প্রশাসনের কি ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হওয়া উচিত

প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে প্রশাসনকে সবসময়ই দল নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্র এবং রাষ্ট্রের জনগণের সেবা করা উচিত। বাংলাদেশের ন্যায় একটি দেশে যত বেশি প্রশাসন যন্ত্র শক্তিশালী হবে, তত বেশি রাষ্ট্রের উন্নয়নে গতিময় ভূমিকা রাখতে পারবে। এজন্যে প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের মধ্যে পেশাদারিত্ব গড়ে তুলতে হবে। তাদেরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্যে ব্যবহার করা মোটেই যুক্তিযুক্ত হবে না। আর এই পেশাদারিত্ব গড়ে তোলার জন্যে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দায়িত্ব রাজনীতিবিদদের। যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকবেন, তারা স্বীয় স্বার্থে প্রশাসনের সাথে সংশ্লিষ্টদের স্তাবকের ভূমিকার ব্যবহার না করে বরং ভাল-মন্দ বুঝে তাদের কাজ করতে দিলে শেষ পর্যন্ত সরকারি দলেরই লাভ হবে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে না দিলে চেইন অব কমান্ড নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের কল্যাণ সাধিত হয় না। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে। নাওয়াজিশ মুহম্মদ আলী বিবিএ, প্রথম সেমিস্টার আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা হবেন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চালিকা শক্তি, এজেন্ডা বাস্তবায়নে নয় বর্তমানে দেশে যে প্রশাসন রয়েছে, তারা অনেকটা দুই ভাগে বিভক্ত। কারণ সিনিয়র প্রশাসনিক কর্মকর্তা ছাড়া জুনিয়ররা কোন কোন রাজনৈতিক দলের অদর্শে অনুপ্রাণিত। কারণ তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সময় কোন কোন দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। (সবাই নয়, তবে বেশির ভাগ) তারা যখন সরকারি চাকরিতে আসেন, তখন কোন দলের সম্পৃক্ততা তাদের ত্যাগ করতে হয়। কিন্তু আদর্শতো ত্যাগ করা সহজ নয়, তাই যে দল যখন ক্ষমতায় আসে, তারা তখন দলের সাথে কোনা কোনভাবে জড়িয়ে পড়েন। আর তখনই যত সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিরোধী মতের হলে তারা কাজ করতে অনেকটা অপারগতা দেখান। আবার যারা চালাক, তারা নিজেদের প্রমোশন ঠিক রাখার জন্য সেই দলের সাথে মিশে যান। কিন্তু প্রশাসনের কাজ এতে কিছুই হয় না। এরজন্য দায়ী যত না আমলাতন্ত্র, তার চেয়ে বেশি দায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর। তারা যদি বলে দেন, যে দল যখন ক্ষমতায় থাকবে, তারা শুধু সরকারের বা ক্ষমতাসীনদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবেন। সরকারের বা ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে তারা যাবেন না। তা হলেই কেবল প্রশাসনিক কাজে গতি আসবে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা হবেন সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চালিকা শক্তি, এজেন্ডা বাস্তবায়নে নয়। তবে তাদের থাকতে হবে সেই মানসিকতা। অরুনদ্যুতি পাল, মাস্টার্স (সমাজ বিজ্ঞান বিভাগ) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কেবল প্রশাসনকে দায়ী করলে চলবে না, সেজন্য ক্ষমতাসীনরাও কম দায়ী নন যে সরকার যখন ক্ষমতায় থাকে, সেই দলের সমর্থক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেয়া হয়, তারা কাজ পারুক আর না পারুক। আর এ কারণেই সকল জটিলতা। অনেক কর্মকর্তা দলীয় ক্যাডারের মত কাজ করেন বলে অভিযোগ শোনা যায়। ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনে কারো নিয়োগ হয় নাই। তারা শুধু সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকবে। তা হলেই কেবল দেশের প্রশাসনে গতি আসবে। কিন্তু তারা যদি ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হন তা হলে কোন কাজই হবে না। তবে এজন্য কেবল প্রশাসনকে দায়ী করলে চলবে না। সেজন্য ক্ষমতাসীনরাও কম দায়ী নন। তারা যদি তাদের দিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করাতে চান তাহলে সমূহ বিপদ। প্রশাসনকে গতিময় করতে হলে তাদেরকে কোন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যেমন জড়িত করা যাবে না, তেমনি ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হলেও চলবে না। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাজ হবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করা। ফারহানা ইয়াসমিন আঁখি সম্মান, দ্বিতীয় বর্ষ (বাংলা) গোরীপুর কলেজ, ময়মনসিংহ এদেশের প্রশাসন নিয়ে সবসময় একটা নেতিবাচক ধারণা সবার মধ্যে বাংলাদেশ শত শহীদের ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন হয়েছে। স্বাধীনতার ৪২ বছর পরেও এদেশের প্রশাসন নিয়ে সবসময় একটা নেতিবাচক ধারণা সবার মধ্যে এর কারণ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কিছু কাজ। তারা যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তাদের সকল কর্মকাণ্ড এজেন্ডা অনুযায়ী বাস্তবায়ন করা। লেজুড় বৃত্তি করা নয়। কিন্তু আওয়ামী লীগ বা বিএনপি বা অন্য রাজনৈতিক দলের সময় এই সমস্ত বড় বড় আমলাদের সরকারের লেজুড় বৃত্তি করতে দেখা যায়। সরকার বদলের পর এরা হন বদলি, ওএসডি বা চাকরিচ্যুত। পত্র পত্রিকাতে এ নিয়ে প্রায়শই বিস্তর লেখালেখি হচ্ছে। কিন্তু এর কোন প্রতিকার দেখা যাচ্ছে না। অনেক আমলাদের ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করতে দেখা যায়। যা মোটেই উচিত নয়। যে সমস্ত বড় বড় আমলারা চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন, তারা এখন এ বিষয়ে লেখালেখি করছেন। কিন্তু এর প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। আমি মনে করি কোন আমলার উচিত হবে না, সরকারের বা ক্ষমতাসীনদের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করা। তাদের উচিত হবে সরকার নির্বাচনের পূর্বে যে সমস্ত কথা বলে ক্ষমতায় এসেছেন, সরকার যদি এসমস্ত উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করতে চায়, তার সহায়তা করা। ক্ষমতাসীনরাতো চাইবেই, তাদের দিয়ে তাদের দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা, কিন্তু প্রশাসনের কর্মকর্তারা যদি তা না বুঝে এজেন্ডা বাস্তবায়নে লেগে যান তার পরিণতি ভালো হয় না। এস এম নোমান তৃতীয় বর্ষ (সম্মান) হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা