প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে স্বাগত জানাই, তবে দুইটি সরকারি সিদ্ধান্তকে নয়
প্রকাশ : ১৯ অক্টোবর ২০১৩, ২২:১১
গত শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে যে টেলি ও বেতার ভাষণ দিয়েছেন তা শান্তিকামী দেশবাসীর কাছে সন্তোষজনক মনে হয়েছে। সকল মহলের কাছেই (বিশেষ বিশেষ মহল ছাড়া) মনে হয়েছে, এই ভাষণে দেশের সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে পজিটিভ বক্তব্য রয়েছে। এক ভাষণেই দেশের সব সমস্যা সমাধান করা যায় না। এখন এই ভাষণকে কেন্দ্র করে প্রধান বিরোধী দলসহ সকল ছোট-বড় দলই যদি আলোচনায় এগিয়ে আসে, তাহলে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে যেসব বিষয় এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে, সেগুলোও আলোচনার মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা যাবে। দা-কুড়াল নিয়ে মাঠে নামতে হবে না। অবশ্য এই দা-কুড়াল নিয়ে যিনি যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি এখন পলাতক।
সর্বদলীয় অন্তর্বর্তীকালীন (পার্লামেন্টে নির্বাচিত সদস্যদের নিয়ে) সরকার গঠনের দ্বারা নির্বাচন তত্ত্বাবধানের যে প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন, তা গণতান্ত্রিক বিশ্বের বিধি-বিধান সম্মত। কোনো কোনো মহল প্রশ্ন তুলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন তাতো শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেননি। আমার প্রশ্ন কেন বলবেন? সংসদে নির্বাচিত সকল দলের সদস্যদের নিয়ে যখন সরকার গঠিত হবে, তখন চলতি সংসদে যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা তিনিই প্রধানমন্ত্রী হবেন এটাইতো গণতান্ত্রিক বিশ্বের রীতি। বাংলাদেশে তার অন্যথা হতে যাবে কেন?
দু’টো উদাহরণ দেই। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের সূচনায় ব্রিটেনে যুদ্ধকালীন কোয়ালিশন সরকার গঠন করা হয়েছিল। তখন পার্লামেন্টে টোরিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ দল। লেবার, লিবারেল সকল দলের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্য থেকে মন্ত্রী নিয়ে সরকার গঠন করা হয়। প্রশ্ন উঠেছিল প্রধানমন্ত্রী কে হবেন? যেহেতু টোরি দল তখন পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল এবং ক্ষমতায় আসীন, সেহেতু টোরি দলের নবনির্বাচিত নেতা স্যার উইনস্টন চার্চিলই কোয়ালিশন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন।
১৯৪৬ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার প্রাক্কালে যখন ব্রিটিশ সরকার ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাথমিক প্রস্তুতি হিসেবে কংগ্রেস, মুসলিম লীগ ও আরো দুই/একটি দল মিলিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ক্ষমতায় বসান, তখনো এই সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হবেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তখন ব্রিটিশ রাজের অধীনে দিল্লিতে একটি কেন্দ্রীয় আইন সভা ছিল বটে, তা তেমন প্রতিনিধিত্বমূলক ছিল না। ফলে বেশিরভাগ অনির্বাচিত এবং দল ছাড়া মনোনীত সদস্যদের নিয়েই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। কংগ্রেস যেহেতু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারতবাসীর রাজনৈতিক দল, সেহেতু সেই দলের মনোনীত নেতা জওয়াহেরলাল নেহেরুই অবিভক্ত ভারতের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হন।
মুসলিম লীগ নেতা জিন্না এই মন্ত্রিসভায় যোগ দেননি। দলের প্রতিনিধি হয়ে যোগ দিয়েছিলেন লিয়াকত আলী খান এবং আরও কয়েকজন নেতা। জিন্না দাবি করেছিলেন এই সরকারে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ পদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, সেই পদটি মুসলিম লীগকে দিতে হবে। ওই পদে বসবেন লিয়াকত আলী খান। কংগ্রেস তাতে রাজি হয়নি। জিন্না দূরদর্শী ছিলেন। তিনি কংগ্রেসের আপত্তি মেনে নেন এবং লিয়াকত আলী হয়েছিলেন নেহেরুর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থমন্ত্রী।
এই দু’টো ঘটনার সঙ্গে আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করতে চাই। ১৯৫৪ সালে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন-জয়ের সময় কেন্দ্রে মুসলিম লীগ সরকার ক্ষমতায় ছিল। গণপরিষদে মুসলিম লীগের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল। বগুড়ার মোহাম্মদ আলী ছিলেন মুসলিম লীগ দলীয় প্রধানমন্ত্রী। কিছুদিন পর বড়লাট গোলাম মোহাম্মদ গণপরিষদ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ভেঙে দেন। কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের জন্য বগুড়ার মোহাম্মদ আলীকে প্রধানমন্ত্রী পদে রেখে একটি সরকার গঠন করেন। এই সরকারে কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রীর পদে যোগ দেন আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ সোহরাওয়ার্দী।
বগুড়ার মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় সোহ্রাওয়ার্দী যোগদান করায় আওয়ামী লীগ সার্কেলে এবং তার অনুরাগীদের একটা অংশের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। শহীদ সোহরাওয়ার্দী কিভাবে মুসলিম লীগের নেতা বগুড়ার মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রিসভায় তার অধীনে আইনমন্ত্রীর পদে যোগ দিতে পারেন, এই প্রশ্নটি উঠলো। শহীদ সোহরাওয়ার্দী ছিলেন বগুড়ার মোহাম্মদ আলীর চাইতে অনেক সিনিয়র নেতা। অবিভক্ত বাংলায় মোহাম্মদ আলী মুসলিম লীগে শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রুপের একজন জুনিয়র নেতা ছিলেন এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন। পাকিস্তান হওয়ার পর মন্ত্রিত্বের লোভে তিনি শহীদ সোহ্রাওয়ার্দীর গ্রুপ থেকে বেরিয়ে গিয়ে নাজিমুদ্দীন গ্রুপে যোগ দেন এবং বার্মায় রাষ্ট্রদূত নিযুক্ত হন। এহেন ব্যক্তির অধীনে শহীদ সোহরাওয়ার্দী কি করে একজন সাধারণ মন্ত্রী হল?
মন্ত্রী হওয়ার পর শহীদ সোহরাওয়ার্দী করাচী থেকে কলকাতা যান এবং সেখানে স্বেচ্ছা নির্বাসিত মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকায় আসেন। তখন আবার শহীদ সোহরাওয়ার্দী তার এই মন্ত্রী হওয়া নিয়ে দলের লোকদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন। আমার এখনো স্মরণ আছে, দৈনিক ইত্তেফাকের রামকৃষ্ণ মিশন রোডের পুরানো অফিস ভবনে সম্পাদক মানিক মিয়ার কক্ষে শহীদ সোহরাওয়ার্দী এসে মানিক মিয়ার ইজিচেয়ারটিতে বসেছেন। তাকে ঘিরে আতাউর রহমান খান, আবুল মনসুর আহমদ, শেখ মুজিবুর রহমান, জহিরুদ্দীন এবং আরও কয়েকজন নেতা।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী তার আইনমন্ত্রী হওয়ার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি কারো অধীনে মন্ত্রী হইনি। এটি একটি নির্বাচিত মন্ত্রিপরিষদ নয়। একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা। বড়লাটের দ্বারা নিযুক্ত এই মন্ত্রিপরিষদ। যেহেতু কেন্দ্রীয় নির্বাচন এখনো হয়নি এবং মুসলিম লীগ এখনো কেন্দ্রে এবং কয়েকটি প্রদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, সেহেতু মুসলিম লীগ নেতাকেই প্রধানমন্ত্রী পদে রাখা হয়েছে। তার ক্ষমতা খুবই সীমিত। আইনমন্ত্রী হিসেবে তার কাছে আমার জবাবদিহিতা নেই বললেই চলে। আমি মন্ত্রিত্বের লোভে মন্ত্রী হইনি। আমারতো প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা। আইনমন্ত্রী হব কেন? আমার লক্ষ্য, আইনমন্ত্রী হিসেবে দ্রুত একটি আইন অথবা অর্ডিন্যান্স পাসের ব্যবস্থা করা, যাতে দ্রুত দেশে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও গণতান্ত্রিক সরকার ফিরে আসে।”
আমি সেদিন ইত্তেফাক অফিসে মানিক ভাইয়ের কক্ষে উপস্থিত থাকার সুযোগ পেয়েছিলাম এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দীর বক্তব্যের নোট নিতেও পেরেছিলাম। মানিক ভাই তার পর দিনই এই বক্তব্য নিয়ে একটি জোরালো রাজনৈতিক মঞ্চ লিখেছিলেন। যে লেখাটি আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও কর্মীর মন থেকে অনেক বিভ্রান্তি দূর করেছিলো।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিএনপি’র নেতানেত্রীদের মধ্যে এমন কোনো প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী ব্যক্তি কি নেই, যিনি তার দল এবং নেত্রীকে একথা বোঝাতে পারেন যে, একটি অনির্বাচিত ও অদলীয় এই সাইনবোর্ড নিয়ে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চাইতে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাবিত অন্তর্বর্তীকালীন (নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে) গঠিত সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন অনেক বেশি সুষ্ঠু ও অবাধ হবে? যেহেতু সংসদে এখনো আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল, সুতরাং এই দলের নেত্রীই (এখনো যিনি ক্ষমতাসীন) প্রধানমন্ত্রী হবেন। কিন্তু তার নির্বাহী ক্ষমতা হবে অনেক সীমিত। তিনি হবেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতীক প্রধানমন্ত্রী।
এক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আরও শক্তিশালী করা এবং আরও কিছু শক্ত নির্বাচনী আইন-কানুন করার জন্য বিএনপি সংসদে গিয়ে এবং সংসদের বাইরে বসেও সরকারি দলের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় বসতে পারেন। তা না করে যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা দু’ দু’বার ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে, তার দাবিতে আন্দোলনের নামে শূন্যে গদা ঘুরিয়ে কি লাভ হবে?
কোনো সন্দেহ নেই, প্রধানমন্ত্রীর গত শুক্রবারের সংযত এবং ইতিবাচক ভাষণ এবং প্রস্তাব ২৫ অক্টোবর থেকে বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও কর্মসূচির আগুনে ঠাণ্ডা পানি ঢেলে দিয়েছে। দেশের বিবেকবান মানুষ সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ এই ভাষণকে স্বাগত জানিয়েছে। এই ভাষণ সম্পর্কে প্রধান বিরোধী দল নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন। আমার এই লেখার সময় পর্যন্ত তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেননি। আমার আশা, তারা জামায়াতের ফাঁদে পা দেবেন না। জামায়াত এই ভাষণ প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা প্রত্যাখ্যান করবে এটা আগে থেকেই জানা কথা।
বিএনপি যদি এই ভাষণকে প্রত্যাখ্যান না করে এর ইতিবাচক দিকগুলোকে ভিত্তি করে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে অন্যান্য অমীমাংসিত ইস্যুগুলো মীমাংসার জন্য এগোয়, সেটা হবে তাদের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শিতার এক বিরাট প্রমাণ। তাদের এই বিজ্ঞতা দেশে গণতন্ত্রের ভবিষ্যেক স্থিতিশীল করবে এবং চাই কি, তারা যা আশা করেন, তাদের সেই নির্বাচন সাফল্যের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যেতে পারে।
কিন্তু গোঁয়ার্তুমি করে যদি তারা জামায়াতীদের ফাঁদে পা দেন এবং দেশে নন ইস্যুতে আন্দোলনের নামে ভাঙচুর, সন্ত্রাস সৃষ্টির কাজে নামেন, তাহলে সাম্প্রতিক অতীতের মতোই তারা ব্যর্থ হবেন এবং প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিএনপির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই কষ্টকর হবে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, বিএনপি ও জামায়াতের আন্দোলনের ডাকে দেশের মানুষ এখন ভয় পায়, সমর্থন দেয় না।
প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশে দেয়া শুক্রবারের ভাষণকে অবশ্যই স্বাগত জানাই। কিন্তু স্বাগত জানাতে পারছি না তার সরকারের দুটি সিদ্ধান্তকে। একটি আজ (রবিবার) থেকে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি না দেয়া পর্যন্ত ঢাকার প্রশাসন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ঢাকায় সর্বপ্রকার জনসমাবেশ, জনসভা, মিছিল-মিটিং নিষিদ্ধ করে দেয়া। তাহলে সরকার কি বিএনপির ২৫ অক্টোবরের মহাসমাবেশের ডাকে ভয় পেয়েছেন? প্রশাসন-কর্তৃপক্ষ বলেছেন, বিরোধী দলের ওই সমাবেশের দিন সরকারি দলও সমাবেশ ডেকেছে। তাতে শান্তি ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে। ভালো কথা। ওইদিন সরকারি দলকে সমাবেশ করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়াই কি উচিত ছিল না? সরকার সেটা পারতেন।
বিরোধী দলের শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। সেই অধিকারের ব্যত্যয় ঘটিয়ে তারা যদি জনজীবনে অশান্তি ও উপদ্রব ঘটাতে চায় তাহলে প্রশাসন-কর্তৃপক্ষ অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেবেন; কিন্তু শান্তি ভঙ্গ করার আগে নয়। আমার ধারণা, ২৫ অক্টোবর নিয়ে বিএনপি যতো তর্জন-গর্জন করছে, ততোটা বর্ষণ ঘটানোর হিম্মত তাদের নেই। বরং এখন তারা দাবি করবেন, তাদের বিশাল আন্দোলন সফল হবে এই ভয়ে সরকার দমন নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। এই দমন নীতি মোকাবিলা করার নামে তারা জামায়াতের সহায়তায় ওই দিন থেকে হয়তো কিছু ভাঙচুরও করবেন, জনজীবনের শান্তি বিনষ্ট করবেন। সরকারও অগণতান্ত্রিক পথে গণতান্ত্রিক আন্দোলন দমনের দুর্নাম কুড়াবেন।
লন্ডনে বসে গুজব শুনলাম প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দৈনিক ‘প্রথম আলো’ পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে বা হবে। এটি যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে সিদ্ধান্তটি আমার কাছে খুবই অদূরদর্শিতা মনে হয়েছে। পত্রিকাটি চরিত্রে সরকার বিরোধী এবং নিয়মিত জনসাধারণের মধ্যে নিরপেক্ষতার নামে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাতে সন্দেহ নেই; কিন্তু তার প্রতিকার সরকারের পক্ষ থেকে এই বিভ্রান্তি দূর করার নিয়মিত প্রচেষ্টা। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি, তার মাথায় তথ্য উপদেষ্টা— এরা সব কি করেন? কোথাও তাদের যোগ্যতার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায় না। প্রথম আলোর ব্যাপারে সরকার যা সিদ্ধান্ত নিলেন, তা মাথা ব্যথায় মাথা কেটে ফেলার মতো।
আমি যতোদূর জানি, পত্রিকাটির নিরপেক্ষতার মুখোশ তার পাঠকদের কাছে এখন ক্রমশই উন্মোচিত। অনেক জনপ্রিয় কলামিস্ট পত্রিকাটিতে লেখা বন্ধ করে দিয়েছেন। পত্রিকাটির কাটতিও ধীরে হলেও নিম্নমুখী। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পত্রিকাটি নিষিদ্ধ করা তার জন্য শাপে বর হবে, নিষিদ্ধ ফলের দিকেই মানুষের আকর্ষণ বাড়ে, এই পত্রিকাটিরও চাহিদা বাড়বে।
লন্ডন ১৯ অক্টোবর, শনিবার, ২০১৩