিশ দেবেন, তা নিয়েও বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনার কথা প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন তার ভাষণে। মনের মধ্যে যা-ই থাকুক, জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষণে এসবের উল্লেখ করা কিন্তু সামান্য বিষয় নয়। তত্ত্বাবধায়ক থেকে নির্দলীয় এবং নির্দলীয় থেকে সর্বদলীয় সরকারের দিকেই কি তাহলে আমরা এগোচ্ছি জাতীয় নির্বাচনকালে? এটি এখন নির্ভর করছে বিএনপির ওপর। তারা যদি ‘নির্দলীয়’ সরকারের ধারণা আঁকড়ে ধরেই বসে থাকেন, তাহলে সে বিষয়ে আওয়ামী লীগকে একমত হতে হবে। সেদিকে তারা স্পষ্টতই যেতে চান না শেখ হাসিনাকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে রাখতে চান বলে। এখন পর্যন্ত মনে হচ্ছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কোনো নির্বাচনে যেতে প্রস্তুত নয় বিএনপি। ‘মাঠের বিজয়’ নিয়ে নির্বাচনে গেলে বেশি সুবিধা পাবে তারা, এটাই মনে করা হচ্ছে। আবার অনেকেই মনে করেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থাকলেও আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলের বিজয় ঠেকানো যাবে না। তবে আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সর্বদলীয় সরকার সীমিত সময়ের জন্যও ভালোভাবে কাজ করবে কিনা, সে প্রশ্ন রয়েছে। নিকট অতীতেই আমরা দেখেছি রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ কতটা কর্তৃত্বপরায়ণ ছিলেন তার নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার পরিচালনায়। স্বেচ্ছাচারীভাবে তিনি সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন বিএনপির পরামর্শে। সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা এর চেয়ে ভালো কিছু করবেন, এটি বিএনপিকে বিশ্বাস করানো কঠিন। এমনও হতে পারে, তেমন একটি সরকারে যোগদানের কিছুদিন পরই একগাদা অভিযোগ তুলে তাদের সদস্যরা বেরিয়ে এলেন মন্ত্রিসভা থেকে। নির্বাচন থেকেও সরে এলেন তারা। তখন তো দেখা দেবে আরেক সংকট। আমাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, চার উপদেষ্টা একপর্যায়ে পদত্যাগ করেছিলেন ড. ইয়াজউদ্দিন গঠিত সরকারটি থেকে। শেষে সে সরকারটিই বাতিল হয়ে যায়। তারচেয়ে বিএনপি বরং এমন অবস্থানও নিতে পারে যে, সংঘাতময় কর্মসূচিতে না গিয়ে আমরা আপনার অর্থাত্ আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনেই নির্বাচনে যাবে। প্রতিবাদ বা ‘আন্দোলনের অংশ’ হিসেবে এভাবে নির্বাচনে যাওয়ার অভিজ্ঞতা এদেশেও রয়েছে। তাতে সুফল মিলতেও দেখা যায়। এওতো মানতে হবে, যেকোনো সরকারের পক্ষে দুই-তিন দশক আগেকার মতো নির্বাচনে কারচুপি করা এখন আর সম্ভব নয়। তেমন কিছু করে কোনো সরকারের পক্ষে বেশিদিন টিকে থাকাও আমাদের মতো দেশে কঠিন। যাহোক, প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব উড়িয়ে না দিয়ে তা ধরে দ্রুত একটা সংলাপের প্রক্রিয়া শুরু করা গেলেই সবাই বেঁচে যায়। ভালোভাবেই ঈদুল আজহা, দুর্গাপূজা ও প্রবারণা পূর্ণিমা পালন করেছে জাতি। সামনের সময়টাও শান্তিপূর্ণভাবে অতিবাহিত হোক, এটা কে না চাইবে। লেখক :সাংবাদিক Email: hmamun67@gmail.com